নোয়াখালীতে ছাত্রী গণধর্ষণ: দুই আসামিকে রিমান্ড

আগের সংবাদ

ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ

পরের সংবাদ

উপজেলা নির্বাচন

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯ , ৯:১৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯, ৯:১৪ অপরাহ্ণ

দেশজুড়ে উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। প্রথম ধাপের ৮৭ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গত শুক্রবার দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ওই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার। বস্তুত গ্রামীণ জনপদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের প্রশ্নে উপজেলা পরিষদই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন উৎসবমুখর হোক এমন প্রত্যাশা রাখছি। বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৯২টি উপজেলা পরিষদ রয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের মার্চ-মে মাসে ছয় ধাপে এর অধিকাংশগুলোতে ভোট হয়েছিল। আইনে মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করার বাধ্যবাধকতা থাকায় এই নির্বাচন করতে হচ্ছে। ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ চালু হওয়ার পর ১৯৯০ ও ২০০৯ সালে একদিনেই ভোট হয়েছিল। ২০১৪ সালে ছয় ধাপে ভোট করেছিল তৎকালীন ইসি।

সেই ধারা বজায় রেখে এবার বিভাগওয়ারি ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। সে ক্ষেত্রে আট বিভাগের ভোট হবে চার দিনে; অর্থাৎ এক দিনে দুটি বিভাগে ভোট হবে। বাকি যেগুলো থাকবে, সেগুলোতে ভোট হবে পঞ্চম ধাপে। আমরা মনে করি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, উপজেলা পরিষদের নির্বাচনেও সেভাবে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে।

রাজনৈতিক দলগুলোকে এ নির্বাচনের প্রশ্নে আস্থায় নিয়ে আসাটাই মূল কথা। সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ইসির বিরুদ্ধে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সেক্ষেত্রে ইসির দায়িত্ব হবে নির্বাচনের আগে এমন কিছু পদক্ষেপ নেয়া, যাতে করে ঐক্যফ্রন্টসহ বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সভা শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতির কাছে স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করে ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাচনে তার দল অংশগ্রহণ করবে না। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণে বিরত থাকলে আরো জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

তৃণমূল পর্যায়ে এখনো এ দেশে বিএনপির সমর্থক আছে- যারা সত্যি সত্যি ২০ দলীয় জোটগত আদর্শের চেয়ে এককভাবে বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী। কিন্তু নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সেরকমভাবে বিএনপিকে সংগঠিত করার লক্ষণই নেই। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী কর্মী-সমর্থকদের নিয়েই বিএনপির পুনর্গঠন এখন জরুরি।

পাশাপাশি আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টিও ভাবতে হবে। সুষ্ঠুভাবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে আমরা এমনটিই দেখতে চাই। নির্বাচন কমিশনের জন্য এটি চ্যালেঞ্জ বলে বিবেচিত হওয়া উচিত।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা