শেখ হাসিনাকে জর্জিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

আগের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিলেন সংসদ উপনেতা

পরের সংবাদ

বাগেরহাটে ২১৭ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯ , ৫:৩৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ

বাগেরহাটের সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে উঠা ২১৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। একই সাথে সড়কের দুই পাশের সাড়ে ১১ একর এলাকা দখলমুক্ত করা হয়। বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সোমবার দিনভর ওই উচ্ছেদ অভিযান চালায়।

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কাঠালতলা থেকে শুরু করে মোরেলগঞ্জ উপজেলার ছোলমবাড়িয়া পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা এসব পাকা, আধাপাকা স্থাপনা এবং দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই সড়কের দুই পাশে রাখা বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী এবং গাছের ডুম অপসারণ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সিফাত মেহনাজের নেতৃত্বে ওই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এদিকে সড়ক বিভাগের নোটিশ,গণবিজ্ঞপ্তি এবং মাইকিং করার কারণে মোরেলগঞ্জ এবং শরণখোলা উপজেলার সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশের বিভিন্ন এলাকায় নিজেরাই তাদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসি সড়ক বিভাগের ওই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। নতুন করে কেউ যাতে আর অবৈধ ভাবে রাস্তার পাশে স্থাপনা গড়ে তুলতে না পারে সে জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে কড়ানজরদারি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এলাকাবাসি।

সড়ক বিভাগের খুলনা অঞ্চলের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সিফাত মেহনাজ জানান, আগে থেকে ঘোষণা দিয়েই প্রায় ৪০ কিলোমিটার আঞ্চলকি মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দখলমুক্ত করা হয়। অভিযানের মধ্যে দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে এবং পথচারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন। একই সাথে ভূমিদস্যুদের কবল থেকে সড়ক বিভাগের জায়গা উদ্ধার করা হচ্ছে। উচ্ছেদ করা জায়গায় নতুন করে কেউ দখল করতে না পারে সেই জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তিনি জানান। খুলনা বিভাগের বিভিন্ন সড়কে অভিযান চালিয়ে সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান।

বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ জানান, ওই মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ, গণবিজ্ঞপ্তি এবং এলাকায় মাইকিং করা হয়। অভিযান চালিয়ে সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠা ২১৭টি অবৈধ স্থাপনা এবং সাড়ে ১১ একর এলাকা দখলমুক্ত করা হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে বিভিন্ন সময় অভিযান চলবে বলে তিনি জানান।

মোড়েলগঞ্জের কালিকাবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী এম এ গফ্ফার জানান, ওই বাজারে সড়কে পাশে তার ১২টি বিভিন্ন ধরণের দোকানপাট ছিল। সড়ক বিভাগের নোটিশ পাওয়ার পর নিজ খরচে ওই সব দোকানপাট সরিয়ে নিয়েছে।

কালিকাবাড়ি বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী আছিয়া বেগম জানান, রাস্তার পাশে ঘর তুলে কয়েক বছর ধরে ভাতের হোটেল ব্যবসা করে আসছিল। সড়ক বিভাগের নোটিশ পেয়ে নিজে ওই হোটেলঘর ভেঙে নিয়ে গেছে।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মো. আমির হোসেন জানান, সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা এবং রাস্তার পাশে নির্মাণ সামগ্রী রাখার কারণে অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কের পাশ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সরকারের ভাল উদ্যোগ। উচ্ছেদের পরে কেউ যাতে নতুন করে সড়কে জায়গা দখল করতে না পারে সেই দিকে সরকারকে লক্ষ্য রাখতে হবে। একই সাথে যে সব দোকানপাট এবং ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদের ক্ষতিপুরণের দাবি জানান তিনি।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা