নিউজিল্যান্ড যাওয়া হচ্ছে না সাকিবের

আগের সংবাদ

বিশ বছরে যৌথ প্রযোজনায় যত বদল

পরের সংবাদ

৪০ বছর পূর্তি উদযাপন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আলো ছড়াবে ঘরে ঘরে

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯ , ৩:৩৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : ‘দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে আলো পৌঁছে দিতে চায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। মানুষ যদি নিজে আলো নিতে আসে তাহলে ভালো। আর যদি না আসে কেন্দ্রই যাবে ঘরে ঘরে। দরজায় দাঁড়িয়ে প্রতিটি মানুষের কাছে আলো দিয়ে আসবে।’- বাংলাদেশকে আলোকিত করার এমন দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে উদযাপিত হলো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৪০ বছর পূর্তি উৎসব।
গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী প্রীতি সমাবেশের উদ্বোধনী বক্তব্যে এমন অঙ্গীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর পাবলিক লাইব্রেরির সামনে থেকে সুসজ্জিত, বৈচিত্র্যপূর্ণ আর বর্ণাঢ্য র‌্যালির মধ্য দিয়ে প্রীতি সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তাসের দেশের রাজার পোশাক পরে র‌্যালির নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। সঙ্গে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ার, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, শিল্পী মোস্তাফা জামান আব্বাসী, টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, নাট্যাভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ, টিভিব্যক্তিত্ব আবদুন নূর তুষার এবং নাগরিক টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক, স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রমুখ ব্যক্তিত্ব।
কার্নিভাল ঢঙে বর্ণিল, মনোজ্ঞ র‌্যালিটি ১৮টি ভাগে সাজানো হয়। দ্বিতীয় ধাপে রঙিন শাড়িতে সজ্জিত ছিল ৩২ জন মেয়ে শিশু। বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল- ঢাকঢোল বাদক দল, ভরতনাট্যম, কত্থক, মনিপুরি এবং গৌড়ীয় নাচের দল, রংধনুর আদলে সাতটি রঙে সজ্জিত শিশুর দল, রঙিন শাড়ি পরে কলস কাঁখে মেয়ের দল, রোমান বাদক দলের সঙ্গে পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের সাজে সজ্জিত দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, শিশুতোষ গল্পের চরিত্রে সজ্জিত দল, রঙিন পতাকা হাতে মানুষ ও সুসজ্জিত মোবাইল লাইব্রেরি।
র‌্যালির নবম ভাগ ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এ ভাগে বিশ্বসাহিত্য ও বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত চরিত্রগুলোর মধ্যে ছিলেন সফক্লিস, সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, ফ্রয়েড, মহাকবি ফেরদৌসী, রুমী, মহাকবি গ্যাটে, শেখ সাদী, হাফিজ। আরও ছিলেন গৌতম বুদ্ধ, কনফুসিয়াস, হেগেল, ডারউইন, নিউটন, গ্যালিলিও, আর্কিমিডিসসহ অনেকে। জোয়ান অব আর্ককেও দেখা গেছে র‌্যালিতে। এ ছাড়া ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত লেখক ঈশ^রচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বেগম রোকেয়া, কাজী নজরুল ইসলাম। চৌদ্দতম ভাগে ছিল বাংলা ও বিশ^সাহিত্যের জনপ্রিয় রূপকথার বেশ কয়েকটি চরিত্র। ছিল হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা, পিনোকিও, অরুণ-বরুণ-কিরণ-মালা, সিনডারেলা, আলাদিনের জিন এমনকি শিয়াল পণ্ডিতও।
র‌্যালি শেষে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মাতিয়ে রাখেন কণ্ঠশিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়, প্রিয়াংকা গোপ, চন্দনা মজুমদারসহ প্রায় ৫০ জনের অধিক শিল্পী। গানের ফাঁকে ফাঁকে চলে গৌড়ীয়, মনিপুরি, কত্থকসহ বিভিন্ন ধরনের নাচ। এর ফাঁকে ফাঁকে চলে আলোচনা আর কেন্দ্রের মূল্যায়ন। আয়োজনে প্রায় ৩০ হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের আপ্যায়নের জন্য বাঙালিয়ানা ধাঁচে পরিবেশন করা হয় দেশীয় সব খাবার। আকর্ষণীয় বাঁশের ঝুড়িতে করে অতিথিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পাটিশাপটা, তেলের পিঠা, সিঙ্গারা, কদমা, খই, চিড়ার মোয়া, নিমকপাড়া, মুড়–লি, নকুল দানা, দানাদার, গজা, জিলিপিসহ আরও কিছু খাবার।
অনুষ্ঠানে সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, বিশ^সাহিত্য কেন্দ্র আমরা পাইনি আমাদের ছেলে-মেয়েরা পেয়েছে। আমার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই বিশ^সাহিত্য কেন্দ্রের সদস্য ছিল। প্রবাসে থাকলেও ওর সাহিত্যজ্ঞান এবং সংস্কৃতিপ্রীতি ও ভালোবাসা তৈরি করেছে বিশ^সাহিত্য কেন্দ্র। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, বিশ^সাহিত্য কেন্দ্র এমন একটা প্রতিষ্ঠান, যেটার কোনো তুলনা নেই। এখন সারা পৃথিবীর সব থেকে বড় সমস্যা হলো কেউ বই পড়ে না। আমাদের দেশে বিশ^সাহিত্য কেন্দ্র এককভাবে এই কাজটিই করে যাচ্ছে। আমাদের সবাইকে তাদের পাশে থাকা উচিত।
‘আলোকিত মানুষ চাই’- এই স্লোগান নিয়ে স্বপ্নদ্রষ্টা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের হাত ধরে সত্তর দশকের শেষের দিকে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। হাঁটি হাঁটি পা-পা করে ৪০ বছর পূর্ণ হয়েছে এ সংগঠনের। গতকাল ৪০ বছর পূর্তির প্রীতি সমাবেশে দিনব্যাপী কর্মব্যস্ত ছিলেন প্রায় ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক। সবুজায়নের জন্য ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে ফ্লোরে টবে রাখা হয় নানা প্রজাতির গাছ।