সহকারী কোচ পন্টিং

আগের সংবাদ

দ্বিতীয় ধাপে ১২২ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল আওয়ামী লীগ

পরের সংবাদ

শৈলকূপায় পরিত্যক্ত ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯ , ২:৫১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯, ২:৫১ অপরাহ্ণ

Avatar

পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস করছে ঝিনাইদহের শৈলক‚পা উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের রতনপুর চর বাঘিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, (ইনসেটে) প্লাস্টার খসে বের হয়ে আছে রড -ভোরের কাগজ

প্রতিমুহূর্তে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস করছে ঝিনাইদহের শৈলক‚পা উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের রতনপুর চর বাঘিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। ভবনটি দুই বছর পূর্বে পরিত্যক্ত ঘোষণা হলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না জনপ্রতিনিধি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ফলে এলাকার লোকজন ও স্কুলের শিক্ষকরা প্রত্যেকটি মুহূর্ত কাটায় অত্যন্ত উৎকণ্ঠা ও উদ্বিগ্নের সঙ্গে। স্কুল চলাকালীন সারাক্ষণ দুচিন্তায় থাকে, কখন যেন কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয় স্কুলের কমলমতি শিশুরা। অভিভাবকরা তার সন্তান বাড়িতে ফিরে না আসা পর্যন্ত চরম উৎকণ্ঠায় মুহূর্ত গুণতে থাকে। স্কুল থেকে এই হয়তো কোনো দুঃসংবাদ আসে।
জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে সাড়ে ৬২ শতাংশ জমির ওপর একটি টিন শেডের আধাপাকা ভবনে স্কুলটির কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরবর্তী সময় ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে এলজিইডি চার কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করে দেয়। যার ঠিকাদার ছিল একই ইউনিয়নের মিনগ্রামের আকমল হোসেন। অতি মুনাফার আশায় তিনি ভবন নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ভবনটি মাত্র এই কয় বছরেই জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। ছাদ থেকে ঢালাইয়ের বড় বড় অংশ হঠাৎ হঠাৎ খুলে পড়ছে। ঢালাই খসে পড়লেও রডের দেখা মিলছে না তেমন। সিলিংয়ের কিছু কিছু অংশ ফুলে উঠেছে। বিমগুলো বেঁকে আছে। ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। ভেতরের দেয়ালগুলোর প্লাস্টার উঠে গেছে। শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলে ভয়ে গা শিউরে ওঠে। তবুও এই বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতেও চলছে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম।
গত দুই বছর আগেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়, তারপরও চলছে এর ভবনের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম। কারণ এই ভবনটিই এই বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবন। বিকল্প ভবন না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েও চালাতে হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ইসরাইল হোসেন জানান, বিকল্প জায়গায় ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে। যদিও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার অদ্যাবধি একদিনের জন্যও এই বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেননি। ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করা হলে সহকারী জেলা প্রাথমিক অফিসার লক্ষণ কুমার দাস জানান, শৈলক‚পা উপজেলা থেকে আমাদের জানানো হয়নি। তবে আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা