ফেসবুকে প্রতারণার অভিযোগে আটক ৫

আগের সংবাদ

নাইরোবিতে জঙ্গি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১

পরের সংবাদ

বিপিএলের মাঠজুড়ে ‘মা’

আতিকুর রহমান :

প্রকাশিত হয়েছে: January 17, 2019 , 11:04 am

মনজুড়ে, মনের মাঠজুড়ে শুধুই মা। মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কোনো সীমা নেই। নেই প্রকাশের আভিধানিক ভাষা। আবেগ আর অনুভূতির রঙ নিয়েই শুধু মাকে সাজানো যায়। গতকাল বুধবার মা এবং মায়ের প্রতি ভালোবাসার ভিন্ন রকম বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে রাজশাহী কিংস। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে নয়। নিজস্ব ভাবনার জগৎকে আরো সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ২০১৯ আসরে সিলেট পর্বের তৃতীয় ম্যাচে গতকাল নিজেদের নাম ফেলে দিয়ে মায়ের নামে জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল রাজশাহী কিংসের ক্রিকেটাররা। মায়ের নামের জার্সি গায়ে প্রতিযোগিতায় নেমে ঢাকা ডায়নামাইটসকে ২০ রানে হারিয়ে বিজয়ও ছিনিয়ে নিয়েছেন কিংস ক্রিকেটাররা।
বিশ্ব ক্রিকেট বা ফুটবলে ব্যাপারটা খুব প্রচলিত না হলেও ২০১৬ সালের অক্টোবরে স্টার স্পোর্টসের উদ্যোগে ভাইজাগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের একটি ম্যাচে নিজেদের মায়ের নাম লেখা জার্সি পরে খেলতে নেমেছিল ভারত। এরপর ২০১৮ সালে মা দিবসে ইউনেস্কোর উদ্যোগে স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে বার্সেলোনার ফুটবলাররা মায়েদের নামে জার্সি পরে খেলতে নামেন।
কিন্তু গতকাল মাকে নিয়ে জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো দিবস ছিল না। ছিল না কোনো প্রতিষ্ঠানিক বিশেষ উদ্যোগ। প্রতি দিন প্রতিক্ষণই মায়ের জন্য ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার ধারাবাহিকতায় কিছুটা ব্যতিক্রমী ধারা আনার লক্ষ্যে গতকাল জার্সি থেকে নিজেদের নাম বাদ দিয়ে রাজশাহী কিংসের ক্রিকেটাররা লিখেছিলেন মায়ের নাম। মেহেদী হাসান মিরাজের জার্সিতে লেখা ছিল তার মায়ের নাম মিনারা। এভাবে মুস্তাফিজুর রহমানের জার্সিতে মাহমুদা, জাকির হাসানের জার্সিতে তাহমিনা, আরাফাত সানির জার্সিতে নারগিস, কামরুল ইসলাম রাব্বির জার্সিতে সালমা, মারশাল আইয়ুবের জার্সিতে সুমসাদ, শাহরিয়ার নাফিসের জার্সিতে সালমা, সেকুগে প্রসন্নর জার্সিতে লাখা, দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান ক্রিস্টিয়ান জংকারের জার্সিতে মারনজোরিই, ইসুরু উদানার জার্সিতে হিমা এবং রায়ান টেন ডেসকাটের জার্সিতে লেখা ছিল ইংরিদ। শুধু খেলোয়াড় নন, কোচ ও দলের অন্যান্য অফিসিয়ালদের জার্সির পেছনেও ছিল যার যার মায়ের নাম।
এর আগে গত মঙ্গলবার নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাজশাহী কিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ম্যাচে রাজশাহী কিংস তাদের জার্সিগুলোতে তাদের মায়ের নাম বহন করবে। আমরা সবাই আমাদের জীবনে মায়েদের ভ‚মিকা ও অবদান সম্পর্কে জানি, জার্সিগুলোতে মায়ের নাম বহন করার কোনো বিশেষ উপলক্ষ বা দিনের প্রয়োজন নেই।
মায়ের নামে জার্সি সম্পর্কে রাজশাহী কিংসের মিডিয়া ম্যানেজার অম্লান হোসেন মোস্তাকিম জানান, আমরা একটু আলাদা কিছু করার চেষ্টা করি। আমাদের প্রধান নির্বাহী আজিজুল হক প্রথম ভাবেন একটা দিন মায়েদের উৎসর্গ করা যায় কি-না। সেই ভাবনা থেকেই আমরা মায়েদের নামে জার্সি বানিয়েছি। ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে আজকের (গতকাল) ম্যাচটা মায়েদের উৎসর্গ করলাম।
রাজশাহী কিংসের ক্রিকেটার ক্রিস্টিয়ান জংকারের মায়ের স্তন ক্যান্সার ছিল। কিন্তু জংকারের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে অনুপ্রেরণা দিয়ে গিয়েছেন তার মা। জংকার বলেন, তার মা তাকে সবসময় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, মা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু তার কঠিন দিনগুলোতে তিনি হাল ছাড়েননি।
৫৯ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামেন সৌম্য সরকার। তার জার্সিতে লেখা ছিল মায়ের নাম নমিতা। সৌম্য বলেন, সবসময় সবাই মায়ের নাম করে খেলতে যান, মায়েদের কথা স্মরণ করেন। এই উদ্যোগটা আসলেই ভালো, আমরা আমাদের মায়ের নাম লেখা জার্সি পরে খেলতে নামছি ভেবে ভালো লাগছে। অন্য রকম একটা অনুভ‚তি কাজ করছে। আমরা সবসময় বলি, জয়টা মাকে উৎসর্গ করতে চাই। এবার সত্যি সত্যি সেটি করতে যাচ্ছি। এটি আমাদের মায়েদের জন্য সম্মান জানানোর দারুণ সুযোগ।
রাজশাহী কিংসের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, এমন একটা অভিনব কাজ আমার জন্য দারুণ ও নতুন অভিজ্ঞতা। অবশ্যই মায়ের জন্য কিছু করতে পারা আমাদের জন্য বড় বিষয়। এই ম্যাচের বিজয় আমরা মায়েদের উৎসর্গ করেছি।
প্রধান কোচ ল্যান্স ক্লুজনার বলেন, আমার মা আমার কাছে সবসময়ই স্পেশাল একজন। প্রতিদিনই মা আমার খোঁজখবর রাখেন। আমিও প্রতিদিন মায়ের খবর রাখি। প্রায়ই আমরা আমাদের মাকে ভুলে যাই, আমরা যদি আমাদের আশপাশের মানুষের খোঁজ রাখতে পারি, তাহলে মায়ের খোঁজ কেন রাখতে পারব না। আমি প্রত্যেককে অনুুরোধ করছি, দিনে অন্তত একবার মায়ের সঙ্গে কথা বলুন, আপনার মা কৃতজ্ঞ থাকবে।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের বিষয়ে অনুভ‚তি জানাতে গিয়ে রাজশাহী কিংসের ক্রিকেটার কামরুল ইসলাম রাব্বির মা সালমা বেগম বলেন, আমার ছেলে মাকে মনে করে মায়ের নাম লেখা জার্সি পরে খেলছে; আমি তো খুবই খুশি। ছেলে বলেছে, আমি যেন দোয়া করি, যাতে সে ভালোভাবে খেলতে পারে। মায়ের দোয়া তো সবসময়ই থাকে ছেলের জন্য।