ইয়াবায় সয়লাব উখিয়া

আগের সংবাদ

নোয়াখালীর অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু, বাড়িতে আহাজারি

পরের সংবাদ

বইমেলায় মানুষ আর মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৯ , ১:০৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৯, ১:০৬ অপরাহ্ণ

Avatar

শাহবাগ মোড় থেকে টিএসসি আর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তায় বাঁধভাঙা জনস্রোত। সেই জনস্রোত আছড়ে পড়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কেবল মানুষ আর মানুষ। একদিকে শহীদদের স্মরণে এবং শ্রদ্ধায় সারিবদ্ধভাবে খালি পায়ে হেঁটে হেঁটে শহীদদের বেদীতে ফুলেল শ্রদ্ধা। অন্যদিকে শিমুল রাঙা বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ভেসে আসছিল কোকিলের কুহুতান। ফাগুনের আগুন রাঙা বিকেলে এবং কোকিলের কুহুতানে গ্রন্থমেলায়ও নেমে এসেছিল প্রাণের জোয়ার। বইয়ের প্রেমে আবেগি বাঙালি একুশকে খুঁজে নিয়েছে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, আর সায়েন্স ফিকশনে। এমন দৃশ্যপটই লক্ষ্য করা গেছে গতকাল গ্রন্থমেলার ২১তম দিনে। সকাল ৮টায় মেলার প্রবেশদ্বার খোলার পর থেকেই লোকসমাগম বাড়তে থাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সকালের সূর্যটার তেজ যতই বাড়তে থাকে মেলায় লোকসমাগমও বাড়তে থাকে। আর বিকেলে সেই ভিড় রূপ নেয় জনসমুদ্রে। এদিন প্রতিটি স্টলের বিক্রয়কর্মীরা বিকিকিনিতে দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছিলেন না। প্রকাশকরা বিক্রি নিয়ে ছিলেন সন্তুষ্ট।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে দর্শনার্থীর পোশাকেও ছিল একুশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার চিহ্ন। সাদা কালোয় সেখানে ফুটে ওঠে একুশের আবহ। আমার গর্বের বর্ণমালা দেখা গেছে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের পোশাকে। সাদা আর কালো রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবি-ফতুয়ায় যেমন ফুটে উঠে ভাষা শহীদদের হারানোর ব্যথা, ঠিক তেমনিভাবে বিভিন্ন রঙের বড় বড় অ আ ক খ বর্ণগুলো জানান দিচ্ছিল আমাদের মাতৃভাষার গৌরবময় ইতিহাসের কথা। অনেকে আবার লাল শাড়িও
পরেছিলেন। তরুণীদের মাথায় ছিল ফুলের টায়রা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। আর সন্ধ্যার দিকে পা ফেলার জায়গা ছিল না মেলার দুই প্রাঙ্গণে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর অলিগলি থেকে বের হয়ে আসে নানা বয়সী মানুষ। তারা সোজা চলে যান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখান শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে হাজারো জনতার ঢল ছুটে আসে বইমেলার দিকে। নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবার পরনেই ছিল শোকের পোশাক। কেউ কেউ রংতুলির আঁচড়ে হাতে, গালে এঁকেছেন বাংলা বর্ণমালার নানা অক্ষর। কেউ বা গালে অঙ্কন করেছেন শুধুই ২১। আবার কারো গায়ের ফতুয়া বা টি-শার্টের বুকে ছিল ভাষা শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরের প্রতিকৃতি। বাদ যায়নি ছোট ছোট শিশুরাও। তাদের গালে-কপালে আঁকা ছিল জাতীয় পতাকা ও শহীদ মিনারের প্রতীক।
মেলায় আসার পাশাপাশি পাঠকরা মনের আনন্দে বই কিনেছেন। হাতে হাতে ছিল নতুন বই। শুধু শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনাতেই নয়, ছোট ও মাঝারি প্রকাশনাগুলোতেও ছিল মানুষের ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়েও অনেকে এই ছুটির দিনটিতে মেলায় এসেছেন বইয়ের টানে। বিকেলে টিএসসি ও দোয়েল চত্বর থেকে মেলার প্রবেশদ্বার পর্যন্ত ছিল দীর্ঘ লাইন। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীকে।
বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ২১ ফেব্রুয়ারির দিনই সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় গ্রন্থমেলায়। প্রকাশকরা সবচেয়ে বেশি বই বিক্রি করেন এই দিনে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সকাল থেকেই বইপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। শহীদ মিনারে সকালে ফুল দিয়ে অনেকে সোজা চলে আসেন মেলায়। এ সময় স্টলে স্টলে বইপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনা বাড়তে থাকে বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা।
গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। এতে দেড় শতাধিক নবীন-প্রবীণ কবি কবিতা পাঠে অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন কবি অসীম সাহা। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অমর একুশে বক্তৃতা। বাংলা ভাষার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শীর্ষক একুশে বক্তৃতা প্রদান করেন ভাষাসংগ্রামী জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানের শুরুতে পুরনো ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন খালেদ হোসাইন, শাহাদুজ্জামান, ফারুক ওয়াসিফ, রাহেল রাজিব এবং তপন পালিত। কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, হাসান হাফিজ, কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়, জাফর আহমদ রাশেদ, আলফ্রেড খোকন এবং সোহেল হাসান গালিব। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ইকবাল বাহার চৌধুরী, আহ্কাম উল্লাহ এবং তামান্না সারোয়ার। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল ফকির সিরাজের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী’র পরিবেশনা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফকির আলমগীর, প্রমীলা চক্রবর্তী, মহাদেব ঘোষ, লাইসা আহমদ লিসা, বুলবুল ইসলাম, জান্নাত-ই-ফেরদৌসী এবং নীলোৎপল সাধ্য।