দিনাজপুরে আলুর বাম্পার ফলন : ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা

আগের সংবাদ

কুশিয়ারা নদীর পাড়ে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

পরের সংবাদ

নিজস্ব পণ্যের পসরা এসএমই ফাউন্ডেশনের প্যাভিলিয়নে

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০১৯ , ১২:১৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০১৯ , ১২:১৬ অপরাহ্ণ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় শতভাগ নিজস্ব পণ্যের পসরা সাজিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন)। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্যোক্তরা সম্পূর্ণ নিজেদের তৈরি পণ্য নিয়ে হাজির এসএমই ফাউন্ডেশনের প্যাভিলিয়নে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে হাতের কাজ করা মেয়েদের ওয়ান পিস, টু পিস, থ্রি পিচ, শাড়ি, বিভিন্ন চামড়াজাত পণ্য, মাটির তৈরি জিনিজপত্র, শতরঞ্জি, কাশ্মিরী আচার, ভেষজ পণ্য ইত্যাদি। গতকাল এসএমই ফাউন্ডেশনের প্যাভিলিয়নে ঢুকে দেখা গেছে, ভেতরে মোট স্টলের সংখ্যা ২২টি। প্রতিটি স্টলের স্বত্বাধিকারী নিজেই একজন উদ্যোক্তা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তারা মেলায় এসেছেন নিজেদের তৈরি পণ্য নিয়ে।
এদের মধ্যে জামালপুরের শতদল হস্তশিল্প, যশোরের টুইংকেল বুটিকস, রাজশাহী সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি পল্লী উল্লেখযোগ্য। যদিও মেলা উপলক্ষে কোনো স্টলে মূল্যছাড় নেই। জামালপুর শতদল হস্তশিল্পের স্টলে বিভিন্ন দামে মেয়েদের থ্রি পিস বিক্রি হতে দেখা যায়। এখানে ১২০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা মূল্যের থ্রি পিস রয়েছে। স্টল সূত্র জানায়, দাম নির্ধারিত। তবে খুচরা নিলে দাম একটু বেশি। একই অবস্থা চামড়াজাত পণ্যসহ অন্য স্টলগুলোতেও। কাশ্মিরী আচার এন্ড ফুড প্রোডাক্টসের স্টলে রয়েছে আলুবোখারা, আম, আমলকি, জলপাই, চালতা, আমড়া, রসুন, মরিচসহ বাহারী ধরনের আচার।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্যাভিলিয়নের দায়িত্বে থাকা এসএমই ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার রাহুল বড়–য়া ভোরের কাগজকে জানান, বাণিজ্যমেলা ঘিরে একই ছাদের নিচে আমরা নিজস্ব পণ্য হাজির করেছি। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের দেখাতে চাই আমাদের নিজেদের তৈরি পণ্যের মান। আমরা কোয়ালিটির সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করি না। মেলার স্টলগুলোয় যেসব পণ্য রয়েছে তা সবগুলোই মানসম্মত। আমাদের মূল উদ্দেশ্য আরো বেশি দেশীয় উদ্যোক্তা তৈরি করা। এদিকে মেলার ৬ষ্ঠ দিন গতকালও ক্রেতা-দর্শণার্থীদের পদচারণায় মূখর ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। সকাল থেকেই দলে দলে মানুষ আসতে থাকে বাণিজ্যমেলায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে যা আরো বাড়তে থাকে। তারা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখছেন নিজেদের পছন্দের পণ্য।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে মেলায় এসেছেন গৃহিণী মাকসুদা বেগম। সঙ্গে রয়েছে ছেলে মেয়ে। তিনি জানান, অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় এবারের বাণিজ্যমেলার পরিবেশ ভিন্ন মনে হচ্ছে। অনেক সুন্দর সুন্দর স্টল রয়েছে মেলার মাঠজুড়ে। বাচ্চাদের জন্য আছে খেলার ব্যবস্থা, আছে বিশ্রামেরও সুযোগ।
এদিকে গতকালও ছিল রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষার্থীদের ভিড়। জমজমাট ছিল খাবারের দোকানগুলোতেও। সবাই পছন্দমতো খাবার খেতে ব্যস্ত। কেউ বিরানী, কেউ তেহারি, কাবাব, নান, চটপটি আবার কেউবা খাচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের আইসক্রিম। গতকালও মেলায় কিছু স্টলের অসম্পন্ন কাজ করতে দেখা গেছে নির্মাণ শ্রমিকদের। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেলার শুরতে বিক্রি খুব কম থাকে। সুবিধাজনক সময়ে স্টল পুরোপুরি তৈরি হয়ে যাবে।
মেট্রোরেলের আদলে তৈরি মেলার মূল ফটক অনেকের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। এ ছাড়া মূল ফটক দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়বে ডিজিটাল এক্সিপেরিয়েন্স সেন্টার। এই সেন্টারে ঢুকে যে স্টল বা প্যাভিলিয়নে যেতে চান তার অবস্থান জেনে নেয়া যাবে। মেলা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের ২২টি দেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠান এবার মেলায় অংশ নিয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে- থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মারিশাস, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া মেলা শেষ হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। এবারের মেলায় স্টল ও প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৬০৫। মাসব্যাপী এবারের মেলায় খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীর।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়