ঝিনাইগাতীতে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা, অগ্নি সংযোগ ও লুটপাত

আগের সংবাদ

বার্সেলোনায় নেইমার

পরের সংবাদ

মেলা সফল হয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

কাগজ প্রতিবেদক :

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯ , ২:১৪ অপরাহ্ণ

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, অত্যন্ত সফলভাবেই মেলা শেষ হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় বিক্রিও ভালো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাণিজ্যমেলা পূর্বাচলে আয়োজন করা সম্ভব নয়। এদিকে এ মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিদেশের প্রায় ২০০ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া মেলায় মানুষের উপস্থিতি অর্ধ কোটি পার হয়েছে বলে জানান তিনি।
গতকাল শনিবার বাণিজ্যমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এসব তথ্য জানান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব এস এম রেজওয়ান হোসেন এবং মেলার আয়োজক সংস্থার প্রধান হিসেবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৯ জানুয়ারি শুরু হয় মাসব্যাপী এ বাণিজ্যমেলা। এরপর ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একদিন মেলার সময় বাড়ানো হয়। সময় বাড়ানোর পর গতকাল ৯ ফেব্রুয়ারি মেলার আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপনী ঘোষণা করা হয়। শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের বাণিজ্যমেলায় প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ ও স্টলের মোট সংখ্যা ছিল ৬০৫টি। এর মধ্যে প্যাভিলিয়ন ১১০টি, মিনি প্যাভিলিয়ন ৮৩টি ও রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য স্টল ৪১২টি। এবার বাংলাদেশ ছাড়াও ২৫টি দেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেয়। দেশগুলো হলো- থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান।
মাসব্যাপী ২৪তম এ মেলায় অংশ নেয়া ৬০৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা ৪২টি প্রতিষ্ঠান এবার পুরস্কার পেয়েছে। আর মেলা আয়োজন, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় সার্বিক দিক-নির্দেশনা, অবদান এবং সহযোগিতার জন্য ৩৩ সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ক্রেস্ট দেয়া হয়। মেলায় সর্বোচ্চ ভ্যাট প্রদানকারী হিসেবে প্রথম হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেড, দ্বিতীয় ওয়াল্টন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং তৃতীয় হয়েছে এসকোয়ার ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড। অনন্য সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছে কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড। সেরা প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ও সেরা সাধারণ প্যাভিলিয়নে প্রথম হয়েছে ওয়াল্টন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। সেরা সংরক্ষিত প্যাভিলিয়নে প্রথম হয়েছে জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টার (জেডিপিসি)।
অনুষ্ঠানে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের এ জায়গা বাণিজ্যমেলার জন্য অপ্রতুল। অনেকের ধারণা, আমরা পূর্বাচলের দিকে যেটা করছি, সেটা এ রকম বাণিজ্যমেলা হবে কিনা। সেটা সম্ভবত হবে না। এখানে ৩৬ একরের ওপরে আমাদের জায়গা, তারপরও সংকুলান হয় না। ওখানে জায়গা আরো কম। সম্ভবত ওখানে যারা চিন্তা করেছিলেন আমাদের পূর্বসূরি বা এখনো, ওখানে (পূর্বাচলে) সারা বছর ধরেই বিভিন্ন এক্সপোর্ট, মেলা বা শো, বিভিন্ন অর্গানে ফুড প্রডাকশন নিয়ে আসবে। বাইরের ওরাও (বিদেশিরা) আসতে পারে। এসে আমাদের এখানে ওই ধরনের এক্সপোর্ট ফেয়ার করতে পারবে। এই ধরনের বাণিজ্যমেলা ওখানে করা যাবে না। টিপু মুনশি আরো বলেন, আমার মনে হয়েছে, এখনই এই জায়গা অপ্রতুল। তাহলে ১০ থেকে ২০ বছর পরে কোথায় হবে বাণিজ্যমেলা। সেটাও কিন্তু এখনই চিন্তা করার সময় এসেছে। আমাদের সরকারি কর্মকর্তারা রয়েছেন, আপনারা কিন্তু এই ব্যাপারটা দেখবেন। আমি জানতে চেষ্টা করব, কী করা যায় সামনের দিনগুলোতে। সম্প্রতি চামড়া রপ্তানি কমেছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি আগাতে চাই, তাহলে আমাদের রপ্তানি বাড়াতেই হবে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গার্মেন্টের ওপর নির্ভর না করে আরও অন্যান্য প্রোডাকশনে যাওয়া উচিত। আমাদের কিন্তু সম্প্রতি র লেদার এক্সপোর্ট কমে গেছে। যার জন্য কিছু সমস্যাও আছে। আবার কিছু পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হবে। উল্লেখ্য, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আয়োজন করে আসছে।