বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা

আগের সংবাদ

প্যাকেজিংয়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাবে স্যামসাং

পরের সংবাদ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে হাতুড়ির খট খট শব্দ

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ২৯, ২০১৯ , ৪:১৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০১৯, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ

আর মাত্র দুদিন অপেক্ষা। তারপরই শুরু হবে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৯। যার বদৌলতে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ পরিণত হবে লেখক, প্রকাশক আর পাঠকদের মিলনমেলায়।
গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং বাংলা একাডেমি অংশে স্টল নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। কেউ খট খট হাতুড়ি পেটাচ্ছেন তো কেউ রংয়ের কাজ করছেন, কেউ ইট বিছাচ্ছেন, কেউবা আবার ছাউনিতে ত্রিপল টাঙাচ্ছেন। থেমে নেই বইয়ের তাক বানানোর কাজও। তবে এখনো অনেক স্টলের কাজ ঢিমেতালে চলছে। অন্যদিকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার প্রধান স্টেজ নির্মাণ ও স্টেজের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ। এখন উপরে ত্রিপল দিতে হবে।
কাঠমিস্ত্রি মোহাম্মদ আসলাম জানান, গত বুধবার থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্টল বানানোর কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আগামীকালের মধ্যে তাদের স্টল বানানোর কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। তাই তাড়াতাড়িই শেষ করতে হবে।
একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলার আরেকটি বড় বিষয় নকশার নান্দনিকতা। ‘বিজয় ১৯৫২ থেকে একাত্তর : নবপর্যায়’ এই প্রতিপাদ্যে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে তোলা হচ্ছে মেলা প্রাঙ্গণ। যে কারণে মেলাকে বিন্যস্ত করা হয়েছে পাঁচটি চত্বরে। এগুলোর নামকরণ করা হয়েছে ভাষা শহীদদের নামে। নামগুলো হলোÑ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউর। সেই অনুযায়ী সাজসজ্জা চলছে। চত্বরগুলোয় থাকবে পৃথক পৃথক স্তম্ভ। তাতে ভাষা শহীদদের জীবনবৃত্তান্ত উপস্থাপিত হবে, থাকবে প্রতিকৃতি। প্রতিটি চত্বরের স্টলে রংয়ের ব্যবহারে থাকবে তারতম্য। লাল, সবুজ, নীল, হলুদ ম্যাজেন্ডায় সজ্জিত হবে এসব চত্বর। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণটি উৎসর্গ করা হয়েছে শহীদ বরকতের নামে।
এবারের গ্রন্থমেলা নানা দিক থেকে আধুনিকায়নে বিশেষ মনোযোগ দেয়া হচ্ছে। আয়োজক বাংলা একাডেমি তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে মেলায় আসা বইপ্রেমীদের বই ও স্টলসহ নানা তথ্য সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। ডিজিটাল মনিটরে সারাক্ষণ প্রদর্শিত হবে বিভিন্ন তথ্য ও নির্দেশনা। শুধু তাই নয়, আর্থিক লেনদেনবিষয়ক দেশে চলমান সব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্রেতারা বই কেনার সুযোগ পাবেন। থাকছে জিপিএস ( গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) সুবিধাও।
প্রস্তুতি নিয়ে গ্রন্থমেলার সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিগত দিক থেকে মেলাকে একটি সমৃদ্ধ জায়গায় নেয়া হবে। সে লক্ষ্যে মেলার নকশা, সাজসজ্জায় ভিন্নতা আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো উন্মোচিত হবে মেলার লোগো। পাঠকের সুবিধার্থে মেলার দুই প্রবেশপথ টিএসসি ও দোয়েল চত্বরে থাকবে দুটি বিশাল মনিটর। সেই মনিটরের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা খুঁজে পাবেন স্টল ও বইসহ মেলাবিষয়ক নানা নির্দেশনা। তিনি আরো বলেন, প্রথমবারের
মতো মেলাকে কেন্দ্র করে খোলা হয়েছে একাডেমি থেকে আলাদা ওয়েবসাইটও। এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাঠকরা স্টলের নাম কিংবা নম্বর ব্যবহার করে জানতে পারবেন কোথায় সেটির অবস্থান।
তিনি আরো বলেন, বাংলা একাডেমি এবার শুরু থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। সে কারণে এবার মেলার স্টলের আবেদনপত্র এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে ফলাফল, লটারি, স্টল ভাড়া- সবকিছুই করা হয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এবার মোট ৪৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে মেলায়। এদের মধ্যে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ পেয়েছে ২৪টি প্রতিষ্ঠান।