সংসদে ১৪ দলের শরিকরা বিরোধী দলের আসনে বসবেন: কাদের

আগের সংবাদ

নারী জাগরণের বার্তা দিল ‘আয়না বিবির পালা’

পরের সংবাদ

রাজনগরের চা শ্রমিকরা বিশেষ বরাদ্দের প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১৭, ২০১৯ , ৪:০৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০১৯, ৪:০৭ অপরাহ্ণ

জেলার রাজনগরের ১২টি চা বাগানের দুস্থ-গরিব চা শ্রমিকদের বিশেষ বরাদ্দের টাকা বিতরণ কার্যক্রম আটকে আছে। কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ সূত্রতার কারণে ১ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত রয়েছেন ২ হাজার ৪৭৮ জন চা শ্রমিক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে আর্থিক সহায়তা দানে নগদ অর্থ বিতরণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিতরণের মেয়াদ শেষ হলেও উপজেলা সমাজসেবা অফিসের গড়িমসির কারণে রাজনগর উপজেলার চা শ্রমিকরা তাদের অনুদান পাননি।
চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটি গত ২৩ জুলাই সভা আহŸান করে। ওই সভায় জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, বাগান ম্যানেজার, পঞ্চায়েতপ্রধান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে দায়িত্বরত ইউনিয়ন সমাজ কর্মী সম্মিলিতভাবে বিভাজন অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করার সিদ্বান্ত নেয়া হয়।
এদিকে গত ২৮ আগস্ট ৪১.০১.৫৮৮০.০০০. ৩৩.১১৩.১৮-১৬২নং স্মারকে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার স্বাক্ষরিত পত্রে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা ১০ কর্মদিবসের মধ্যে পাঠানোর তাগিদ দেয়া হয়। অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেকের মাধ্যমে অনুদান পাওয়ার জন্য ৩০ অক্টোবর ৪১.০১.৫৮৮০.০০০.৩৩.১১৩.১৮-২১১নং স্মারকে একই কর্মকর্তার স্বাক্ষরে কর্মসূচি বস্তবায়নের লক্ষ্যে সুবিধাভোগীদের নামে ১০ টাকা জামানতের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলার বিষয়টি অবহিত করে পত্র দেয়া হয়। শ্রমিকরা জানান, তারা যথারীতি ব্যাংক হিসাব খুললেও আজ পর্যন্ত তাদের ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা জমা হয়নি। জেলার অন্য সব উপজেলার চা বাগানের শ্রমিকরা তাদের আর্থিক অনুদান পেয়ে থাকলেও রাজনগর উপজেলার ১২টি বাগানের শ্রমিকরা বঞ্চিত রয়েছেন। বাগানগুলো হচ্ছেÑ উত্তরভাগ ইউনিয়নের আমিনাবাদ, চাঁনভাগ, উত্তরভাগ, ইন্দানগর, বড়তল। এ ৫টি চা বাগানের নির্বাচিত শ্রমিক ৯৪৯ জন। মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ইন্দেশ্বর, হাজীনগর, উদনা, ইটা, করিমপুরÑ এই ৫টি বাগানের নির্বাচিত শ্রমিক ৭৮৪ জন। টেংরা ইউনিয়নের রাজনগর ও মাথিউড়া চা বাগানের নির্বাচিত শ্রমিক ৭৪৫ জন। মোট ২ হাজার ৪৭৮ জন চা শ্রমিকের নামের তালিকা নির্বাচন করে কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বিভিন্ন বাগানের শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা অভিযোগ করে বলেন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে ৪ মাস পার হলেও আমরা এ অনুদান পাইনি। কথা হয় উপজেলার আমিনাবাদ ও করিমপুর চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি গণেশ কুরমির সঙ্গে। তিনি বলেন, ছবি দেয়া হয়েছে, ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। কিন্তু আমরা কোনো টাকা পাইনি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করলে তারা বলেন, হয়ে যাবে।
মাথিউড়া চা বাগানের শ্রমিক নেতা বাবু লাল বলেন, এখনো আমাদের অনুদান দেয়া হয়নি। আমাদের নানা অজুহাত দেখানো হচ্ছে। তারা দেব দেব বলে দিচ্ছেন না। রাজনগর চা বাগানের শ্রমিক নেতা ইউপি সদস্য বিপ্লব গোয়ালা জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, দেয়া হবে। কিন্তু দেয়া হচ্ছে না। ইটা চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি নাসিম আহমদ বলেন, আজকাল করে করে কর্তৃপক্ষ ৪ মাস পার করে দিল। রাজনগর সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলে
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সুমন দেবনাথ বলেন, তালিকা আসতে দেরি হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ অনুমোদনেও দেরি হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে সমাজসেবা অফিসারের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করলে তিনিও বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।