সাহসিকতা-বীরত্বে পদক পেলেন ৩৪৯ পুলিশ

আগের সংবাদ

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নির্বাচন হাইকোর্টে স্থগিত

পরের সংবাদ

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা কাল

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ২৯, ২০১৯ , ৭:২৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০১৯, ৭:২৩ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানো, কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আগামীকাল বুধবার (৩০ জানুয়ারি) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে বেলা সাড়ে ১১টায় চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্য মুদ্রানীতি (মনিটরি পলিসি স্টেটমেন্ট) ঘোষণা করবেন গভর্নর ফজলে কবির।

জানা গেছে, বর্তমানে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ তলানিতে রয়েছে। এখন বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নতি করতে না পারলে চলতি অর্থবছরে সরকার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে না। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে ঋণপ্রবাহ তথা বিনিয়োগে গতি ফেরানো যায় সে বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাবে নতুন মুদ্রানীতিতে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে প্রকৃত ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ। যা ঘোষিত মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। ডিসেম্বরের ঋণ প্রবৃদ্ধি গত ৩৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১৫ সালের অক্টোবরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ২২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে বেসরকারি খাতে ঋণ কমাটা অর্থনীতির জন্য খুব নেতিবাচক। কেননা এ রকম প্রবণতা থাকলে কর্মসংস্থান কমবে। অর্থনীতির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।

‘বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়া মুদ্রানীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বেশ কয়েকটি কারণে ঋণের প্রবাহ কমছে। প্রথমত, ঋণের চাহিদা কম, আবার হঠাৎ করে কেউ বিনিয়োগে যেতে চাচ্ছে না। এছাড়া আমানত কম, তারল্য সংকটসহ নানা কারণে ব্যাংকাররা এখন ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে চাচ্ছেন না। অন্যদিকে, বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাংক ঋণে ঝুঁকছে সরকার। শুধু ব্যাংক থেকে নয়, সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও ঋণ নিচ্ছে। সব মিলিয়ে মুদ্রা সরবরাহ এখন সংকোচিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেসরকারি খাতের ঋণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সরকার যেন ঋণ বেশি না নেয় সেই বিষয়টিও সমন্বয় করতে হবে। কারণ সরকার বেশি খরচ করলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে।

সাবেক এ গভর্নর আরও বলেন, ঋণের প্রবাহ বাড়াতে হলে ব্যাংকের সেবার মান উন্নত করতে হবে। আমানতের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে নয়-ছয় করলে চলবে না। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সমন্বয় করতে হবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি বছর দু’বার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। ছয় মাস অন্তর এ মুদ্রানীতি একটি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাইয়ে এবং অন্যটি জানুয়ারিতে প্রণয়ন করা হয়। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রার সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।