বিজয় সমাবেশ স্মরণীয় করে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ

আগের সংবাদ

ভিকারুননিসায় অধ্যক্ষ নিয়োগে ‘নাটকীয়তা’

পরের সংবাদ

জামায়াত ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টে ফাটল

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১৪, ২০১৯ , ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০১৯, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ

Avatar

অবশেষে ভাঙনের সানাই বেজে উঠেছে বিএনপি নেতৃৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে ইস্যু বানিয়ে ভাঙন প্রক্রিয়ায় হাত দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন নিজেই। তার দল গণফোরামের ২ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ এ ভাঙনের নেপথ্যে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
ড. কামাল হোসেনসহ গণফোরামের দলীয় নেতারা চান নির্বাচিত ২ জন সদস্য শপথ নিয়ে সংসদ কার্যক্রমে অংশ নিতে। পক্ষান্তরে বিএনপিসহ ২০ দল ড. কামালের এ অবস্থানের বিপক্ষে। বিএনপিসহ ২০ দলের যুক্তি শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দিলে সরকারকে বৈধতা দেয়া হবে। নির্বাচন নিয়ে বিএনপি যেসব অভিযোগ করে আসছে, সংসদে যোগ দিয়ে তা আর হালে পানি পাবে না। দুই পক্ষের এমন বিপরীত অবস্থানের কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে নিয়ে গত বছরের ১৩ অক্টোবর গড়ে ওঠা এ জোটটিতে যে ফাটল দেখা দিয়েছে, তা ভাঙনে রূপ নিতে খুব বেশি সময় নেবে না বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।
বিএনপির একাধিক নেতার মতে, জামায়াত নিয়ে ড. কামাল যা বলেছেন তা সঠিক নয়। বিএনপির বক্তব্য জামায়াত ঐক্যফ্রন্টে নেই। ঐক্যফ্রন্টে রয়েছে শুধু বিএনপি। ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য কোনো দল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়। বিএনপি জামায়াতে ইসলামীকে যে ২৫ আসন ছেড়ে দিয়েছে তা বিএনপির জন্য নির্ধারিত আসন থেকে। সেখানে ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থী ছিল না। বিএনপি নেতাদের মতে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যেমন আন্দোলন ও নির্বাচনের একটি জোট, তেমনি ২০ দলীয় জোটও আলাদা জোট। বিএনপি উভয় জোটেই রয়েছে। ২০ দলীয় জোটের সভা-সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী যোগ দিলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো সভা-সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর অংশগ্রহণ ছিল না। এসব জেনে বুঝেই ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে একমত হয়েছেন।
বিএনপি নেতারা স্বীকার করেন, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন প্রক্রিয়া শুরুর আলোচনায় জামায়াতের সঙ্গে তার আদর্শিক মতভিন্নতার কথা বলেছিলেন। তার কারণেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে জামায়াতকে দূরে রাখার কৌশল নেয় বিএনপি। যা অনেকটা সমঝোতার ভিত্তিতেই। এ কারণেই জামায়াতের সঙ্গে একই প্রতীকে ভোটে নামার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ড. কামাল হোসেন সুকৌশলে এড়িয়েও গেছেন। এমনকি গত ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে করা এক সাংবাদিককে খামোশ বলে ধমকও দিয়েছিলেন তিনি। যা নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক নিন্দার মুখে দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হন বঙ্গবন্ধু সরকারের সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিএনপি যদি তাকে না জানাত তবে জানার পর কেন তিনি ঐক্যজোট থেকে বের হয়ে গেলেন না। কিংবা নির্বাচন বর্জন করলেন না, এ প্রশ্নও রাখেন বিএনপি নেতারা। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল, তা বলার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে ড. কামাল হোসেন সত্য পরিহার করেছেন। তিনি ভিন্ন কোনো খেলার অংশ হতে যাচ্ছেন তা এখন পরিষ্কার বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা।
বিএনপি নেতাদের মতে, আওয়ামী লীগ থেকে বিতারিত হওয়ার পর ড. কামাল গণফোরাম গঠন করেন। এক সময় গণফোরাম নামে একটি রাজনৈতিক দল রয়েছে তার অস্তিত্বও টের পাচ্ছিল না দেশের জনগণ। হারিয়ে যাওয়া সেই ড. কামাল হোসেনকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেছে বিএনপি। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে ড. কামালকে খালেদা জিয়ার প্রাপ্য মর্যাদা দিয়েছে বিএনপি। এমনকি বিএনপির কল্যাণে তাকে মিডিয়াও লুফে নিয়েছে। তিন মাসেরও কম সময়ে ড. কামাল হয়ে উঠেছেন বিরোধী দলের প্রধান নেতা। তিনি নিজেসহ তার দলের কোনো নেতা কোনোদিন নিজ দলের হয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হননি। বিএনপির ঘাড়ে সওয়ার হয়ে এই দুর্যোগের মধ্যেও তার দলের দুজন সংসদ সদস্য হয়েছেন। এটা গণফোরামের জন্য বিরাট পাওয়া, বড় বিজয়।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ড. কামাল হোসেন এখন কেন এমন কথা বলছেন সেটা উনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমার জানা মতে, আন্দোলন ও নির্বাচন প্রশ্নে কোনো বিষয়ই তার অগোচরে ছিল না। ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা হিসেবে প্রতিটি তথ্যই তাকে জানানো হতো।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ড. কামাল হোসেন জামায়াতে ইসলামী নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা একান্তই তার ব্যক্তিগত অভিমত। তার বিশ্বাসের জায়গা থেকে তিনি এসব কথা বলেছেন, এটা তার রাজনৈতিক বক্তব্য। এ বক্তব্য থেকে ঐক্যফ্রন্টের ভাঙন বিষয়ে কোনো আভাস পাওয়া যায় না।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা