মানবকণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবু বকর চৌধুরী আর নেই

আগের সংবাদ

পৌষ সংক্রান্তিতে সাকরাইনে মাতল পুরান ঢাকা

পরের সংবাদ

বিশাল লক্ষ্যমাত্রা : রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্ধেকেরও নিচে

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১৫, ২০১৯ , ১২:০৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০১৯, ১২:০৩ অপরাহ্ণ

Avatar

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫ মাসে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ হিসাবে নভেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বছর শেষে লাখো কোটি টাকা ঘাটতির মুখে পড়বে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া বিভিন্ন খাতে কর সুবিধা দেয়া, ভ্যাট অব্যাহতি, উৎস কর কমে যাওয়া, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, বৈদেশিক অর্থছাড় কমে যাওয়ায় নানা কারণে কমেছে রাজস্ব আদায়। তবে এনবিআর সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। আর এ সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭৯ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত ৫ মাসে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ হাজার ৯৯২ কোটি।
এদিকে গত পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায়ের গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭.১৫ শতাংশ। এর আগের বছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬.৫২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে আয়কর খাতে। এ খাতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। এ সময় আদায় হয়েছে ২১ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা। আয়কর খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১০.৮৯ শতাংশ।
আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে ৫ মাসে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৬ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ৬.০৮ শতাংশ। সবচেয়ে কম রাজস্ব আদায় হয়েছে ভ্যালু এডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) খাতে। এ খাতের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৩১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। ভ্যাটে প্রবৃদ্ধি ৫.৫৫ শতাংশ। এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতির বড় কারণ হলো প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক সংস্কার কার্যকর হয়নি। এ ছাড়া রাজস্ব কমার কারণ হিসেবে তারা বলছেন, দেশের বৃহৎ ব্যাংক খাতে করপোরেট কর কমানো হয়েছে ২.৫০ শতাংশ, পোশাক শিল্পের বিভিন্ন খাতে ভ্যাট অব্যাহতির পাশাপাশি কমানো হয়েছে উৎস কর। এতে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়বে এনবিআর।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজে ধীরগতি ছিল। নির্বাচনের আগে প্রকল্পের অর্থছাড় অনেকটা বন্ধ ছিল। এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল বিশাল অঙ্কের রাজস্ব। এ ছাড়া নির্বাচন ঘিরে ব্যবসা-বণিজ্যে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছিল। যার কারণে কাক্সিক্ষত হারে রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন দৈনিক ভোরের কাগজকে বলেন, ভ্যাটে রাজস্ব আদায় কমেছে অনেক বেশি। কারণ এ খাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। দেশের বৃহৎ ব্যাংক ও গার্মেন্টস খাতে কর সুবিধা দেয়া হয়েছে। গার্মেন্টস খাতে উৎস কর ১ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা কমতে কমতে ০.২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে বছর শেষে উল্লেখযোগ্য হারে উৎস কর আদায় কমে যাবে।
তিনি আরো বলেন, গত কয়েক মাস ধরে রাজস্ব আদায়ে একটা ধীরগতি ছিল। তবে প্রশাসনিক সংস্কার
হিসেবে আমরা অটোমেশনের বাইরে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখি না। আমদানি-রপ্তানিতে রাজস্ব বাড়াতে কাস্টমস আইন মন্ত্রণালয় অনুমোদন করলেও এই আইনের বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। এসব কারণে চলতি অর্থবছরে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়বে এনবিআর।