বকেয়া ৬ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল: নসরুল হামিদ

আগের সংবাদ

মমতাজ বেগম

পরের সংবাদ

সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত শেষ কবে?

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯ , ৮:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ

সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতির চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পূর্ণ হলো গতকাল। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) দুই মাসের তদন্তে কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারায় র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিলেন আদালত। ৬ বছর ১০ মাসে কোনো সফলতা দৃশ্যমান করতে পারেনি র‌্যাবও।

এই সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আদালতের কাছে ৬৩ বার সময় প্রার্থনা করেন র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার দিন ধার্য আছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দীর্ঘ সময়ে তদন্তে অগ্রগতি না থাকায় দুটি পরিবারে বিচার পাওয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

মর্মান্তিক এ ত্যাকাণ্ডের পর খুনি ধরতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আল্টিমেটাম, বিচার দাবিতে সাংবাদিক সমাজের আন্দোলনে কোনো ফল হয়নি। দীর্ঘ সময়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই ত্যাকাণ্ডের রহস্যময়তা দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বিরাট ব্যর্থতার নজির বলা যায়।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ। ওই সময় বাসায় ছিল তাদের একমাত্র সন্তান পাঁচ বছর বয়সী মাহির সরওয়ার মেঘ।

ঘটনাস্থলে গিয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার’ মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা হবে। দুই দিন পরে তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছিলেন, ‘প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে। সেই ৪৮ ঘণ্টার অগ্রগতি সাত বছরেও জানা যায়নি।

দেশের বিভিন্ন সংস্থা হয়ে মামলার তদন্ত ঘুরেছে সুদূর মার্কিন মুল্লুক পর্যন্ত। কবর থেকে লাশ তোলা শুধু নয়, তদন্তের সব ক’টি শাখা-প্রশাখায় বিচরণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু ফল শূন্য। হয়নি দৃশ্যমান তদন্তের অগ্রগতি। হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা গেছে কিনা বা কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হতে পারে, এত বছর পরও এসব প্রশ্নের উত্তর মিলছে না কারো কাছে।

এই হত্যার ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় গ্রেপ্তার করা আটজনের মধ্যে পাঁচজন বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণচন্দ্র রায় ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ওই পাঁচজন হলো রফিকুল, বকুল, সাইদ, মিন্টু ও কামরুল হাসান ওরফে অরুন।

এ ছাড়া গ্রেপ্তার দেখানো হয় পারিবারিক বন্ধু তানভীর এবং বাসার নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পাল ও হুমায়ুন কবীরকে। এদের মধ্যে তানভীর, মিন্টু ও পলাশ হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছে। বাকিরা কারাগারে আছে। সাগর-রুনি হত্যারহস্য অমীমাংসিত রাখার কোনো সুযোগ নেই; এই ত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই করতে হবে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা