প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সৌজন্য সাক্ষাৎ

আগের সংবাদ

এবার মার্কিন অস্ত্রের চালান ধরা পড়ল ভেনিজুয়েলায়

পরের সংবাদ

নদী উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯ , ৮:৫০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯, ৮:৫০ অপরাহ্ণ

Avatar

নদী দখলকারী সংসদ সদস্যকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছেন উচ্চ আদালত। নদীরক্ষায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিও এই নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় নদী বাঁচাতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করেছে।

সম্প্রতি তুরাগ নদকে জীবন সত্তা অভিহিত করে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। জীবন সত্তা ঘোষণা করায় একজন মানুষ যেমন আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ পান, তেমনি নদ-নদীরও আইনগত প্রতিষ্ঠার সুযোগ হলো দেশে। দেশে নদ-নদীকে জীবন সত্তা ঘোষণার রায় এই প্রথম।

দেশের নদ-নদী জীবনমুখী রাখতে হলে দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা জরুরি। নদীমাতৃক দেশের ইতিহাস ক্রমশ ম্লান হতে যাচ্ছে। দেশের নদীগুলোর অবস্থা যে শোচনীয় তা নদীর সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায়। এর পেছনে দখলদারিত্ব থেকে শুরু করে নানা অনিয়ম জড়িত।

ইতোমধ্যে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। চট্টগ্রামের লাইফ লাইন কর্ণফুলী নদী থেকে উচ্ছেদ অভিযান চলছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর কর্ণফুলীর দুই তীরে সীমানা নির্ধারণ করে।

জরিপে কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে প্রায় আড়াই হাজার অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে ও কয়েকটি সংস্থার সমন্বয়ে কর্ণফুলীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া খুলনার ময়ূর নদী দখল করে নির্মিত বেশকিছু অবৈধ স্থাপনা ও মার্কেট গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে খবরে জানা গেছে।

খুলনা মহানগরীকে বাসযোগ্য করার জন্য ময়ূর নদী ও ২২টি খালের পুরাতন প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। নদী দখলের প্রতিযোগিতা শুধু বড় শহর-নগর-বন্দর-গঞ্জেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের সব শহরাঞ্চলেই তা ঘটছে। বুড়িগঙ্গা, কর্ণফুলী, সুরমা, কীর্তনখোলা, রূপসাসহ শহর তীরবর্তী প্রায় ১৭৪টি নদী এ আগ্রাসনে পড়েছে।

কেবল নদী নয়, শহরের ভেতরের বা পাশের খালগুলোও অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। নদী থেকে ভূমি সৃষ্টির জন্য নেয়া হচ্ছে বিচিত্র সব কলাকৌশল। সৃষ্টি করা হচ্ছে কৃত্রিম চর। নদীগ্রাস আগামী দিনে পরিবেশসহ সার্বিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রায় প্রতিদিনই নদীদূষণ ও দখলের খবর পত্রিকায় আসে। নদীদূষণ ও দখল এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পরিবেশবাদীরা আঙুল তুলছেন বিআইডব্লিউটিএর প্রতি। তাদের গাফিলতির ফল এই দুরবস্থা। আশার কথা, সরকার নদী রক্ষায় মনোযোগী হয়েছে। দখল থেকে নদী রক্ষা করতে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে।

তবে এই অভিযান নিয়মিত রাখতে হবে। পাশাপাশি দখলদারীদের মনিটরিংও রাখতে হবে। যেভাবেই হোক নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে। কারণ নদী বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে। পরিবেশ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে।