সাভারে গণধর্ষণের অভিযোগে আটক ২

আগের সংবাদ

গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলা

পরের সংবাদ

বরিশালে আনসারদের উপার্জনে ভাগ বসালেন বড় কর্তারা

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১৩, ২০১৯ , ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৯, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

Avatar

ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের পারিশ্রমিকের টাকায় কর্মকর্তারা ভাগ বসিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় দায়িত্ব পালনকারী ৩২ হাজার ১২৪ জন আনসারের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে অন্তত ১ কোটি ২৮ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা ঘুষ আদায় করেছেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরিশালের উপপরিচালক বরাবর জাহিদুল ইসলাম নামে এক আনসার সদস্য একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার ২১টি আসনে এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল দুই হাজার ৬৭৭টি। প্রত্যেক কেন্দ্রে ১২ জন আনসার সদস্য ও দুজন গ্রুপ কমান্ডার দায়িত্ব পালন করেন। সেই হিসাবে বিভাগের ৬ জেলায় মোট ৩২ হাজার ১২৪ জন আনসার সদস্য নিয়োজিত (কমান্ডার বাদে) ছিলেন। নির্বাচনকালীন ৬ দিন ডিউটি হিসাব করে প্রত্যেক আনসারের জন্য ৪ হাজার ৫৭৫ টাকা এবং গ্রুপ কমান্ডারদের প্রত্যেকের ৫ হাজার ৫৭৫ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
নির্বাচন শেষে ৬ দিন পর গত ৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে আনসারদের মাঝে বরাদ্দ টাকা বিতরণ করা হয়। বরিশাল জেলার ৬টি আসনে ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রে আনসার সদস্য ছিলেন ৯ হাজার ৬৬০ জন। এর মধ্যে বরিশাল সদর আসনে ১৭৪টি কেন্দ্রের ২ হাজার ৮৮ জন আনসার সদস্যের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে ৮ লাখ ৩৫ হাজার ২০০ টাকা ঘুষ নেন উপজেলা কমান্ড্যান্ট আফজাল হোসেন। এর মধ্য থেকে ১০০ টাকা
করে নিয়েছেন গ্রæপ কমান্ডাররা। বাকি টাকা আফজাল হোসেন এবং অন্য কর্মকর্তারা ভাগ করে নিয়েছেন। বিভাগের বাকি ৫টি জেলায় একইভাবে ভাগবাটোয়ারা হয়েছে।
আনসার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বনিম্ন ৪০০ এবং সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। মুলাদী উপজেলার আনসার গ্রুপ কমান্ডার আব্দুল মজিদ বলেন, নির্বাচনের ১৫ থেকে ২০ দিন আগে আমাদের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে নিয়েছেন আনসার অফিসের কর্মকর্তারা। তা থেকে ১০০ টাকা দেয়া হয়েছে গ্রুপ কমান্ডারদের। গত ৬ জানুয়ারি আমাদের ৬ দিনের পারিশ্রমিক হিসেবে ৪ হাজার ৫৫৭ টাকা পরিশোধ করা হয়। তবে গ্রুপ কমান্ডাররা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭ টাকা।
বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদের বাসিন্দা আনসার সদস্য জাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, তার কাছ থেকে এক হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। এভাবে বিভাগের ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও বরগুনায় দায়িত্ব পালনকারী আনসারদের কাছ থেকে ৪০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন সদর উপজেলা কমান্ড্যান্ট আফজাল হোসেন।
পরে বেশ কয়েকজন আনসার সদস্যের কথোপকথনের রেকর্ড শোনানো হয় তাকে। এরপর তিনি বলেন, অভিযোগ আংশিক সত্য। তবে আমি টাকা তুলেছি এ কথা ঠিক না। অফিসের অন্য কেউ হয়তো কাজটি করেছেন। তাদের দায় আমার ওপর এসে পড়েছে। আমি হার্টের রোগী। দয়া করে এ নিয়ে লেখালেখি করবেন না।
বরিশাল আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের উপপরিচালক শেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন, নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের বেশির ভাগ সদস্য গ্রামের দরিদ্র মানুষ। তাদের খণ্ডকালীন নিয়োগ দেয়া হয়। ১০ দিন মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্ন কেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য তাদের প্রত্যেককে সাড়ে চার হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। আগে থেকেই আমরা উপজেলা কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়েছি যাতে এই গরিব মানুষের কাছ থেকে কোনো ধরনের ঘুষ নেয়া না হয়। কিন্তু তারপরও বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ আমার কানে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।
বরিশাল রেঞ্জের পরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।