বানান ও ভাষার শুদ্ধতা রক্ষায় প্রেরণা হোক ফেব্রুয়ারি

আগের সংবাদ

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত খুলে দিতে জাতিসংঘের আহ্বান

পরের সংবাদ

রক্তাক্ত ভাষা ও রক্তঋণ

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯ , ৯:২৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯, ৯:২৪ অপরাহ্ণ

মোস্তাফা জব্বার

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও কলাম লেখক।

২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করার ফলে বিশ্বের সব মাতৃভাষার প্রতি সম্মান দেখানোও আমাদের দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। বিশ্বের সব মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ করার দায় আমাদের ওপরই পড়ছে। এসব ভাষা যাতে ডিজিটাল দুনিয়াতে হারিয়ে না যায় এবং প্রযুক্তি যেন তাদের ভাষা ও হরফকে গিলে খেতে না পারে সেটি দেখারও দায়িত্ব আমাদের। আমরা নিজেরাই প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার অগ্রগতিকে তেমনভাবে এগিয়ে নিতে পারিনি তাই নিজের ও অন্যের ভাষার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক সময়ে আমরা কেবল একুশে ফেব্রুয়ারিকেই স্মরণ করতাম। একুশে ফেব্রুয়ারি এখন কেবল আমাদের নয়, সারা দুনিয়ার স্মরণীয় দিনে পরিণত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে এখন একুশে ফেব্রুয়ারিই কেবল নয়, ১ ফেব্রুয়ারিতে শুরু করে পুরো মাসকেই আমরা আমাদের মাতৃভাষা, রাষ্ট্রভাষা বা সাংবিধানিক ভাষার মাস হিসেবে মেনে চলি।

মাসব্যাপী মাতৃভাষাকে স্মরণ করতে দেয়ার কৃতিত্বটা বাংলা একাডেমির একুশের বইমেলার। শ্রদ্ধা জানাই মেলার উদ্ভাবক চিত্তরঞ্জন সাহাকে। একই সঙ্গে সম্মান জানাই ছোট একটি বটতলার মেলাকে সোয়া তিন লাখ বর্গফুটের মেলায় পরিণত করার জন্য।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, একই সঙ্গে আমাদের ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদ ছাড়াও বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যারা তাদের মাতৃভাষার জন্য রক্ত দিয়েছেন বা দাবি তুলেছেন তাদের সবার প্রতিই আমাদের পরম শ্রদ্ধা। আমাদের শ্রদ্ধার মাত্রাটি বিস্তৃত হয়েছে কারণ ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বস্তুত সারা বিশ্ব এটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে।

সারা দুনিয়াকে শ্রদ্ধা যে মাতৃভাষাকে মায়ের সম্মান দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারা জাতি হিসেবে আমরা স্বীকৃতি পেয়েছি। এ জন্য আমাদের শ্রদ্ধা দক্ষিণ আফ্রিকান সেই মানুষগুলোর প্রতি যারা তাদের ভাষাকে রক্ষা করার জন্য রক্ত দিয়েছে। আমরা শ্রদ্ধা জানাই আসামের বাঙালিদের- রক্ত দিয়ে ভাষার সম্মান প্রতিষ্ঠা করার জন্য।

দক্ষিণ আফ্রিকার ভাষার লড়াই : আমরা জানিই না যে সংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে হƒদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়, ১৯৭৬ সালের জুন মাসের ১৬ তারিখ, প্রায় সাতশ স্কুলের ছেলেমেয়েকে হত্যা করা হয়েছিল, তাদের ভাষা আন্দোলন থামানোর জন্য।

আফ্রিকার বান্টু ভাষাগোষ্ঠীর সোঠো, জুলু, সোয়াতি বা সেটসোয়ানা ভাষা ব্যতীত দক্ষিণ আফ্রিকার ইংরেজি ও ডাচ উপনিবেশকারীদের মধ্যে প্রচলিত ছিল আফ্রিকান্স ভাষা। আফ্রিকার সরকার ১৯৭৪ সালে জারি করে এক ফরমান। তাতে উল্লেখ করা হয়, আফ্রিকান্স ভাষাই হবে কৃষ্ণাঙ্গদের স্কুলের ভাষা।

এ ফরমান ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই গর্জে ওঠে কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্রছাত্রীরা। শুরু হয় আন্দোলন। তাদের এ আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে।

১৯৭৬ সালের ১৬ জুন কৃষ্ণাঙ্গ প্রায় কুড়ি হাজার ছাত্রছাত্রী সোয়েটো শহরের রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করে। এ বিক্ষোভ চলাকালীন বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করে। এতে ১৩ বছরের হেক্টর পিটারসনসহ ১৭৬ জন ছাত্রছাত্রী মারা যায়।

ন্যক্কারজনক এ ঘটনার প্রতিবাদে দেশের শ্বেতাঙ্গ নাগরিকরাও আন্দোলনে শামিল হয়। আন্দোলন সোয়েটো থেকে কেপটাউন বা এলিজাবেথ, জোহানেসবার্গেও ছড়িয়ে পড়ে। একই বছরে রাষ্ট্রীয় এ আগ্রাসনে মারা যায় ৬০০-এরও বেশি মানুষ।

ভাষা আন্দোলনে এত রক্তক্ষয়, প্রাণক্ষয়ের ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তাই ১৩ বছরের হেক্টর পিটারসন সোয়েটোর ভাষা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে সেখানে। আসুন হেক্টরসহ দক্ষিণ আফ্রিকার ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।

আসামে বাংলা ভাষার লড়াই : আসামের বরাক উপত্যকার বাংলা ভাষা আন্দোলন ছিল আসাম সরকারের অসমীয়া ভাষাকে রাজ্যের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। যেহেতু ওই অঞ্চলের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ছিল বাংলাভাষী সেহেতু পাকিস্তানের বাঙালিদের মতো আসামের বাঙালিরাও অন্যতম রাষ্ট্রভাষার দাবিতে রাস্তায় নামে।।

এই গণআন্দোলনের প্রধান উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ১৯৬১ সালের ১৯ মে ঘটে, সে দিন ১১ জন প্রতিবাদীকে শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে প্রাদেশিক পুলিশ গুলি করে হত্যা করে।

১৯৬০ সালের এপ্রিলে, আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিতে অসমীয়া ভাষাকে প্রদেশের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা করার একটি প্রস্তাবের সূচনা হয়। এতে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। অসমীয়া উত্তেজিত জনতা বাঙালি অভিবাসীদের আক্রমণ করে।

জুলাই ও সেপ্টেম্বরে সহিংসতা যখন উচ্চ রূপ নেয়, তখন প্রায় ৫০ হাজার বাঙালি হিন্দু ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যায়। অন্য ৯০ হাজার বরাক উপত্যকা ও উত্তর-পূর্বের অন্যত্র পালিয়ে যায়। ন্যায়াধীশ গোপাল মেহরোত্রার নেতৃত্বে এক ব্যক্তির একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কামরূপ জেলার গোরেশ্বর অঞ্চলের ২৫টি গ্রামের ৪ হাজার ১৯টি কুঁড়েঘর এবং ৫৮টি বাড়ি ধ্বংস ও আক্রমণ করা হয়; এই জেলা ছিল সহিংসতার সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকা। নয় জন বাঙালিকে হত্যা করা হয় এবং শতাধিক লোক আহত হয়।

১০ অক্টোবর, ১৯৬০ সালের সেই সময়ের আসামের মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রসাদ চলিহা অসমীয়াকে একমাত্র সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক রণেন্দ্র মোহন দাস এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু ২৪ অক্টোবর প্রস্তাবটি বিধানসভায় গৃহীত হয়।

বরাক উপত্যকার বাঙালিদের ওপরে অসমীয়া ভাষা চাপিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে ১৯৬১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে কাছাড় গণসংগ্রাম পরিষদ নামক সংগঠনটির জন্ম হয়। আসাম সরকারের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ১৪ এপ্রিল তারিখে শিলচর, করিমগঞ্জ আর হাইলাকান্দির লোকেরা সংকল্প দিবস পালন করেন।

বরাকের জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য এই পরিষদ ২৪ এপ্রিল একপক্ষ দীর্ঘ একটি পদযাত্রা শুরু করেছিল। ২ মে তে শেষ হওয়া এই পদযাত্রাটিতে অংশ নেয়া সত্যাগ্রহীরা প্রায় ২০০ মাইল উপত্যকাটির গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রচার চালিয়েছিলেন। পদযাত্রার শেষে পরিষদের মুখ্যাধিকারী রথীন্দ্রনাথ সেন ঘোষণা করেছিলেন যে, যদি ১৩ এপ্রিল, ১৯৬১ সালের ভেতর বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা না হয়, ১৯ মে তে তারা ব্যাপক হরতাল করবেন।

১২ মে তে আসাম রাইফেল, মাদ্রাজ রেজিমেন্ট ও কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত পুলিশ বাহিনী শিলচরে ফ্ল্যাগ মার্চ করেছিল। ১৮ মে তে আসাম পুলিশ আন্দোলনের তিনজন নেতা নলিনীকান্ত দাস, রথীন্দ্রনাথ সেন ও বিধুভূষণ চৌধুরীকে (সাপ্তাহিক যুগশক্তির সম্পাদক) গ্রেপ্তার করে।

১৯ মে তে শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দিতে হরতাল ও পিকেটিং আরম্ভ হয়। করিমগঞ্জে আন্দোলনকারীরা সরকারি কার্যালয়, রেলওয়ে স্টেশন, কোর্ট ইত্যাদিতে পিকেটিং করেন। শিলচরে তারা রেলওয়ে স্টেশনে সত্যাগ্রহ করেছিলেন।

বিকেল ৪টার সময়সূচির ট্রেনটির সময় পার হওয়ার পর হরতাল শেষ করার কথা ছিল। ভোর ৫:৪০ এর ট্রেনটির একটিও টিকেট বিক্রি হয়নি। সকালে হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে অতিবাহিত হয়েছিল। কিন্তু দুপুরে স্টেশনে আসাম রাইফেল এসে উপস্থিত হয়।

দুপুর প্রায় ২:৩০-এর সময় ন’জন সত্যাগ্রহীকে কাটিগোরা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের একটি ট্রাক তারাপুর স্টেশনের (বর্তমানের শিলচর রেলওয়ে স্টেশন) কাছ থেকে পার হয়ে যাচ্ছিল। পিকেটিংকারী সবাই তাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে দেখে তীব্র প্রতিবাদ করেন।

ভয় পেয়ে ট্রাকচালকসহ পুলিশরা বন্দিদের নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর কোনো অশনাক্ত লোক ট্রাকটি জ্বালিয়ে দেয়, যদিও দমকল বাহিনী এসে তৎপরতার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তারপর প্রায় ২:৩৫ নাগাদ স্টেশনের সুরক্ষায় থাকা প্যারামিলিটারি বাহিনী আন্দোলনকারীদের বন্দুক ও লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করে।

এরপর সাত মিনিটের ভেতর তারা ১৭ রাউন্ড গুলি আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে চালায়। ১২ জন লোকের দেহে গুলি লেগেছিল। তাদের মধ্যে ন’জন সে দিনই নিহত হয়েছিলেন; দুজন পরে মারা যান। ২০ মে তে শিলচরের জনগণ শহীদদের শবদেহ নিয়ে শোকমিছিল করে প্রতিবাদ করেছিলেন।

এ ঘটনার পর আসাম সরকার বরাক উপত্যকায় বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। আরো একবার বিজয়ী হয় বাংলা ভাষা। এরপর শিলচর রেলস্টেশনকে ভাষা শহীদ স্টেশন নামকরণ করা হয়। সেখানে নির্মিত হয় স্মৃতিস্তম্ভ। ২০১১ সালে ভাষা আন্দোলনের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে শহীদ কমলা ভট্টাচার্য মূর্তি স্থাপন কমিটির পক্ষ থেকে গোপা দত্ত আইচ ছোটেলাল শেঠ ইনস্টিটিউটের প্রাঙ্গণে কমলার একটি ব্রোঞ্জের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করেন।

এই আন্দোলনে যারা শহীদ হন তারা হলেন- কানাইলাল নিয়োগী, চ-ীচরণ সূত্রধর, হিতেশ বিশ্বাস, সত্যেন্দ্রকুমার দেব, কুমুদরঞ্জন দাস, সুনীল সরকার, তরণী দেবনাথ, শচীন্দ্র চন্দ্র পাল, বীরেন্দ্র সূত্রধর, সুকোমল পুরকায়স্থ এবং কমলা ভট্টাচার্য। এ ছাড়াও আসামেই বাংলা ভাষার জন্য ১৯৭২ সালের ১৭ আগস্ট বিজন চক্রবর্তী নামের আরো একজন শহীদ হন। অন্যদিকে ১৯৮৬ সালের ২১ জুলাই শহীদ হন দুজন : জগন্ময় দেব ও দিব্যেন্দু দাস।

আমরা খুব সহজেই এটি অনুভব করতে পারি যে বিশ্বে বাঙালিরাই প্রথম তার মাতৃভাষার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। আমি অন্তত ১১ মার্চ ১৯৪৮-কে ভাষা আন্দোলনের জন্মদিন বলে মনে করি। সে দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই আন্দোলনের জন্ম দেন। এবার সেই আন্দোলনের ৭০ বছর পূর্ণ হবে।

শহীদ দিবসের ৬৮ বছর পূর্তি এবং ভাষা আন্দোলনের ৭১তম জন্মদিনে একদিকে যেমনি আমরা আমাদের অর্জনকে স্মরণ করব তেমনি আমরা বাংলা ভাষার জন্য আসামে রক্ত দানকারী শহীদদেরও স্মরণ করব। বস্তুত পক্ষে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে ১৯ মে’কেও স্মরণ করা।

কমলাসহ অন্য শহীদদের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তোলাটাও বিশ্বের একমাত্র বাংলার রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য একটি দায়িত্ব হতে পারে। একই সঙ্গে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকার ভাষা আন্দোলনকেও স্মরণ না করে পারি না। ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করার ফলে বিশ্বের সব মাতৃভাষার প্রতি সম্মান দেখানোও আমাদের দায়িত্ব হয়ে পড়েছে।

প্রসঙ্গত এটিও বলা দরকার যে আমাদের কর্তব্য ও দায়িত্বের মাঝে বিশ্বের সব মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ করার দায় আমাদের ওপরই পড়ছে। এসব ভাষা যাতে ডিজিটাল দুনিয়াতে হারিয়ে না যায় এবং প্রযুক্তি যেন তাদের ভাষা ও হরফকে গিলে খেতে না পারে সেটি দেখারও দায়িত্ব আমাদের।

আমরা নিজেরাই প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার অগ্রগতিকে তেমনভাবে এগিয়ে নিতে পারিনি তাই নিজের ও অন্যের ভাষার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমার আশাবাদটা হলো যে আমাদের নিজেদের মেধাবী জনগোষ্ঠী যেমনি করে বাংলা ভাষার জন্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পারবে তেমনি করে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাসমূহ ও বিশ্বের সব মাতৃভাষার প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করতে পারব।

আমি মনে করি তাতেই আমরা সারা বিশ্বে ভাষার জন্য রক্ত দেয়ার ঋণ শোধ করা হবে। নিবন্ধটির জন্য উইকিপিডিয়া থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে।

মোস্তাফা জব্বার : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও কলাম লেখক।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা