রাতে পরীক্ষায় বসেছে গোপালগঞ্জের ৫১ শিক্ষার্থী

আগের সংবাদ

গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে মদপানে নববধূর মৃত্যু

পরের সংবাদ

৩ মাসের জন্য বন্ধ মেরিন ড্রাইভ সড়ক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৯ , ৮:১৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৯, ৮:১৫ অপরাহ্ণ

Avatar

কক্সবাজার সমুদ্র তীরবর্তী মেরিন ড্রাইভ সড়কের কলাতলীস্থ ভঙ্গুর ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজ শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে মেরিন ড্রাইভে গাড়ি চলাচল। দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দকে ভরে থাকা পৌরসভা অংশের সড়কটির নিত্য দুর্ঘটনা রোধে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে সংস্কার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। সড়কটি সংস্কারে তিন মাস সময় লাগবে বলে জানা গেছে।

গত ২৮ জানুয়ারি পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিটি সড়ক ব্যবহারকারী সরকারি বিভিন্ন বিভাগের কাছে ৩০ জানুয়ারি পাঠানো হয়। কিন্তু গণবিজ্ঞপ্তিটি শুক্রবারই গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

ঘোষণা মতে শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে ডলফিন ‘জ’ ভাস্কর্য সড়ক মাথায় স্পট সাইন দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বিকল্প পথ না করে সড়কটি সংস্কার শুরু করায় পুরো সড়ক ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রসিদ্ধ পর্যটনস্পট হিমছড়ি, দরিয়ানগর, পেঁচারদ্বীপ ও ইনানীতে যেতে আরাকান সড়ক হয়ে কোটবাজার-সোনারপাড়া যেতে হবে দর্শনার্থীদের। এতে অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিও বাড়বে। ফলে এসব পর্যটন স্পটে দর্শনার্থীর সংখ্যা কমবে বলে মনে করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। দুই মাস পরে পর্যটন মৌসুম শেষ হলেই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া ভালো হতো বলে মনে করছেন তারা।

পাশাপাশি সড়কটি বন্ধ থাকায় মধ্যম ও দক্ষিণ কলাতলী এলাকার সহস্রাধিক শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন হেঁটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হবে। এছাড়াও সড়কটি দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহনকারী শত শত যান চলাচল করে। চলে পর্যটকবাহী যানও। এগুলো কক্সবাজার-টেকনাফ আরাকান সড়ক দিয়ে চলাচল করলে যানজট ও ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্ক রয়েছে।

সূত্র মতে, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্রের তীর ধরে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠা ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উদ্বোধন হয় ২০১৭ সালের ৬ মে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ১৯৯৬-৯৭ সালে প্রকল্পটি গ্রহণের পর থেকেই নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু মেরিন ড্রাইভের স্টার্টিং পয়েন্ট কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে বেইলি হ্যাচারি মোড় পর্যন্ত প্রায় ১৩শ মিটার সড়ক বিগত ২০০০ সালে সামুদ্রিক ভাঙনে বিলীন হয়ে গেলে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০০৫-০৬ সালে কলাতলী গ্রামের সংকীর্ণ সড়কটিকে সামান্য প্রশস্ত করে মেরিন ড্রাইভের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর সড়কটির গুরুত্ব বেড়ে গেলে রাস্তার পার্শ্ববর্তী নালা বন্ধ করে দিয়ে গড়ে তোলা হয় একের পর এক ভবন।

ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় বর্ষাকালে রাস্তার ওপর বৃষ্টির পানি জমে রাস্তা ভেঙে যায়। বর্তমানে এ সড়কে বড় বড় খানাখন্দকের সৃষ্টি হওয়ায় খুব সাবধানে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে। ভুলে গর্তে নামিয়ে দিলেই গাড়ি উল্টে যাচ্ছে বা অপর গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ দুর্ভোগ নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। সংকীর্ণতার কারণে পুরো সড়ককে ভাগ না করে কাজ শুরু করায় মেরিন ড্রাইভে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

কলাতলী সংযোগ সড়ক বন্ধ রাখার ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত হলেও পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিটি শুক্রবারই গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ফলে এনিয়ে বিভিন্ন মহলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের সদস্য ইয়ার মোহাম্মদ বলেন, মেরিন ড্রাইভ বন্ধ থাকলে হিমছড়ি ও দরিয়ানগর পর্যটন স্পটে পর্যটক কমে যাবে। কলাতলী থেকে দক্ষিণে প্রায় ২৪ কিলোমিটার এলাকার হোটেল-মোটেলসহ অন্যান্য পর্যটন ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কলাতলী শুকনাছড়ি-দরিয়ানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মামুন সওদাগর বলেন, মেরিন ড্রাইভ সড়কের কলাতলী অংশ ভেঙে যাবার পর সৈকতর বালিয়াাড়ি দিয়ে বিকল্পভাবে গাড়ি বেলি হ্যাচারি এলাকায় উঠে দরিয়ানগর ও শুকনাছড়ি এবং হিমছড়ি আসত। কিন্তু ভাঙনের শুরুর অংশটি তারকা হোটেল সায়মন দখলে নিয়ে পার্কিং স্পট করেছে। গড়ে তুলেছে সৈকতে নামার পাকা সিঁড়ি। ফলে কোনো গাড়ি চাইলেই সহজে ওই পথ দিয়ে সৈকতে নামতে পারবে না। সংযোগ সড়ক সংস্কারের জন্য বন্ধ করার আগে সমুদ্র সৈকত দিয়ে বিকল্প সড়ক তৈরি করা উচিত ছিল।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, এটি মেরিন ড্রাইভের অংশ নয়, পৌরসভার উপ-সড়ক। কিন্তু বিকল্প হিসেবে মেরিন ড্রাইভের সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহার হয়ে এসেছে এতদিন। মাত্রাতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করায় সড়কটি খুব বেশি খানাখন্দকে ভরে গেছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও মানসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সড়কটি সংস্কারে হাত দেয়া হয়েছে। বর্ষার আগেই তা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

সড়কটি ব্যবহারকারীদের তিন মাস কষ্ট পেতে হবে উল্লেখ করে পৌর মেয়র বলেন, এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। দুর্ভোগহীন যাতায়াত নিশ্চিত করতে এটি মেনে নেয়ার অনুরোধ করছি।