দশ হাজার দক্ষ কর্মী তৈরি করবে বিএসিআই

আগের সংবাদ

আমদানি-রপ্তানি পণ্য শতভাগ স্ক্যানিং হবে

পরের সংবাদ

এখন হচ্ছে মেগাসিটির বইমেলা : মামুনুর রশীদ

কাগজ প্রতিবেদক :

প্রকাশিত হয়েছে: February 11, 2019 , 12:29 pm

বইমেলায় গিয়েছিলাম। অনেক ভালো লেগেছে। আনম্যানেজেবল হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। চারদিকে মানুষ আর মানুষ। ক্রমেই এর সংখ্যা বাড়ছে। একটা সমৃদ্ধ মধ্যবিত্ত গড়ে উঠেছে, যাদের বইমেলা বা যে কোনো আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এবার মেলায় গিয়ে দেখলাম বই প্রকাশ হচ্ছে প্রচুর। তার মধ্যে কতগুলো ভালো বই নাকি আবর্জনা এটা প্রশ্ন সাপেক্ষ। লেখদের মধ্যে বই প্রকাশের ব্যাকুলতা বা উন্মাদনা দেখে অবাক হচ্ছি। বইমেলা আমাকে যৌবনে খুবই টানত। তখন ছিল একটা বড় গ্রামের বইমেলা। আর এখন হচ্ছে মেগাসিটির বইমেলা।
বইমেলা প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অভিনেতা, নাট্যকার, নাট্য নির্দেশক মামুনুর রশীদ এভাবেই ভোরের কাগজের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন। তিনি বলেন, তখন মেলায় সারা দিন থাকতাম। সকালে এসে মেলা ওপেন করতাম, রাত্রিবেলা বন্ধ করে দিয়ে যেতাম! সেই সময় মানুষ কম, প্রকাশক কম, লেখক কম ছিল। এখন তো মানুষ বেড়েছে দ্বিগুণ, তিন গুণ, চার গুণ। প্রকাশকও বেড়েছে। অনেক নতুন নতুন লেখক এখন। নতুন ভাবনা তাদের। আমাদের সময়ে বইমেলার একটা আপন চরিত্র ছিল। সেটা এখন নেই।
তিনি বলেন, মেলার অনেক বদল ঘটেছে। অবশ্য মেলার এমন বদলে যাওয়ার জন্য কাউকে দোষ দিয়েও লাভ নেই। কারণ এর কলেবর অনেক বড় হয়ে গেছে। বইয়ের স্টল অনেক বেড়ে গেছে। এর বিস্তৃতি হয়েছে অনেক। আগের মতো ওই রকম অন্তরঙ্গ জায়গা পাওয়া যায় না। সব জায়গায় এত ভিড়! দাঁড়ানোরই জায়গা পাচ্ছি না। সেসব কারণে একটু কম আসা হবে। কিন্তু মেলা আমাকে টানেই। আরেকটা কারণ হচ্ছে ধুলোর কারণেই হয়তো আমার একটু কম আসা হবে। ধুলোটাকে কন্ট্রোল করা দরকার। এর কারণে আমার এলার্জি হয়। তারপরও আসতে হবে, আসব। কারণ, এই বইমেলায় আমার বন্ধুবান্ধবদেরই প্রচুর বই ছাপা হয়। এসব বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য আসতে হয়। না এসে থাকতে পারব না। আসব। এটা তো বাঙালির প্রেরণার জায়গা। এ জন্য আসি। কিন্তু বিশাল জনারণ্য, এই একটা সমস্যা।
সম্প্রসারিত মেলায় সুবিধা বেড়েছে কিনা এমন এক প্রশ্নে জবাবে এই অভিনেতা বলেন, মেলার সম্প্রসারণে সুবিধা তো হয়েছে। জায়গাটা বেড়েছে। কিন্তু অনেক দর্শক আসে। তারা সত্যিকার অর্থে মেলার জন্য আসেন কিনা আমার সন্দেহ। মেলায় ভিড় থাকবে এটাই স্বাভাবিক, ভিড়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলা থাকতেই পারে। কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আসা কিংবা ইভটিজিংয়ের মানসিকতা নিয়ে মেলায় আসা খুবই খারাপ। বিশেষ করে ছুটির দিনে। যখন ভিড় বেশি হয়, তখন ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটে। মেলার এদিকটার দিকে নজর রাখতে হবে। তবে মেলার কলেবর বেড়েছে এটা আশার কথা। ভবিষ্যতে হয়তো আরো বাড়বে।
ছেলেবেলায় বইমেলার স্মৃতিচারণ করে মামুনুর রশীদ বলেন, আমার ছেলেবেলা ছিল মেলাহীন। আমরা মেলা পেয়েছি মুক্তিযুদ্ধের পরে, অর্থাৎ ’৭৪/৭৫ সালের দিকে। তখন ওই মেলার পরিবেশ ছিল অন্তরঙ্গ। মুষ্টিমেয় কিছু স্টল, মুষ্টিমেয় কিছু লোক আমরা এখানে-ওখানে বসে বসে চা খাচ্ছি, আড্ডা দিচ্ছি। মেলায় সকালে আসতাম, মেলা শেষ করে রাতেই যেতাম। এ রকম অবস্থা ছিল। আশির দশকজুড়ে মেলাটা ছিল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্র। এখানে আমরা পথনাটক করেছি। এখানে মিটিং হতো। কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকর্মী, সংস্কৃতিকর্মীরা একত্রিত হয়ে সভা-সমাবেশও করতাম।