সচল আইফোনের সংখ্যা ৯০ কোটি

আগের সংবাদ

শেরপুরে স্বরস্বতী পুজা অনুষ্ঠিত

পরের সংবাদ

স্মার্টফোন বাজারের সবচেয়ে বাজে বছর

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯ , ৪:০১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯, ৪:০৭ অপরাহ্ণ

২০১৮ বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের জন্য সবচেয়ে বাজে বছর। ডিভাইস সরবরাহ ও বিক্রির ক্ষেত্রে গত বছর শুধু অ্যাপলই খারাপ সময় পার করেনি, বাকি ডিভাইস নির্মাতারাও তীব্র সংকটে কাটিয়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

আইডিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে গত বছর ডিভাইস বিক্রি ১৪০ কোটি ইউনিটে দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগের চেয়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ কম। অথচ ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন সরবরাহ ১৪০ কোটি ইউনিট ছাড়িয়েছিল। অর্থাৎ ডিভাইস সরবরাহ বিবেচনায় গত বছর বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজার পাঁচ বছর আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। গত বছর চতুর্থ প্রান্তিকেই বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন সরবরাহ কমেছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। সম্প্রতি অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের আর্থিক খতিয়ান প্রকাশ করেছে অ্যাপল। এতে দেখা যায়, প্রান্তিকটিতে আইফোন বিক্রি থেকে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব এক বছর আগের একই প্রান্তিকের চেয়ে ১৫ শতাংশ কমে ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। চীনের বাজারে চাহিদা কমায় আইফোন বিক্রি থেকে অ্যাপলের রাজস্ব কমেছে। স্মার্টফোনের গুরুত্বপূর্ণ বাজারটিতে টানা কয়েক প্রান্তিক সরবরাহ কমছে। অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক জানান, স্মার্টফোনের সবচেয়ে বৃহৎ বাজার চীনে সত্যিকার অর্থেই মন্দা সময় যাচ্ছে। দেশটিতে মোবাইল ডিভাইসের জন্য ব্যয়ের প্রবণতা হ্রাস এবং একই হ্যান্ডসেট দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারের কারণে নতুন আইফোনের বিক্রি কমছে। চীনের বাজারে গত বছরজুড়ে স্মার্টফোন সরবরাহ ১১ শতাংশ কমে ৪০ কোটি ৮৫ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। আইডিসির তথ্যমতে, গত বছর চতুর্থ প্রান্তিকে স্মার্টফোন বাজারের দুই মহারথী স্যামসাং ও অ্যাপলের ডিভাইস সরবরাহ কমেছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। চীনভিত্তিক হুয়াওয়ে অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে স্থানীয় বাজারে অবস্থান আরো দৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছে। গত প্রান্তিকে ডিভাইস সরবরাহে ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মুখ দেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
চীনা ব্র্যান্ড অপো ও শাওমিও গত প্রান্তিকে ডিভাইস সরবরাহে প্রবৃদ্ধির মুখ দেখেছে। আইডিসির প্রোগ্রাম ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান রেইথ জানান, বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে জগাখিচুড়ি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ একই ডিভাইস দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করছে। হ্যান্ডসেটের ‘রিপ্লেসমেন্ট সাইকেল’ দীর্ঘায়িত হয়েছে। গ্রাহকদের এক কিংবা দেড় বছরের মধ্যে ডিভাইস পরিবর্তনের যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে। ডিজাইন পরিবর্তন করে নির্মাতারা একই প্রযুক্তি বিভিন্নভাবে সরবরাহ করছে। যে কারণে ক্রেতারা ডিভাইস হালনাগাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
তিনি বলেন, স্মার্টফোন বাজারের সংকোচনের জন্য নতুন হ্যান্ডসেটের চড়া মূল্যও অনেকটা দায়ী। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে সরবরাহ কমছে। স্মার্টফোন বাজারে গত বছর ডিভাইস বিক্রি ১৪০ কোটি ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এর ৩০ শতাংশই বিক্রি হয়েছে চীনের বাজারে। ২০১৭ সালের চেয়ে গত বছর চীনের বাজার খারাপ সময় পার করেছে। ডটনেট ডেস্ক