স্বামী জাহালমকে ছাড়া যেভাবে কেটেছে স্ত্রীর তিন বছর!

আগের সংবাদ

রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

পরের সংবাদ

বিচারহীনতার কারণে দেশে শিশু নির্যাতন বাড়ছে, দরকার কার্যকর সামাজিক আন্দোলন

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৯ , ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৯, ৩:১১ পূর্বাহ্ণ

Avatar

সামাজিক অস্থিরতা, অপসংস্কৃতি, আকাশ সংস্কৃতি, ঘুষ, দুর্নীতিসহ নানা কারণে দিনে দিনে সামাজিক অবক্ষয় বেড়ে গেছে। পাশাপাশি মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের অভাব ও সামাজিক অবক্ষয়ে পারিবারিক সম্পর্কে অস্থিতিশীলতার খবর ছড়িয়ে পড়ছে গণমাধ্যমেও। সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপরও। নারী ও শিশু নির্যাতনের ধরন পাল্টানোর পাশাপাশি সহিংসতাও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষত মেয়েশিশুর ক্ষেত্রে এর ভয়াবহতা আরও বেশি।
সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুরাই সব থেকে বেশি যৌন নির্যাতনের ঝুঁকির মধ্যে বাস করে।
প্রতিদিন বহুমাত্রিক যৌন ও অন্যান্য সন্ত্রাসের বলি হচ্ছে এদেশের অনেক নারী ও শিশু। এর মধ্যে বেশিরভাগই পথ এবং শ্রমজীবী শিশু। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও পরিবর্তিত আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানুষের জীবিকার সন্ধানে শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা শিশুদের অনেকাংশে অনিরাপদ জীবনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাবা-মা কাজের সন্ধানে বাইরে গেলে তাদের শিশুদের দেখভাল করার মতো কেউ থাকে না। ফলে নিপীড়নকারীরা সুযোগটির সদ্ব্যবহার করছে। এভাবেই বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দেশে শিশু নির্যাতন ও হত্যাকান্ড বেড়েই চলছে।
শিশুরা শিকার হচ্ছে ধর্ষণ, অপহরণ, গুম, খুন ও অন্যান্য অপরাধের। এমনকি অপরাধ সংঘটিত করবার জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের। অনেকে অজ্ঞতা আর সামাজিক মর্যাদা হানির আশঙ্কায় আদালত বা পুলিশের দোড়গোড়ায় পৌঁছাচ্ছেন না। গত কয়েক বছরের তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে নির্যাতিতদের মধ্যে কম বয়সী মেয়েশিশু নির্যাতনের হার ২০ শতাংশের বেশি তবে বয়স ভেদে এই সংখ্যা ৬৩ শতাংশের বেশি। এভাবেই দেশজুড়ে শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সেভ দ্য চিলড্রেন।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও ধর্ষণজনিত হত্যাচেষ্টার মূল শিকার হচ্ছে শিশুরাই। এ বছর শুধু জানুয়ারি মাসেই এমন ঘটনা ঘটেছে কমপক্ষে ৩০টি। এ ছাড়াও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে আরও ২৮জন শিশু। এ হিসাব শুধু বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া।
শিশুর প্রতি সহিংসতামূলক এসব অপরাধ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আত্মীয়, প্রতিবেশী, শিক্ষক ও পরিচিতজন দ্বারাই ঘটছে। অর্থাৎ পরিবার ও পরিচিত গন্ডীতে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে আমাদের আরও তৎপর হওয়ার জরুরী। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছে এমন সংগঠনগুলোকে জোটবদ্ধ হয়ে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে বলে মনে করে সেভ দ্য চিলড্রেন।
শিশু সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা প্রশংসনীয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারেও এর প্রকাশ দেখা গেছে। এর আগে শিশু হত্যার ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। একইভাবে শিশু নিপীড়ন ও নির্যাতনের মতো অপরাধেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। আইনের শাসন প্রয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে দেশব্যাপী শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানায় সেভ দ্য চিলড্রেন। এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকে অজ্ঞতা আর সামাজিক মর্যাদা হানির আশঙ্কায় আদালত বা পুলিশের দোড়গোড়ায় পৌঁছাচ্ছেন না। ফলে এসব অপরাধ ঘটছেই। এছাড়াও শিশু নির্যাতন বা নিপীড়ন বা ধর্ষনের মতো অপরাধ করে সহজে জামিন পাওয়া গেলে অপরাধের মাত্রা বেড়ে যায়। পাশাপাশি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধের যেসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, সেটাও যথার্থ নয়। তাই আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি দরকার সামাজিক সচেতনতা ও মূল্যবোধ বৃদ্ধি।