দোহারে মাহেন্দ্রার ধাক্কায় নিহত কলেজছাত্র

আগের সংবাদ

তাজউদ্দীন আহমদ

পরের সংবাদ

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে জনসম্পৃক্ততা দরকার

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯ , ৯:৩৩ অপরাহ্ণ

পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র এবং সমাজব্যবস্থাকে ঝাঁকুনি দেয়া নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পরও আমাদের সড়ক ও গণপরিবহন ব্যবস্থায় তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে টানা ১৭ দিন ‘বিশেষ কর্মসূচি’ পালন করেছে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।

গত শনিবার এ কর্মসূচি শেষ হয়। গাড়ি চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার নানা উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি ছিল বিশৃঙ্খলই। উল্টোপথে যেমন গাড়ি চলেছে, তেমনি যেখানে-সেখানে থেমেছে। যানজট ছিল আগের মতোই, কোনো কোনো এলাকায় তা অসহনীয় ছিল। ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষের কড়াকড়ির মধ্যেই যে সড়কে বিশৃঙ্খলা ছিল, সে চিত্র ট্রাফিক বিভাগের মামলা ও জরিমানার পরিসংখ্যানে কিছুটা পাওয়া যায়। শৃঙ্খলা পক্ষ শুরুর দিন থেকে গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে বিভিন্ন ধরনের ৯৫ হাজার ৮৩৫টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সে হিসাবে দৈনিক গড়ে ৬ হাজারের বেশি গাড়ি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন বা সড়কে বিশৃঙ্খলায় জড়িত ছিল। সবচেয়ে বেশি অন্তত ৪১ হাজার মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পাশাপাশি ১৮ হাজারের বেশি বাস-মিনিবাস ও ১০ হাজারের বেশি সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে মামলা হয়। উল্টোপথে গিয়ে মামলায় পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার গাড়ি।

বিশেষ এ অভিযানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৯২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫০ টাকা। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্যক উপলব্ধি করে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর অনুমোদন দিয়েছিলেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, উপরোক্ত মামলার পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে, সড়কে আশানুরূপ উন্নতি নেই বললেই চলে। দেশের সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থার সঙ্গে বিআরটিএ ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আমরা মনে করি, বিআরটিএ স্বচ্ছ হলে সড়ক-মহাসড়কে নৈরাজ্য কমে আসবে। বিআরটিএ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখনো এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। এই সংস্থার একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে জাল সিল ও ট্যাক্স টোকেন সৃজন, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথি গায়েব, শুল্কবিহীন গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদির দৃষ্টান্তও আছে।

বিশেষ করে পরিবহন ব্যবস্থায় যে নৈরাজ্য, তার পেছনে রয়েছে শত শত কোটি টাকার বাণিজ্য। এর সঙ্গে জড়িত সরকারি আমলা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, এমনকি ছিঁচকে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা।

এদের নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন কঠোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, সঠিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ। সর্বোপরি, সড়কে শৃঙ্খলায় জনসম্পৃক্ততা দরকার।