শ্যামনগরে বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণ করল ইউএনওর গাড়ির চালক

আগের সংবাদ

বরিশালে বিষপানে দুইজনের মৃত্যু

পরের সংবাদ

শেষতক কোথায় গড়াবে মমতা-মোদি সংঘাত

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯ , ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ

Avatar

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংঘাতে ঘটনাপ্রবাহ শেষ পর্যন্ত কোথায় গড়ায়, সেদিকে নিবিড় নজর রাখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। পারস্পরিক ক্ষোভ-বিক্ষোভ থেকে প্রসূত বিভিন্ন কর্মসূচি ও পদক্ষেপে মাঝখান থেকে দুর্ভেদ্য হেঁয়ালির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ। গত শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ সফর করেন মোদি। তার জনসভা ছিল জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে। ওই সভাস্থল থেকেই কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন করেন তিনি। মোদির এ উদ্বোধন ঘিরে এখন শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। খবর আনন্দবাজার।
জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন হওয়ার বিষয়টি আগেই জানা ছিল। গত বৃহস্পতিবারই সংবাদ সম্মেলন ডেকে কেন্দ্রের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হন রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। শুক্রবার তাতে ঘি ঢেলে উত্তাপ আরো বাড়িয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের। রাজ্য সরকারকে অন্ধকারে রেখে একতরফা এ উদ্বোধন কর্মসূচি ঘোষিত এবং পালিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বলেন, মোদি সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে পরিষ্কার, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কোনো পরোয়াই করছে না তারা। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো রক্ষার এ তাগিদ রাজনীতিকদের কথাবার্তা থেকে যত বেশি অনুভ‚ত হচ্ছে, তত বেশি সংশয় তৈরি হচ্ছে কাঠামোটার ভবিষ্যৎ নিয়ে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়া যায় না। জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন হলো, এটি সুখবর। কিন্তু বেঞ্চ উদ্বোধনের দিন রাজ্য সরকারকে উপেক্ষা করা ঘোরতর অনৈতিক। প্রায় আড়াই দশকের প্রচেষ্টার ফল এই সার্কিট বেঞ্চ। বামফ্রন্ট জমানায় এর সূত্রপাত, পরে তৃণমূল সরকারের হাত ধরে দাবি পূরণ। অথচ প্রধানমন্ত্রী অন্য সবাইকে উপেক্ষা করে একাই ওই সার্কিট বেঞ্চ উদ্বোধন করে দিলেন। মমতার ক্ষোভ সঙ্গত কারণেই যৌক্তিক। কিন্তু অনুরূপ ক্ষোভ রাজ্যের বিরুদ্ধেও তো রয়েছে কেন্দ্রের। প্রধানমন্ত্রীর গ্রাম-সড়ক যোজনার আওতায় নির্মিত প্রকল্পের নাম ও বিবরণ সংবলিত বোর্ডে ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা’ মুছে ‘বাংলা সড়ক যোজনা’ লেখা হচ্ছে। এসব ছবি ও ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়েছে। কেন্দ্রের কর্তারা এ বোর্ড বিকৃতির দিকে আঙুল তুলে বলছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারই যুক্তরাষ্ট্রীয় সৌজন্য লঙ্ঘন করছে। এ ছাড়া আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়েও টানাপোড়েন চলছে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে। সংঘাত বাড়তে বাড়তে সিবিআইর সঙ্গে প্রায় সম্মুখ সমরে নেমে পড়েছে কলকাতা পুলিশ। এর জেরে গোটা দেশে তোলপাড় তুলে মুখ্যমন্ত্রী ধরনায় বসেছেন। এসব পরিস্থিতি কারোরই কাম্য নয় বলে অভিমত জানান দেশটির রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
মাঝারি নেতৃত্ব স্তরের ক্ষোভ-বিক্ষোভের পরিস্থিতিতে এটুকু সান্ত¡না তাকে যে রাশ টেনে ধরার জন্য মাথার ওপরে মমতা বা মোদির মতো রাজনৈতিক অভিভাবক রয়েছেন। কিন্তু সংঘাতের এক প্রান্তে যখন থাকেন নরেন্দ্র মোদি এবং অন্য প্রান্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন আর কে টেনে ধরবেন রাশ? কে সামলাবেন পরিস্থিতি, প্রশ্ন রাখেন বিশ্লেষকরা। তারা বলেন, তাই রাজনৈতিক সংঘাত কখনই এমন কোনো পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়, যেখান থেকে ফেরত আসাটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে সবপক্ষের জন্যই।