মাদারীপুরে সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে কোচিং বাণিজ্য

আগের সংবাদ

সরিষাবাড়ীতে লোকসানের মুখে কপি চাষিরা

পরের সংবাদ

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের সংবাদ সম্মেলন

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯ , ১:৩৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯, ১:৩৬ অপরাহ্ণ

মাদারীপুর সদর উপজেলার মিঠাপুরে পল্লী বিদ্যুতের একটি উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে জমিতে কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনে একটি লিখিত আবেদন করেও কোন প্রকার প্রতিকার পোচ্ছেনা ক্ষতিগ্রস্তরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় মাদারীপুরের নতুন শহর এলাকায় সাংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত গোলাম মোস্তফা খান এ ব্যাপারে সরকারের কাছে প্রতিকার দাবী করেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মিঠাপুর চন্ডিবর্দী মৌজায় ১৪৫নং খতিয়ানের ৫০১নং দাগের ৪০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের জন্য ২০১৭ সালের ২৫ মে ৩ ও ৪ ধারায় নোটিশ প্রদান করা হয়। জমির মালিক কাদের খানের ওয়ারিশগণের পক্ষে গোলাম মস্তফা খান ওই বছর ১১ জুন আপত্তি দাখিল করেন। কিন্তু আপত্তির সময় অতিবাহিত হয়েছে দাবী করে জেলা প্রশাসন অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে। পরবর্তীতে ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচপারপতি মো: আতাউর রহমান খানের বেঞ্চে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন জমির মালিকরা। হাইকোর্ট বিবাদীদের বিরুদ্ধে রুল জারি করে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ওই জমির উপর পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার আদেশ দেন। কিন্তু এই আদেশের পরও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ জমিতে খুঁটি পুঁতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। এরই প্রেক্ষিতে বাদী পক্ষ জেলা প্রশাসক, ভ‚মি হুকুম দখল কর্মকর্তা ও জেনারেল ম্যানজারকে একাধিকবার কাজ বন্ধ রাখার ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশনা মান্য করার ব্যাপারে আইনগত নোটিশ প্রদান করেন।
জমির মালিক পক্ষ গোলাম মস্তফা খান দাবী করেন, ‘সংশ্লিষ্ট জমিতে প্রায় একশ’ বছরের পুরনো পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে। এই জমি অধিগ্রহণ করে পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে কবরস্থানটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এছাড়া তাদের পরিবারের ভাইদের এই জায়গা ছাড়া বাড়ি করার উপযোগী আর কোন জায়গা নেই। তাছাড়া মিঠাপুর এলাকায় সরকারি জমিসহ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ উপযোগী আরো অনেক জায়গা রয়েছে।’
গোলাম মস্তফা খান অভিযোগ করে আরো বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করলে তারা হাইকোর্টের নির্দেশনা সম্বলিত কাগজ দেখিয়ে কাজ করতে নিষেধ করেন। অথচ, মাদারীপুর থানা পুলিশের সহায়তায় ওই জমিতে কাজ শুররুকরা হয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কোন মূল্য কি নেই! জমি অধিগ্রহণের কোন টাকা-পয়সাও আমরা গ্রহণ করিনি।’
ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের আইনজীবী এ্যাড. সুজিত চ্যাটার্জী বাপ্পী বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনে এই জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়নি। তার উপর পল্লী বিদ্যুৎ সেখানে কাজ শুরু করেছে। আমরা উচ্চ আদালতে এ ব্যাপারে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করবো।’
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই জায়গায় পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্র নির্মাণ জরুরী। অভিযোগকারী ভ‚মির মালিকরা জমি অধিগ্রহণের টাকা গ্রহণ করুক বা না করুক তাতে কিছুই আসে যায় না। কোন জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্তই চ‚ড়ান্ত। আদালতও অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। এছাড়া মিঠাপুরের ওই জায়গার ব্যাপারে উচ্চ আদালত শুধুমাত্র কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।’