বিশ বছরে যৌথ প্রযোজনায় যত বদল

আগের সংবাদ

কবিতা পড়তে ভালোবাসি-বাঁধন

পরের সংবাদ

নাট্যচর্চাকে ছড়িয়ে দিতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯ , ৪:১৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯, ৪:১৭ অপরাহ্ণ

Avatar

একাধারে অভিনেত্রী, নির্দেশক, শিক্ষক হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে। পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকেও তিনি জনপ্রিয়। এ বছর শিল্পকলা ও অভিনয় বিভাগে একুশে পদক পাচ্ছেন লাকী ইনাম। ভোরের কাগজের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার গ্রহণ হেমন্ত প্রাচ্য

একুশে পদক পাচ্ছেন, অনুভূতি জানতে চাই?
মঞ্চনাটকে আমার সম্পৃক্ততা ১৯৭২ সালে। ওই বছরের ১৭ ও ১৮ জুলাই আমি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় প্রযোজনা ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকের মাধ্যমে প্রথম মঞ্চে অভিনয় করি। সেই থেকে এখনো অবধি মঞ্চনাটক থেকে বিচ্যুত হয়নি। কাজ করে যাচ্ছি। তাই অবচেতন মনেই আমার ভাবনায় ছিল যে রাষ্ট্রীয় এমন একটা সম্মান হয়তো আমি পাবো। এবার সেটি পেয়ে ভীষণ ভালো লাগছে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এর জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাতে চাই।
পদকপ্রাপ্তি আপনার কর্মযাত্রাকে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করেন কি?
পদকপ্রাপ্তি অবশ্যই ভালো লাগার একটি বিষয়। কিন্তু কাজ করে চলি আপনমনে, মনের আনন্দে। এর আগেও কাজ করেছি। এখনো কাজ করে যাবো। পদক না পেলেও আমার কর্মযাত্রা অব্যহত থাকতো। তবে এই পদকপ্রাপ্তি আমার কাজের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে, আমাকে ঋদ্ধ করেছে। এটা রাষ্ট্রের সম্মান। এই সম্মান যে কারোর জীবনে অনেক বড় অর্জন। আর আমি তো ছেলেমেয়েদের নিয়ে নাটক করি, নাটক শেখাই। শিক্ষকতা বলতে পারো। সেটা আরো মন দিয়ে করব। নতুন প্রজন্মকে তৈরি করে দিয়ে যেতে হবে।
নতুন প্রজন্মকে নিয়ে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই?
এখন যারা কাজ করছে তাদের অনেকেই ভীষণ মেধাবী। আমাদের নাগরিক নাট্যাঙ্গনের একটা থিয়েটার স্কুল আছে। নাম ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন ইনস্টিটিউট অব ড্রামা’। এখানে অনেক নবীন ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি দেখেছি, এই প্রজন্মের শিল্পীদের উচ্চারণে অনেক সমস্যা, তাদের বাচ্যিক অভিনয়কে সমৃদ্ধ করার জন্য কিছু কাজ করতে চাই।
আপনি তো বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের নেতৃত্বে আছেন। সেখান থেকে কোনো কর্মপরিকল্পনা আছে কি?
সেখান থেকে সারাদেশের নাট্যচর্চা নিয়ে কাজ করার জন্য আমাদের কিছু কর্মপরিকল্পনা আছে। ইতোমধ্যে দেশজুড়ে কিছু কাজ হচ্ছে। আমার ইচ্ছা আছে, সারাদেশে ঘুরে ঘুরে নাটকের কর্মশালা করানোর। এখন তো বয়স হয়েছে, খুব বেশি ঘুরে বেড়াতে পারি না। তবুও আমার ইচ্ছা আছে সারাদেশের নাট্যকর্মীদের সঙ্গে কাজ করা। বিভিন্ন জেলায় গিয়ে কাজ করা। জেলা শহরগুলোতে গেলে কিছুটা কষ্ট লাগে, তাদের ভালো মিলনায়তন নেই। নানাবিধ সংকটের মধ্যেও তারা কাজ করে চলেছে। আমাদের নাট্যচর্চাকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। সেজন্য জেলা শহরের সঙ্গে কিছু কাজ করতে চাই।
আপনার নাট্যদলে নতুন কি কাজ চলছে?
আমাদের নাট্যদল নাগরিক নাট্যাঙ্গন নতুন নাটকের কাজ শুরু করেছে। এটা লেটো গানের উপরে। নাটকের নাম ‘লেটোর দল’। নির্দেশনা দিচ্ছে হৃদি হক। আশা করছি মার্চ এপ্রিলের দিকে নাটকটি মঞ্চে আসবে। আর আমার নাটক লেখার কাজ চলছে। সামনে নির্দেশনাও দেব।
বইমেলায় আপনার নতুন কোনো বই কি আসছে?
এবারের বইমেলায় আমার দুটি নাটকের বই ৩/৪ দিনের মধ্যেই প্রকাশ হবে। আর শেষের দিকে আমার লেখা ৬টি নাটক নিয়ে একটি নাট্য সংকলন প্রকাশ হবে। বইগুলো মেলায় আসার পরই বিস্তারিত জানাব।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা