ক্ষুব্ধ গাভাস্কার

আগের সংবাদ

ভাইস চেয়াম্যান পদে লড়তে চান যুবলীগ নেতা শেখ ফরিদ

পরের সংবাদ

জমে উঠেছে বাণিজ্য মেলার কেনাকাটা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০১৯ , ৪:৩১ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০১৯ , ৪:৩১ অপরাহ্ণ

বাণিজ্যমেলা শুরুর প্রথম দিকে দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সেই তুলনায় বিক্রি ছিল কম। দিন গড়ানোর সঙ্গে দর্শনার্থীর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ক্রেতার সমাগম। অধিকাংশই কোনো না কোনো ব্যাগ হাতে ফিরছেন মেলা থেকে। দোকানিরা জানান, আগের দিনগুলোর তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল রবিবার বাণিজ্যমেলা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
মেলা প্রাঙ্গণে দেখা যায়, দলে দলে মানুষ শুধু মেলার দিকে ছুটছেন। কেউ এক স্টল থেকে আরেক স্টলে ঘুরে ঘুরে ছবি তুলছেন, আবার কেউ গৃহস্থালির পণ্যসামগ্রী নিয়ে হাঁটছেন। প্রতি বছরের মতো এবারো মেলায় বিভিন্ন দেশের পণ্যের সম্ভার নিয়ে বিদেশি প্যাভিলিয়নের একটা কর্নার থাকে। এবারো রয়েছে। তবে এবার বিদেশি প্যাভিলিয়নের সংখ্যা খুব বেশি নয়। থাইল্যান্ড, জাপান, ভারত, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের প্যাভিলিয়নে মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে। এ ছাড়া মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পছন্দের তালিকায় প্রতিদিনই শীর্ষে গৃহস্থালি সামগ্রী। নারী-পুরুষ সবার হাতে দেখা যায় বিশাল ব্যাগভর্তি গৃহস্থালি সামগ্রী। তবে মেলায় ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পাট পণ্যের দিকে। মন্ত্রণালয়ের অধীনে হস্থশিল্পে যেসব প্রতিষ্ঠান সদস্যভুক্ত তাদের ২৬টি স্টল এক প্যাভিলিয়নে সাজানো হয়েছে। নারীদের ছোট হ্যান্ড ব্যাগ থেকে শুরু করে বড় শপিং ব্যাগ এবং কার্পেট পাওয়া যাচ্ছে এই স্টলে। পরিবেশবান্ধব পাট পণ্যের সম্ভারে দামেও থাকছে চামক। মাত্র ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের সামগ্রী পাওয়া যাবে এই স্টলে। দোকানিরা বলছেন, মেলার প্রথম দিকে বেচাকেনা একটু কমই ছিল। কিন্তু মেলার দিন যত শেষের দিকে আসছে ততই ক্রেতাদের আগমন ঘটছে বেশি। আগে যারা পণ্য দেখতেন এখন তারা পণ্য কিনছেন। এ ছাড়া আগের তুলনায় বেচাকেনা আরো বেড়েছে। মেলার শেষ দিকে এই বিক্রির মাত্রা আরো বহুগুণ বেড়ে যাবে।
মেলা প্রসঙ্গে জানতে কথা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের স্টলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তারা ভোরের কাগজকে জানান, মেলায় আসার মুখ্য উদ্দেশ্য দেশি পণ্য সবার মধ্যে পরিচিত ঘটানো। পাট দিয়েও যে অনেক ধরনের ব্যবহার সামগ্রী বানানো সম্ভব সেটা এখানে না এলে বোঝা যাবে না। আমাদের এই পণ্য অনেক দেশেই রপ্তানি হচ্ছে। দেশেও পাটের ব্যবহার বাড়াতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এদিকে মেলা ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় ঐতিহ্যবাহী শিল্পের প্রতি ঝুঁঁকছে মানুষ, ব্যাপক আগ্রহভরে হাতের তৈরি বিভিন্ন পণ্য দেখছেন ক্রেতা দর্শনার্থীরা। শুধু যে দেখছেন, তা নয় সাধ্যমতো কিনছেনও তারা। ফলে উৎসাহিত হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। বাঁশ, কাঠ, খড় আর পাটসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপকরণে আকর্ষণীয় প্যাভেলিয়ন নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছেন শতরঞ্জির প্যাভেলিয়ন কারুপণ্য। এই কারুপণ্যের প্রধান কার্যালয় রংপুরের গুপ্তপাড়ায়। প্রত্যেক বছরই বাণিজ্যমেলায় অংশ নেয় কারুপণ্য। এর মধ্য দিয়ে দেশ ও বিদেশের কাছে তুলে ধরা হয় রংপুরের ঐতিহ্য কারুশিল্পকে। প্যাভেলিয়ন ঘুরে দেখা যায়, নানা জাতের শতরঞ্জির কার্পেট, ওয়ালম্যাট, পাপস, টেবিলম্যাট, ফ্লোরম্যাট, জামা, ব্যাগসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে এসব পণ্য। ক্রেতাদের আরো বেশি আকর্ষণ করতে ছাড়ও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফ্লোরম্যাট দুটি কিনলে দেয়া হচ্ছে একটি ফ্রি। আবার অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে দেয়া হয়েছে ৫০ শতাংশ ছাড়।
কারুপণ্যের প্যাভিলিয়ন কর্মকর্তারা জানান, মেলায় অংশ নিয়ে আমরা বেশ খুশি। কারণ শুরু থেকেই ক্রেতাদের বেশ সাড়া মিলছে। প্রতিদিন যে পরিমাণ পণ্য বিক্রি হচ্ছে এতে আমরা আশাবাদী। মেলার শেষ দিকে আরো বেশি বিক্রি বাড়বে। যে পণ্য সেগুলো সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রয়োজনই মেটাতে পারে। সবার পছন্দসই পণ্য নিয়েই মেলায় হাজির হয়েছি।
মেলায় কথা হয় রাজধানীর বারিধারা থেকে আসা গৃহিণী আয়েশা বেগমের সঙ্গে। তিনি ভোরের কাগজকে জানান, বাণিজ্যমেলায় শতরঞ্জি কিনতেই এসেছেন তিনি। কেননা, মেলায় সবচেয়ে লেটেস্ট শতরঞ্জিগুলো পাওয়া যায়। এখানেই বেসরকারি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, দুটি ফ্লোরম্যাট কিনেছি। এগুলো আমাদের দেশীয় ঐতিহ্য। শিল্পীর হাতে ছোঁয়া রয়েছে এসব শতরঞ্জিতে। তাই এগুলো কেনার মজাটাই আলাদা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়