ভারতে যৌথবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১০ মাওবাদী নিহত

আগের সংবাদ

এম আর আখতার মুকুল

পরের সংবাদ

এলাকাভিত্তিক বিনোদন কেন্দ্র নিয়ে ভাবতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯ , ৮:০০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯, ৮:০০ অপরাহ্ণ

Avatar

রাজধানীতে প্রায় ২ কোটি লোকের বসবাস। জনসংখ্যার দিক থেকে সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছে এই শহর। মানুষের গায়ে গা লাগার মতো দশা। যার কারণে সুস্থ জীবনযাপনের সব সুবিধা দেয়া কর্তৃপক্ষের সম্ভব হয়ে উঠে না। সম্ভব হয় না আরো একটি কারণে তা হলো পরিকল্পনাহীন নগরায়ন। তারপরও নানা সীমাবদ্ধা তার মধ্যেও কিছু কিছু বিষয় আবশ্যিক হয়ে দাঁড়ায়। ঢাকা শহরে পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্র তেমনি আবশ্যিক। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য শুধু খাবারই যথেষ্ট নয়, বিনোদনেরও প্রয়োজন আছে।

বিশেষ করে শিশুদের জন্য পার্ক, খেলার মাঠ খুবই জরুরি। শুধু ইট-পাথরের দালানের মধ্যে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ হতে পারে না। যদিও আধুনিক যুগ হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে নানা বিনোদনের অজস্র উপকরণ ও সম্ভার। তবু ঘরের বাইরে যাওয়া, দল বেঁধে বিনোদন লাভ করার দরকার আছে। কিন্তু হতাশাজনক ব্যাপার হচ্ছে রাজধানীতে প্রায় ২ কোটি মানুষের বিপরীতে পার্ক রয়েছে মাত্র ৩০টি।

আবার এগুলোর বেশির ভাগই ব্যবহার অনুপযোগী। ইট পাথরের শহরে একটু নির্মল নিঃশ্বাস নেয়ার স্থানও খুঁজে পাওয়া যায় না। কোটি কোটি মানুষের ভারে ন্যুব্জ রাজধানীতে একটু আনন্দ আর বিনোদনের পরিবেশ না পেয়ে মানুষ দিন দিন হয়ে উঠছে অমানবিক। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত খোলা জায়গা বা পার্কের সুবিধা না পাওয়ায় ফ্ল্যাটবন্দি জীবনযাপন করে। শহরে উন্মুক্ত স্থান বা পার্ক-উদ্যান একেবারেই কম। রাজধানী ঢাকার পরিবেশ বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে পার্ক-লেক আর ফাঁকা জায়গা। এগুলো আবার মানুষের বিনোদনের চাহিদাও পূরণ করে থাকে। বিশ্বের প্রায় সব উন্নত শহরে রয়েছে এলাকাভিত্তিক বিনোদন কেন্দ্র। সেই তুলনায় রাজধানীতে এলাকাভিত্তিক বিনোদনের সরকারি ভাবনা নেই বললেই চলে।

গতকাল ভোরের কাগজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালে সিটি করপোরেশন আত্মপ্রকাশ হওয়ার পর এ পর্যন্ত নতুন করে কোনো পার্ক-উদ্যান করা হয়নি। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ শহর ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বড় আকারের উদ্যান ছাড়াও রাজধানীতে সিটি করপোরেশনের হিসাব মতে পার্ক রয়েছে ৪৭টি আর খেলার মাঠ রয়েছে ১০টি। কিন্তু এগুলো কাগজের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। আবার এর মধ্যে ১৭টি বেদখলে রয়েছে।

আমরা মনে করি, মানুষকে এই বন্দিদশা থেকে বের করে আনতে হবে। মানুষকে মুক্ত বাতাসের স্বাদ দিতে হবে। শিশুদের শারীরিক, মানসিক বিকাশে খেলার মাঠ, পার্ক ইত্যাদির প্রয়োজনীয়তায় রাজধানীতে যেসব পার্ক বা খেলার মাঠ আছে সেগুলো ব্যবহার উপযোগী করতে হবে।

ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসির) জল-সবুজের ঢাকা নামের প্রকল্পে ১৯টি খেলার মাঠ ও পার্কে আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে। কাজ শেষ হলে কিছুটা সুফল পাবে নগরবাসী। অন্য পার্কগুলোরও উন্নয়ন করতে হবে। এ ছাড়া সংখ্যানুপাতিকভাবে রাজধানীতে পার্ক, খেলার মাঠ, বিনোদন কেন্দ্র বৃদ্ধি করতে হবে।