যথাযথ মনিটরিং দরকার

আগের সংবাদ

আ.লীগ-যুবলীগ সংঘর্ষ: শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ১০

পরের সংবাদ

অতিথি পাখিদের মেলা ও পরিবেশ

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ২২, ২০১৯ , ৯:০৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০১৯, ৯:০৯ অপরাহ্ণ

ড. মো. হুমায়ুন কবীর

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশে সারা বছরই কোনো কোনো মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। কৃষিমেলা, সবজিমেলা, ফলমেলা, মাছমেলা, গাছমেলা, বাণিজ্যমেলা, পিঠামেলা, বৈশাখীমেলা, এমনকি পর্যটনমেলা- আরো কত কী মেলা তা বলে শেষ করা যাবে না। এক কথায় বলতে গেলে মেলা বাঙালি কালচারের সঙ্গে মিশে গিয়ে এমন একটি কালচারে পরিণত হয়েছে যা খুবই গুরুত্ব বহন করে।

আর এ কথা ঠিক যেভাবেই এসব মেলা শুরু হয়ে থাকুক না কেন প্রত্যেকটি মেলার রয়েছে আলাদা গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা। এমনি একটি মেলা হলো পাখিমেলা। সময়ের ব্যবধানে এটি অন্যতম প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে পরিবেশবাদী একটি মেলায় পরিণত হয়েছে।  বলছিলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত ১১ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া পাখিমেলার কথা।

পত্রিকান্তরে এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি সেখানে ওইদিন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ১৮তম পাখিমেলা। অর্থাৎ যদি প্রতি বছরে তা একবার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে তাহলে ১৭ বছর আগে থেকে তা শুরু হয়েছে যা মোটেও কম সময় নয়। আর যাদের উদ্যোগে এ মহৎ কার্যটি সম্পন্ন হয়ে থাকে তাদের আন্তরিক অভিনন্দন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর শীতকালে যে অতিথি পাখিকুলের আগমন ঘটে তা দেশবাসী সবাই কমবেশি অবগত। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের যারা আছেন তারা তো এ অতিথি পাখি গমনাগমনের বিষয়টি উপভোগ করেনই। সে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমনকি বিদেশের অনেক জায়গা থেকেও ছুটে আসেন মানুষ সেখানকার ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি ওঠা-নামার নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য।

পাখিগুলো সুদূর ইউরোপ, আফ্রিকা থেকে হাজার হাজার মাইল অর্থাৎ সাত সাগর তেরো নদী পাড়ি দিয়ে চলে আসে। শীত চলে গেলে আবার তারা ফিরে যায়। কী মধুর প্রাকৃতিক যোগসূত্র! বশে^ প্রায় দশ হাজার প্রজাতির পাখি বিদ্যমান। তার মধ্যে প্রায় দুই হাজারেরও মতো পাখি অতিথি বা পরিযায়ী ধরনের।

এসব পাখি নিয়ে এখন অনেক গবেষণা চলছে। অপরদিকে বলা যায় যেখানে মনে করবে তাদের বসবাসের জন্য উপযুক্ত জায়গা রয়েছে সেখানেই তারা এসে আশ্রয় নেবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখন আর সেদিন নেই। যেখানেই এসব অতিথি পাখি এসে নিরাপদ আশ্রয়স্থল খুঁজছেন সেখানেই একদল নির্মম শিকারির কবলে পড়ছে তারা।

সমতলভাগে বলতে গেলে ঢাকার অতি সন্নিকটে সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যে অতিথি পাখির আগমন ঘটে, এটি সারাদেশের একটি জায়গা মাত্র। তার পাশাপাশি বৃহত্তর সিলেটের হাওরাঞ্চলে এর আধিক্য সবচেয়ে বেশি। কারণ সেখানে হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, বাইক্কার বিল ইত্যাদি এলাকায় এসব শীতের পাখির বিচরণক্ষেত্র।

তবে আগেই বলেছি এসব স্থানে আর পাখিকুল নিরাপদে বসবাস করতে পারে না। সরকার থেকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক এসব এলাকা পাখ-পাখালি বসবাসের জন্য অভয়ারণ্য ঘোষণা করলেও তা মানছেন না কেউ। কারণ সেখানে দেদার অতিথি পাখি শিকার করছে একদল মুনাফাখোর অবিবেচক শিকারির দল।

শুধু তাই নয়, পাখি বিশ্রাম নেয় গাছ-গাছালির ডালে বসে। তা ছাড়া অনেক পাখি আছে যারা ডিম পাড়ে গাছের গোহায়, নিরাপদ বাসা তৈরি করে গাছের ডালে, গাছের পাতা কিংবা খরকুটো দিয়ে। কিন্তু এখন বনজঙ্গল উজার হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে হুমকির মুখে পড়ছে পাখির নিরাপদ আবাসস্থল।

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনসহ যে কোনো স্থানের গাছ-গাছালি উজাড় হয়ে যাওয়ার কারণে অতিথি পাখির আগমন দিন দিন কমে যাচ্ছে। আর তা আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়ছে। কারণ জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশের সব জীবজন্তু মানুষ পক্ষীকুল সবকিছু একে অপরের পরিপূরক হয়ে থাকতে হবে।

তাই এমন পাখিমেলা করে বাংলাদেশে অতিথি পাখির গুরুত্ব অনুধাবন করার বিষয়টি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এভাবে মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে উঠবে এবং প্রকৃত অর্থেই রক্ষা পাবে অতিথি পাখিসহ অন্য সব পক্ষীকুল- সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ড. মো. হুমায়ুন কবীর : ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা