দাউদকান্দিতে যুবককে মধ্যযোগীয় কায়দায় শেকলে বেধে নির্যাতন : আটক-৩

আগের সংবাদ

স্মার্টফোন বাজারের সবচেয়ে বাজে বছর

পরের সংবাদ

সচল আইফোনের সংখ্যা ৯০ কোটি

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯ , ৩:৫৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ

বৈশ্বিক বাজারে একমাত্র স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ‘আইফোন’ দিয়ে জমজমাট ব্যবসা করছে অ্যাপল। আইফোনের কল্যাণে ব্যক্তি খাতের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের কোম্পানি হওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেছে অ্যাপল। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সচল আইফোনের সংখ্যা কত? ২০১৮ সাল শেষে বিশ্বব্যাপী সচল আইফোনের সংখ্যা ৯০ কোটি ইউনিটে পৌঁছেছে। এর মধ্যে গত বছর সাড়ে সাত কোটি আইফোন ডিভাইস সচল হয়েছে। স¤প্রতি অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের আর্থিক খতিয়ানের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সচল আইফোনের সংখ্যা প্রকাশ করেছে অ্যাপল। খবর বিজনেস ইনসাইডার।

বিশ্বের বৃহৎ দুই অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে আইফোন বিক্রি উল্লেখযোগ্য কমেছে। যে কারণে আইফোন বিক্রি থেকে অ্যাপলের রাজস্ব প্রত্যাশার চেয়ে কমেছে।
গত প্রান্তিকের আর্থিক খতিয়ান প্রকাশের পর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে ছাড়ার পর কোনো একটি পণ্য কত ইউনিট বিক্রি হয়, তার খতিয়ান প্রকাশের নীতি অ্যাপলে নেই। এবারই প্রথম বৈশ্বিক বাজারে সচল কিংবা ব্যবহার হচ্ছে এমন আইফোন ডিভাইসের সংখ্যা জানানো হলো। ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
টিম কুক জানান, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে আইফোন বিক্রি থেকে অ্যাপলের রাজস্ব ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগের একই প্রান্তিকের চেয়ে ১৫ শতাংশ কম। চীনের বাজারে চাহিদা কমায় আইফোন বিক্রি থেকে অ্যাপলের রাজস্ব কমেছে। স্মার্টফোনের গুরুত্বপূর্ণ বাজারটিতে টানা কয়েক প্রান্তিক ধরে সরবরাহ কমছে। সত্যিকার অর্থে স্মার্টফোনের সবচেয়ে বৃহৎ বাজারটিতে মন্দা সময় যাচ্ছে। মোবাইল ডিভাইসের জন্য ব্যয়ের প্রবণতা হ্রাস এবং একই হ্যান্ডসেট দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারের কারণে নতুন আইফোনের বিক্রি কমছে। গত বছরজুড়ে চীনে স্মার্টফোন ডিভাইস সরবরাহ ১১ শতাংশ কমে ৪০ কোটি ৮৫ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, গত বছর সেপ্টেম্বরে বাজারে আসা আইফোনের নতুন তিন সংস্করণের মধ্যে আইফোন এক্সএস চড়া দামের কারণে চীনে খুব বেশি ইউনিট বিক্রি হয়নি। ডিভাইসটির ভিত্তিমূল্য ৯৯৯ ডলার। আইফোনের শ্লথগতির বিক্রি প্রবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে অ্যাপলের সামগ্রিক রাজস্ব আয়ের ওপর। বিশ্বের উদীয়মান বাজারগুলোতেও আইফোনের বিক্রি কমেছে।
ডিভাইস ব্যবসা নিয়ে ভালো সময় যাচ্ছে না অ্যাপলের। ইতিবাচক হলো জনপ্রিয় আইফোনের বিক্রি কমলেও অ্যাপলের সেবা বিভাগের ব্যবসা স¤প্রসারিত হচ্ছে। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে এক বছর আগের একই সময়ের চেয়ে অ্যাপলের সেবা ব্যবসা বিভাগের রাজস্ব বেড়েছে ১৯ শতাংশ। এর সেবা বিভাগের আওতায় রয়েছে অ্যাপল মিউজিক, অ্যাপল প্লে এবং আইক্লাউডের মতো সেবাগুলো। বিশ্বব্যাপী এসব সেবার গ্রাহক বাড়ছে ক্রমান্বয়ে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টার পয়েন্ট রিসার্চের তথ্যমতে, চীন ছাড়াও স্মার্টফোনের অন্যতম বাজার ভারতে আইফোন সরবরাহ উল্লেখযোগ্য কমেছে।
২০১৭ সালে ক্রমবর্ধমান বাজারটিতে আইফোন সরবরাহ ৩২ লাখ ইউনিটে পৌঁছেছিল। গত বছর তা কমে ১৬ থেকে ১৭ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে।
বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীনের বাজারে আইফোনের ব্যবসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে অ্যাপল। এ পরিস্থিতিতে ভারতের বাজারকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশটিতে কম দামে আইফোন সরবরাহের লক্ষ্যে এরই মধ্যে সাশ্রয়ী সংস্করণগুলো স্থানীয়ভাবে সংযোজনের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ২০১৭ সালে ভারতে আইফোনের সাশ্রয়ী সংস্করণ ‘আইফোন এসই’ সংযোজন শুরু করে অ্যাপল। এরপর আইফোন ৬এসের বেশকিছু ইউনিট দেশটি থেকে সংযোজন করা হয়। এবার শুধু সাশ্রয়ী সংস্করণই নয়, দেশটিতে আইফোনের সবগুলো টপ অ্যান্ড সংস্করণের সংযোজন শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাপল। চলতি বছরই চুক্তিভিত্তিক পণ্য নির্মাতা ফক্সকনের ভারতীয় কারখানায় এসব সংস্করণের সংযোজন শুরু হতে পারে। ডটনেট ডেস্ক