অভিযুক্তরা যেন ছাড় না পায়

আগের সংবাদ

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে দুটো কথা

পরের সংবাদ

নারীচর্চা, রাজনীতি বাদ দেন?

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১৫, ২০১৯ , ৯:০১ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০১৯, ৯:০১ অপরাহ্ণ

শিতাংশু গুহ

নিউইয়র্ক থেকে কলাম লেখক

শফী হুজুরের ওয়াজে নিন্দার ঝড় বইছে। প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, ওনার কি মা নেই? শফী হুজুরের বক্তব্যকে ‘জঘন্য’ হিসেবে মন্তব্য করে জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের মা-বোন-স্ত্রীদের সম্মান আমাদেরই রক্ষা করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া আশার আলো জ্বালিয়েছে। অনেকে কথা বলছেন।

ওয়াজে শফী হুজুর নারীদের পোশাক নিয়ে কথা বলেছেন; জন্মনিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করেছেন এবং মেয়েদের ক্লাস ফাইভের বেশি না পড়ানোর জন্য প্রায় পনেরো হাজার হেফাজত সমর্থকের কাছ থেকে ওয়াদা আদায় করেছেন। সামাজিক মাধ্যম জানাচ্ছে, হুজুরের নিজের মেয়ে বিএ পাস। এ তথ্য সত্য হলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, হুজুর কেন দ্বিচারিতা করছেন? কারণ হুজুর জানেন ও মানেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।

একজন মা শিক্ষিত মানে একটি পরিবার শিক্ষিত। নারীশিক্ষার বিরোধিতা করা তার পেশা। বাংলাদেশে অগুনতি মানুষ আছেন, যারা গরিবের সন্তানের জন্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন, কিন্তু নিজের ছেলেমেয়েকে সেখানে পাঠান না? সেদিক থেকে দেখলে হুজুরের আর কি দোষ?

শফী হুজুরের পক্ষে কিন্তু মানুষের অভাব নেই? হেফাজত সমর্থকদের বাইরেও কিছু ছেলেপেলে বলছে, আহা, তেমন হলে স্কুল-কলেজে ভর্তি পরীক্ষা অথবা চাকরির বাজারে ধাক্কাধাক্কির কিছুটা সুরাহা হতো। গৃহিণীরা বলছেন, তাহলে কাজের মেয়ে পাওয়া যেত? অবশ্য, এদের মুখে ছাই দিয়ে শফী হুজুর সদয় বলেছেন, তার বক্তব্য ঠিকমতো ছাপা হয়নি, তিনি নারীর বিপক্ষে নন।

হেফাজতের তেরো দফার কথা মানুষ কি ভুলে গেছে? সেখানে নারী শিক্ষা, নারী মুক্তি, নারী স্বাধীনতার বিপক্ষেই সব কথা ছিল? হুজুর সেই আলোকেই কথা বলেছেন। তবে হুজুর নির্বাচনের আগে-পরের তফাৎটা ভুলে গেছেন। নির্বাচনের আগে অনেকেই হুজুরের মুরিদ হয়েছিল, এখন তারা নিজেদের সঠিক অবস্থানে ফিরে আসছেন এবং সেটাই স্বাভাবিক।

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত একটি লেখায় লিখেছিলাম যে, আগামী পাঁচ বছরে অনেক বড় বড় নেতা থাকবেন না, বিএনপি মুসলিম লীগ হয়ে যাবে, হেফাজত-ওলামা লীগের আবোল-তাবোল বলার লাইসেন্স থাকবে না? সাম্প্রতিক নির্বাচন, রাজনীতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর মানে এই নয় যে, হেফাজতের চাপে শিক্ষাব্যবস্থার যে পশ্চাদপর পরিবর্তন হয়েছে, তা এক্ষুনি পাল্টে যাবে, তবে আশার আলো জাগাবে।

অনেকের প্রশ্ন, হেফাজতের সঙ্গে সরকারের এতটা মাখামাখির কি খুব একটা প্রয়োজন ছিল? এটা রাজনীতি। এতে সরকার জিতেছে। শফী হুজুর মুরব্বি, বয়সের ভারে ন্যুব্জ। সারাজীবন ভারত বিরোধিতা করেছেন। শেষ বয়সে ভারতের সেবা নিয়ে এবং সরকারের দয়ায় এখন ভালো আছেন। ভালো থাকুন, তবে কথাবার্তায় একটু লাগাম টানতে হবে বৈকি। গ্রীষ্মের ওয়াজ শীতকালে করলে সমস্যা হবে। আর শুধু হুজুর কেন, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো নির্বাচনে ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগার হয়নি? রাতারাতি সবাই এখন ভারতপ্রেমী? শফী হুজুর ওয়াজে ওইসব কথাবার্তা বলেছেন।

বিশ্বব্যাপী নারী এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে নারী উন্নয়নের রেকর্ড চমৎকার। হুজুরদের এখন কিছুটা ডিজিটাল হওয়া দরকার। এই মুহূর্তে সৌদি অষ্টাদশী রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনন একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি বেরিয়েছে। স্বতঃস্ফূর্ত ভুবন মোহন হাসি। মুক্তির হাসি। নারী মুক্তি চায়। ধর্মের নামে নারীকে আর দাবিয়ে রাখা যাবে না।

রাহাফ এখন টরেন্টোতে। বয়স মাত্র ১৮। এই বয়সে তিনি পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। কুয়েত থেকে ব্যাংকক গিয়ে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় চান। জাতিসংঘ ও বিশ্বের ক’টি বড় দেশ তাকে আশ্রয় দিতে চেয়েছেন। রাহাফ দেখিয়েছেন, নারী পারে। বাংলাদেশে নারী জাগছেন, হুজুরদের উচিত ওয়াজে নারীচর্চা বাদ দেয়া, রাজনৈতিক ফতোয়া না দেয়া এবং ধর্মের কথা বলা।

শিতাংশু গুহ : নিউইয়র্ক থেকে কলাম লেখক।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা