সরকারের অব্যবস্থাপনায় চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: মির্জা ফখরুল

আগের সংবাদ

টেকনাফ থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা

পরের সংবাদ

একুশের মেলায় নেই ভাষার নতুন বই

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯ , ১২:৪০ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯ , ১২:৪০ অপরাহ্ণ

বায়ান্নর ভাষা শহীদদের অমর কীর্তিকে স্মরণ করে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিজুড়ে আয়োজিত একুশে গ্রন্থমেলায় নেই ভাষাতাত্তি্বক গবেষণাধর্মী নতুন কোনো বই। ভাষা শহীদের নিয়েও নেই উল্লেখযোগ্য কোনো প্রকাশনা। ভাষার ওপর লেখা দুয়েকটি বই চোখে পড়লেও সেগুলো পুরনো। তবে বাংলা একাডেমির বানান অভিধান কিংবা বানানরীতি নিয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি বই। সেগুলো আবার পুনর্মুদ্রিত কিংবা আগের প্রকাশনা। ভাষার মাসে ভাষার বই প্রকাশ না করার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রকাশকরা বলছেন, বাংলা ভাষা নিয়ে লেখা বইয়ের ক্রেতা কম। সে কারণে ভাষার বই প্রকাশে আগ্রহ নেই তাদের। তা ছাড়া ব্যবহারিক জীবনে ভাষাতত্তে্বর তেমন প্রয়োজন পড়ে না বলে এসব বই প্রকাশের উদ্যোগ নেন না তারা।
গতকাল বুধবার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে অন্বেষা প্রকাশনীর স্টলে ড. শেখ মেহেদী হাসানের ‘ভাষা আন্দোলনের পূর্বাপর’ ও প্রথমা প্রকাশনীর স্টলে ‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’ বই দুটো চোখে পড়ল। এর মধ্যে অন্বেষার বইটি প্রকাশিত হয়েছে গত ২০১৬ সালে। শুধু প্রথমার বইটিই নতুন। তবে খটকা বানান অভিধান আর প্রথমার মোহাম্মদ আজমের ‘বাংলা ও প্রমিত বাংলা সমাচার’
নতুন এসেছে। কয়েকজন ক্রেতা ও পাঠক জানালেন, একাডেমিক শিক্ষায় অভিধান কিংবা বানান শেখার বইয়ের কিছুটা প্রয়োজন থাকে, ভাষাতাত্তি¡ক বইয়ের তেমন প্রয়োজন পড়ে না। সে কারণেই এ ধরনের বই কেনাও হয় না।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী জান্নাতি জানান, পাঠ্যবইয়ের বাইরে জনপ্রিয় লেখকদের গল্প-উপন্যাসই কিনতে আসি মেলায়। বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল বললেন, ভাষা আন্দোলন কিংবা ভাষা শহীদদের নিয়ে পড়া ও জানার আগ্রহ আছে। তবে তেমন ভালো বই এখনও চোখে পড়েনি। মিজান নামে এক পাঠকের মন্তব্য, ভাষার বই বলতে তো আমরা ব্যাকরণকেই বুঝি। এর বাইরে আর অন্য কোনো বই পড়িনি। ঢাবির শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের শিক্ষার্থী রাতুল রাহা কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভাষার জন্য আমরা জীবন দিয়েছি অথচ ভাষার ওপরেই কোনো বই নেই। এমনকি কদরও নেই। এটা খুবই দুঃখজনক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকাশক বলেন, ভাষার বই পড়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তাহলেই পাঠকরা কিনবেন, লেখকরাও লিখবেন আর প্রকাশকরা তা প্রকাশ করবেন। এদিকে ভালো পাণ্ডুলিপির সংকটের কথা জানালেন পাঞ্জেরী প্রকাশনীর অন্যতম কর্ণধার কামরুল হাসান শায়ক। তিনি বলেন, ভালো লেখকের কাছ থেকে ভালোমানের পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায় না। তাই ভাষা আন্দোলন কিংবা ভাষা শহীদদের নিয়ে কোনো বইও প্রকাশ করা হয়নি।
মূলমঞ্চের আয়োজন : বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘সওগাত পত্রিকার শতবর্ষ : ফিরে দেখা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ইসরাইল খান। আলোচনায় অংশ নেন ড. হাবিব আর রহমান এবং ড. আমিনুর রহমান সুলতান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সামাদ। প্রাবন্ধিক বলেন, সওগাত-যুগের অবসান ঘটেছে বটে, কিন্তু এখনো তার প্রভাব অনুভব করা যায়। সওগাত বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসের গতি পরিবর্তন করে দিয়েছে। ভুললে চলবে না আজ বইমেলার লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে তরুণ সাহিত্যিক যে মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে; তারা তো সওগাত-কল্লোল-কালিকলম-প্রগতি-বুলবুল-চতুরঙ্গ-ছায়াবীথি-গুলিস্তারই প্রতিনিধি। সভাপতির বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, সওগাত পত্রিকার সামাজিক সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা ঐতিহাসিক। সওগাত পত্রিকার শতবর্ষ তাই আমাদের সাংস্কৃতিক পরিসরে বিশেষ তাৎপর্যের দাবি রাখে। বাংলা একাডেমি এ উপলক্ষটিকে স্মরণ করে যেমন জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছে, তেমনি আমরা মনে করি আরো বৃহৎ পরিসরে সওগাত পত্রিকার বিষয়ে গভীর গবেষণা প্রয়োজন।
লেখক বলছি : অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থের বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন কবি মাসুদুজ্জামান, কবি মুজতবা আহমেদ মোরশেদ, কথাসাহিত্যিক প্রশান্ত মৃধা, প্রাবন্ধিক শীলা মোস্তফা এবং কবি প্রত্যয় জসিম। কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি আসাদ চৌধুরী, নাসির আহমেদ, মারুফুল ইসলাম এবং ওবায়েদ আকাশ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ডালিয়া আহমেদ এবং অলোক বসু।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়