বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আলো ছড়াবে ঘরে ঘরে

আগের সংবাদ

নাট্যচর্চাকে ছড়িয়ে দিতে হবে

পরের সংবাদ

হঠাৎ বৃষ্টি থেকে প্রেম আমার টু

বিশ বছরে যৌথ প্রযোজনায় যত বদল

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯ , ৩:৫৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ

১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে মুক্তি পায় যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘হঠাৎ বৃষ্টি’। ছবিটি প্রথমে টিভি প্রিমিয়ার হয়, তারপর সিনেমা হলে আসে। প্রিমিয়ারেই দেশজুড়ে সাড়া ফেলে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’। রাতারাতি তারকা বনে যান ফেরদৌস। দর্শকদের মন কেড়ে নেন ওপারের মিষ্টি মেয়ে প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী। পরিচালক বাসু চ্যাটার্জিও তার কাজের কদর পান গণমাধ্যমের কাছ থেকে। এককথায় যৌথ প্রযোজনায় সফল একটি ছবি হিসেবে সংযোজন ঘটে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র।
একই বছর এহতেশাম পরিচালিত ‘পরদেশী বাবু’, তমিজউদ্দিন রিজভী পরিচালিত ‘জবাবদিহি’ এবং ইস্পাহানি আরিফ জাহান পরিচালিত ‘শত্রু ধ্বংস’ এই তিনটি যৌথ প্রযোজনার ছবি দর্শকরা দেখতে পান। কোনোটিই ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র মতো দর্শকপ্রিয়তা পায়নি। ফলে এ ছবির সাফল্যে যে জোয়ার ওঠার কথা তা যৌথ প্রযোজনার ক্ষেত্রে হয়নি। স্বাভাবিক গতিতেই যৌথ প্রযোজনার ছবি নির্মিত হতে থাকে।
গত বিশ বছরে যৌথ প্রযোজনার ছবি অনেক উত্থান-পতনের শিকার হয়েছে। ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র মতো সুনির্মিত ছবির দৃষ্টান্ত থাকার পরও ছবি মুক্তির কয়েক বছর পরই ঝিমিয়ে পড়ে যৌথ প্রযোজনা। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘শেষ যুদ্ধ’, ‘শেষ বংশধর, ‘আগুন জ¦লবেই’, ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’, ‘নসিমন’, ‘মায়ের মতো ভাবী’, ‘সবার উপরে প্রেম’ এর মতো ‘হাতেগোনা কয়েকটি ছবি নির্মিত হয় পুরো শূন্য দশকে।
দীর্ঘদিন পর যৌথ প্রযোজনার জোয়ার আসে ২০১৩ সালে। কলকাতার নির্মাতা অশোক পাতি পরিচালিত ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ মুক্তি পেয়ে সুপারহিট হলে পুনরায় যৌথ প্রযোজনায় ঝাঁপিয়ে পড়েন নির্মাতারা। একজন প্রযোজকই নির্মাণ করেন ‘রোমিও বনাম জুলিয়েট’, ‘শিকারী’, ‘আশিকী’, ‘বাদশা দ্য ডন’, ‘নিয়তি’, ‘প্রেমী ও প্রেমী’ ইত্যাদি প্রায় এক ডজন ছবি।
কিন্তু বিশ বছর আগে যৌথ প্রযোজনার ছবিতে যে নিয়মনীতি মেনে চলার প্রবণতা ছিল নির্মাতাদের মধ্যে, এবারের জোয়ারে তাতে ঘাটতি দেখা দেয়ায় ধারাটি প্রশ্নের মুখে পড়ে। ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ থেকেই চলচ্চিত্র সংগঠনগুলো ছিল সজাগ। একপর্যায়ে যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণে অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও নামেন নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলী।
এই আন্দোলনের কারণ ছিল যৌথ প্রযোজনার আড়ালে ভারতীয় ছবির মুক্তি। নামমাত্র বাংলাদেশের শিল্পী ও টেকনিশিয়ান রেখে ভারতীয় ছবিকে যৌথ প্রযোজনা বলে চালিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে আন্দোলন হয় এফডিসিতে। এই আন্দোলনকে ঘিরে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে চলচ্চিত্র শিল্প। যার রেশ এখনো কাটেনি। দাবির মুখে যৌথ প্রযোজনার নীতিমালায় পরিবর্তন আনার পর এ ধারাটি আর চাঙ্গা হতে পারেনি।
তার বদলে ভারতীয় বাংলা ছবির আমদানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশ বছর আগে নিষিদ্ধ থাকায় ভারতীয় ছবির প্রদর্শন ছিল না এ দেশের সিনেমা হলে। ভারতীয় শিল্পীদের এ দেশের ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার মাধ্যম ছিল শুধু যৌথ প্রযোজনার ছবি। কয়েক বছর ধরে সাফটা চুক্তির অধীনে আমদানি হচ্ছে ভারতীয় ছবি। বিনিময় প্রথায় বাংলাদেশের ছবিও যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু বাংলাদেশের ছবির কোনো অর্জন নেই এই প্রক্রিয়ায়। যৌথ প্রযোজনা কোণঠাসা হয়ে গেছে বিনিময় প্রথার দাপটে।
যৌথ প্রযোজনা আর বিশ বছর আগের জলুসে নেই। এখনকার যৌথ প্রযোজনায় ভারতীয় বাংলা ছবিরই প্রাধান্য। মুক্তি প্রতীক্ষিত যৌথ প্রযোজনার ছবিগুলোর মধ্যে আলোচিত ‘প্রেম আমার টু’। শিগগিরই মুক্তির মিছিলে শামিল হবে এ ছবি। ‘প্রেম আমার’ নামক একটি ভারতীয় বাংলা ছবির সিক্যুয়েল এটি। প্রথম ছবিটি সিনেমা হলে মুক্তি না পেলেও সিক্যুয়েল মুক্তি পাবে এ দেশে। ছবির পরিচালক নবীন এবং ভারতীয়। ছবির শুটিংয়ের অধিকাংশ হয়েছে ভারতে। শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের বেশির ভাগও ভারতীয়। এরকম ভারতীয় প্রাধান্যের ছবিই এখন যৌথ প্রযোজনায় বেশি নির্মিত হচ্ছে।
ভারতীয় বাংলা ছবির সরাসরি আমদানি ও প্রদর্শন অবাধ হওয়ায় দর্শকদের কাছে যৌথ প্রযোজনার আকর্ষণ গত বিশ বছরে ফিকে হয়ে গেছে। ভারতীয় স্যাটেলাইট চ্যানেলের জনপ্রিয়তাও দর্শকদের কাছে যৌথ প্রযোজনার ছবির প্রতি পুরনো আকর্ষণ কমিয়ে দিয়েছে। দুই দশকে যৌথ প্রযোজনা তার স্বাতন্ত্র্যও খুইয়েছে। যৌথ প্রযোজনা এখন এ দেশের বিশেষ কয়েকজন প্রযোজকের কাছে আগ্রহ ধরে রেখেছে। প্রযোজকদের বড় অংশই আস্থা হারিয়েছে যৌথ প্রযোজনা থেকে।
বিশ বছর ধরে এই পরিবর্তনগুলেই লক্ষ করেছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।