আশুলিয়ার ইটবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তুরাগে, নিহত ৪

আগের সংবাদ

চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ধর্ষক নিহত

পরের সংবাদ

বিদেশে পলাতক ‘ইয়াবা ডন’দের আত্মসমর্পণের হিড়িক

আসছেন আরো ১৫ জন

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ২৯, ২০১৯ , ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০১৯, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ

Avatar

এক দশকের বেশি সময় ধরে ইয়াবার স্বর্গরাজ্য কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা। এখানকার শত শত মানুষ ইয়াবার ব্যবসা করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন। গড়ে তুলেছেন রাজ প্রাসাদ। কিন্তু মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে বদলে যায় প্রেক্ষাপট। একের পর এক বন্দুকযুদ্ধে নিহত হতে থাকে মাদক ব্যবসায়ীরা। এরপরই নড়েচড়ে বসে ‘ইয়াবা ডন’রা। জীবন বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তারা। পরে পুলিশের সবুজ সংকেতে ৬৩ জন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। যার মধ্যে ৩০ জন বিদেশ থেকে এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন আরো ১৫ গডফাদার, যারা দেশে থেকেই ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। পরে প্রাণের ভয়ে দুবাই, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়ে ইয়াবা ব্যবসা চালাতেন। সম্প্রতি অন্যদের আত্মসমর্পণের খবরে তারাও দেশে ফিরে আসছেন। ১৫ ফেব্রæয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের আগেই তারা দেশে এসে পুলিশ হেফাজতে যাবেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, একের পর এক অভিযানের পর টেকনাফের অনেক গড ফাদারসহ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন। ইতোমধ্যে সাবেক এমপি বদির তিন ভাই, উপজেলা চেয়ারম্যানপুত্র, পৌর কাউন্সিলর, অর্ধডজন ইউপি সদস্যসহ ২৫ গডফাদার ও ৩৮ শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী পুলিশ হেফাজতে এসেছেন। তাদের রাখা হয়েছে জেলা পুলিশের সেফহোমে। এদের মধ্যে ৩০ জন বিদেশ থেকে এসেছেন। যাদের মধ্যে সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির তিন ভাই শফিকুল ইসলাম প্রকাশ শফিক, আবদুল আমিন ও ফয়সাল রহমান এবং আলী আহমদ চেয়ারম্যানের ছেলে আবদুর রহমান দুবাই থেকে এসেছেন।
অন্যদের মধ্যে একরাম হোসেন, আবদুল আমীন, নুরুল হুদা মেম্বার, এনামুল হক মেম্বার, হাসান আবদুল্লাহও দুবাই মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরেছেন। ইয়াবা ব্যবসায়ী সাইফুল আলমসহ আরো ১৫ জন বিদেশ থেকে আসছেন। তাদের নামের তালিকা করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের আগেই তারা দেশে এসে পুলিশ হেফাজতে যাবেন।
আত্মসমর্পণের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসাইন ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে অনেকেই যোগাযোগ করেছেন আত্মসমর্পণের জন্য। বিদেশ থেকেও অনেকে যোগাযোগ করছেন। আমরা তাদের স্বাগত জানিয়েছি। যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আত্মসমর্পণ করবেন, সেদিনই বলা যাবে আসলে কতজন আত্মসমর্পণ করছেন।
এদিকে গড ফাদারসহ বেশ কয়েকজন ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণের পরও থেমে নেই টেকনাফের ইয়াবার চালান। রুট পরিবর্তন করে প্রতিদিনই সীমান্ত পেরিয়ে ইয়াবা আসছে বলে স্থানীয় একাধিক লোক দাবি করেছেন। টেকনাফ শহরেও হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা। ছোট ট্যাবলেট ৮০ টাকা ও বড় ট্যাবলেট ১৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কৌশল পাল্টে ফেলেছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও পুলিশের দাবি সীমান্ত পেরিয়ে এখন আর মাদক আসছে না। আগে যেগুলো আসতো সেগুলো স্টক করে রেখে এখন হালকা পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে।
গতকাল দুপুরে টেকনাফের বেশ কয়েকটি মাদক স্পট ঘুরে খালি দেখা যায়। পরে এই প্রতিবেদকের কথা হয় রজব ও জুবায়ের নামে দুই মাদকসেবীর সঙ্গে। তাদের কথায় স্পষ্ট হয় কেন ফাঁকা মাদকের সাম্রাজ্য। রজব জানান, পুলিশ এখন কড়াকড়ি হয়ে গেছে। তাই কেউ যাতে বিক্রেতার খোঁজ দিতে না পারে সে জন্য একজন সহকারী রাখেন বিক্রেতা। ওই সহকারী বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। তিনিই টাকা নিয়ে ইয়াবা এনে দেন। ভেতরে কে আছে সে বিষয়ে আমরা কিছু জানতে পারি না। প্রতিদিনই ইয়াবা কেনেন কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে জুবায়ের বলেন, বেশিরভাগ ইয়াবাসেবী কমপক্ষে এক সপ্তাহের ইয়াবা একদিনে কিনে রাখে। ফলে ঝামেলায় পড়তে হয় না তেমন।

সিন্ডিকেটের খোঁজে পুলিশ : স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেসব গড ফাদার আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের সিন্ডিকেটই এখনো ইয়াবা আনছে। কিন্তু ওই গড ফাদারদের নাম পুলিশের খাতায় নেই। এ বিষয়ে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ভোরের কাগজকে বলেন, পুলিশের তৎপরায় মাদক ব্যবসায়ীরা আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছে। কারণ ৮ মাসের মাদকবিরোধী অভিযানে গতকাল পর্যন্ত ৩৯ জন নিহত হয়েছে। কাউকেই ছাড় দেয়া হচ্ছে না। তবে, গড ফাদাররা আগে ৫৫টি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা আনত। ওই সিন্ডিকেটগুলো কিছু কিছু এখনো রয়ে গেছে। তাদের ধরতে পারলে টেকনাফ প্রায় ইয়াবামুক্ত হয়ে যাবে।

বন্দুকযুদ্ধে নিহত আরো ২ : মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার ভোরে টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় দুই দল ইয়াবা কারবারির মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- হোয়াইক্যং মরিচ্যাঘোনা মিনাবাজার এলাকার ফরিদ আলমের ছেলে দেলোয়ার হোসেন রুবেল (২০) ও ঝিমংখালী এলাকার মৃত সফর মিয়ার ছেলে রফিক (৫৫)। পুলিশের দাবি ইয়াবার টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দুই দল ইয়াবা কারবারির মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুইটি দেশীয় অস্ত্র ও চার হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ।

টেকনাফ থানার ওসি জানান, নিহতদের নামে থানায় মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র আইনে চারটি করে মামলা রয়েছে।