জার্মানিতে ভবনে আগুন, নিহত ৫

আগের সংবাদ

হবিগঞ্জে টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে নিহত ১

পরের সংবাদ

পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতি

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর হোক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯ , ৯:০৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯, ৯:০৪ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

ভোগান্তি কমছেই না পাসপোর্ট অফিসে। রাজধানী সহ দেশের অধিকাংশ পাসপোর্ট অফিসই এখনো দালালের হাতে জিম্মি। পাসপোর্ট করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার আবেদনকারী নানা হয়রানি আর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বাড়তি টাকা না দিলে অনেক সময় আবেদনপত্রও জমা দিতে পারেন না সাধারণ মানুষ। নানা অজুহাতে আবেদনপত্র জমা নেয়া হয় না।

তবে দালালের হাতে টাকা দিলে দ্রুত আবেদনপত্র জমা দেয়া যায়। এসব ভোগান্তিকে নিয়তি হিসেবে মানছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। গত বৃহস্পতিবার ৭ জেলার পাসপোর্ট অফিসে একযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে এমন চিত্র পেয়েছে। দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে বিভিন্ন খাতে সরকারি সেবাগ্রহীতার সংখ্যাও, কিন্তু বাড়ছে না সেবা প্রদানকারী সংস্থার জনবল ও অবকাঠামো।

পাসপোর্ট অফিসে দালালরা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া ক্ষমতার অধিকারী। এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া জরুরি হয়ে পড়ছে। দুদক জানায়, পাসপোর্ট অফিস ঘিরে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে দালালরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সিন্ডিকেট তৈরি করেছে, দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন-১০৬) আসা এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের ৭টি জেলার পাসপোর্ট অফিসে আকস্মিক অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দিনাজপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, সিলেট, মেহেরপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে মেহেরপুর, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা ও দিনাজপুরে মোট ৪ জন দালালকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে দুদক টিম। দুদকের এই অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি আমরা।

পাসপোর্ট সেবা সহজতর করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও সরকারি সেবা খাতের এ প্রতিষ্ঠানটি ঘুষ, দুর্নীতি আর অনিয়মের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না। দুদকের এমন অভিযানে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা কতটা সচেতন হবেন সেটা দেখার বিষয়। দেখা যায়, বিভাগীয় কার্যালয়গুলোতে পাসপোর্ট অধিদপ্তর মাঝে মধ্যে দালালবিরোধী অভিযান চালিয়ে থাকে।

সিনিয়র কর্মকর্তারাও নজরদারি করেন। তবে অনেক জেলা কার্যালয়ে এসব দালালের কাছে খোদ পাসপোর্ট কর্মকর্তারাও জিম্মি হয়ে পড়েছেন। অনেক কার্যালয়ে অসাধু কর্মচারীরাও নানাভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকেন। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরুর পর এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা সরাসরি দুর্নীতি করতে না পারায় তারা দালালদের মাধ্যমে সুবিধা নিয়ে থাকেন।

এজন্য এ দালালবলয় ভাঙা যাচ্ছে না। ২০০৭-০৮ সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পাসপোর্ট অফিসের চেহারা একদমই বদলে গিয়েছিল। ঘুষ থাক দূরে, নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই পাসপোর্ট প্রদান করা হয়েছে বাড়তি কোনো অর্থ ছাড়াই। এখন কেন পারা যাচ্ছে না, তা বুঝতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও মানসম্পন্ন সেবা প্রদানে পাসপোর্ট বিভাগকেই ঢেলে সাজাতে হবে। হয়রানি দুর্নীতি ও ঘুষ লেনদেন কমিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সর্বাগ্রে শাস্তির ব্যবস্থা করে উদাহরণ তৈরি করা চাই।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা