সিলেটকে ৩২ রানে হারিয়ে ঢাকার জয়

আগের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করলো যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ

পরের সংবাদ

আ.লীগকে শক্তিশালী করতে শেখ হাসিনার নির্দেশ

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১২, ২০১৯ , ১০:৫৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৯, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ

Avatar

একাদশ সংসদ নির্বাচনে মাধ্যমে সরকার গঠনের পর প্রথম কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের উপদেষ্টা ও কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক করেছে আওয়ামী লীগ।

আজ শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।

এ সময় আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে নেতাদের নির্দেশনা দেন তিনি। এছাড়া ১৯ জানুয়ারির মহাসমাবেশ, ২১ ফেব্রুয়ারি, ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ ও ২৬ মার্চসহ সব দলীয় ও জাতীয় দিবস যথাযথভাবে পালনের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব কর্মসূচিতে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করারও পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা এসব তথ্য জানান।

এদিকে, কার্যনির্বাহী সংসদ এবং উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভার শুরুতে গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় এটা গত ১০ বছরে মানুষ বুঝতে পেরেছে। জনগণের সেবক হিসেবে আওয়ামী লীগ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। এ কারণেই মানুষ আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে।

তিনি বলেন, জনগণ বুঝতে পেরেছে শুধু আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেই তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, দেশের উন্নয়ন হয়। দেশের সব শ্রেণি-পেশার সর্বস্তরের মানুষ এটা মনে করে। আর এ জন্যই তারা সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে। জনগণ আমাদের বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছে, এখন জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব আরও অনেক বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব দুর্নীতিগ্রস্ত, সাজাপ্রাপ্ত এবং পলাতক আসামি। এ কারণে জনগণ নির্বাচনে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লুটে খাওয়ার অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে আছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হত্যা মামলা, দুর্নীতি এবং মানি লন্ডারিংসহ একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে এখন পলাতক আসামি। জনগণ তাদের এসব তৎপরতা গ্রহণ করেনি।

নির্বাচনের আগে বিএনপি জোটের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা করেছিল। অতীতের মতো এবারও তাদের নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টা সবাই দেখেছে। মানুষ দেখেছে তারা কীভাবে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি যদি মনোনয়ন বাণিজ্য না করতো, তাহলে হয়তো তাদের ভোটের ফলাফল আরও একটু ভালো হতে পারতো।

২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের কথা জানিয়ে তার কন্যা বলেন, ২০২০ সালকে মুজিব বর্ষ হিসেবে উদযাপন করা হবে। এজন্য এখন থেকেই কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে।

কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ যখন ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে। এরপর থেকেই আমরা দেশের উন্নয়নের কাজ শুরু করি।

‘আমরা এইটুকু দাবি করতে পারি তখনই কিন্তু এদেশের মানুষ প্রথম উপলব্ধি করে সরকার জনগণের সেবক হতে পারে, সরকার জনগণের জন্য কাজ করতে পারে। আর সরকার কাজ করলে জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়, এটা তখনই আমরা প্রমাণ করতে পারলাম। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা স্বর্ণযুগ ছিল। কিন্তু ষড়যন্ত্র কখনও থেমে যায় না। ২০০১ সালে চক্রান্ত করে আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। আমরা ভোট বেশি পেলাম কিন্তু সরকার গঠন করতে পারলাম না। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের জীবনে যে দুর্বিষহ অবস্থা ছিল, সেটা আমরা সকলেই জানি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা পুনরায় সরকার গঠন করার পর থেকে আমাদের লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে তুলবো এবং দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে স্বাধীনতার সুফলটা পৌঁছাতে পারে সেইভাবে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি বলেই মানুষের এই উপলব্ধিটা এসে গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে তারা ভালো থাকে, তাদের জীবনমান উন্নত হয়।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি-সন্ত্রাসের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০১৩ থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নি-সন্ত্রাস করে। এটা দেশের মানুষ কখনও মেনে নিতে পারেনি। ২০১৪ সালে আবার আমরা সরকার গঠন করি। আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা একটানা ১০ বছর হাতে সময় পেয়েছিলাম, যার ফলে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে একটা উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় আমরা জনগণের সেবক হিসাবে কাজ করতে পেরেছি তার ফলে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও জয়লাভ করেছি।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনটা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে হলেও কিছু কিছু জায়গায় বিএনপি-জামায়াত জোট মিলে কোথাও কোথাও ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে গেছে। কোথাও তারা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করেছে এবং তাদের এই অপকর্মের কারণে বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছে; যার মধ্যে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা অনেক আছেন।

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদ ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।