খুলনায় পিকনিক বাস উল্টে নিহত স্কুলশিক্ষার্থী, আহত ৩০

আগের সংবাদ

আজ বইমেলায় আসছে আফজাল হোসেনের বই

পরের সংবাদ

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শ্রীনগরে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯ , ১:১৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯, ১:১৩ অপরাহ্ণ

সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্তেও শ্রীনগরে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য সরকার আইন করে নির্দেশ দেয়ার পরেও শ্রীনগরের কোচিং সেন্টার গুলো এখনো বহালতবিয়তে থেকে বাণিজ্য করে যাচ্ছে। এর মধ্যে উপজেলার সরকারি স্কুল কলেজ ও এমপিও ভুক্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বাসা ভাড়া নিয়ে নামে বেনামে চালাচ্ছেন এই কোচিং বাণিজ্য। আর সেখানেই সকাল, দুপুর ও বিকালে চলছে শিক্ষকদের প্রাইভেট পাঠদান।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে উপজেলা সদরেই রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক কোচিং সেন্টার। এর মধ্যে সাবেক এমপির বাড়ী সংলগ্ন, দূর্গি মন্দির, মান্নান ম্যানশন, গালর্স স্কুলের পিছনে, শ্রীনগর রথখোলা, ষোলঘর টমা মেডিকেলের পাশে, মন্ডল পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকরা গড়ে তুলেছে তাদের বাণিজ্য কেন্দ্র।
এছাড়াও শ্রীনগর পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের রিয়াজ স্যার, মতিউর রহমান, শ্রীনগর সরকারি এ হাই খান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আহসান হাবিব, শাখাওয়াত হোসেন, নিজামউদ্দিন, সুবাষ মল্লিক, সানাউল হক, ডলি রানী দে, বেসরকারি কোচিং সেন্টার গুলোর মধ্যে রয়েছে অগ্রপথিক কোচিং সেন্টার, ইউএস কোচিং সেন্টার, শ্রাবণ স্যাার কোচিং সেন্টার, এফএলআই কোচিং সেন্টার, ষ্ট্যাডি কোচিং সেন্টার, চিরঞ্জীত কোচিং সেন্টার, সুব্রত কোচিং সেন্টার এছাড়াও রয়েছে কামারগাঁও কাজী ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম, সহকারী শিক্ষক শামীম আহমেদ, শরীফ মাহমুদ, ষোলঘর একেএসকে উচ্চ বিদ্যায়ের আতাউর রহমান, আব্দুল রশিদ শেখ, আনিছুর রহমান, বাঘড়া সরূপচন্দ্র পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ কামাল হোসেন, বাড়ৈখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকরা কোচিং পড়াচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে উপজেলার প্রায় সব বিদ্যালয়ের কোন না কোন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যের সাথে জরিত রয়েছেন।
লক্ষ করা গেছে ছোট্র একটি রুমে ঘিঞ্চি পরিসরে ১ ঘন্টার কোচিংয়ে ২০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে একত্রে পড়ানো হচ্ছে। এতে দায়সারা গোছের পাঠদান হলেও মূলত শিক্ষার কোন পরিবেশ নেই। এসময় শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানাযায়, ১ ঘন্টা করে মাসে ১২ দিন তাদের পড়ানো হয়। তাদের কোচিং ফি বাবদ মাসে ৫’শত থেকে ১৫’শত টাকা করে দিতে হচ্ছে। কোচিংয়ের বিষয়ে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, কি করবো কোচিংয়ে না পরলে পরীক্ষায় পাশ করবো কি ভাবে। ক্লাসেতো আর সব কিছু শিখানো হয়না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, ক্লাসে তো আর সব পড়ানো হয়না। বাধ্য হয়েই ছেলে মেয়েদের কোচিংয়ে পড়তে দিতে হচ্ছে। এমনও শিক্ষক রয়েছে তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীকায় ভাল নাম্বার পাওয়া যায়না।
কোচিং পড়ানোর বিষয়ে একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তারা কোচিং পড়ানোর বিষয়ে স্বীকার করতে রাজি হননি। তবে অনেকেই বলেন, আমাদের অজান্তে কিছু কিছুু শিক্ষক তাদের বাসা বাড়ীতে গোপনে প্রাইভেট পড়িয়ে থাকেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মিরাজুল ইসলাম জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে কোচিংয়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।