শীতার্তদের জন্য এখনই ব্যবস্থা নিন

আগের সংবাদ

প্রতিহিংসা নয়, সম্প্রীতির রাজনীতি চাই

পরের সংবাদ

আওয়ামী লীগের বিজয়ে তৃণমূল কর্মীদের ভূমিকা

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১১, ২০১৯ , ৮:৩৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০১৯, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ

Avatar

মিঠুন দে

লেখক, ঢাকা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করেছে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণ বিরাট ভূমিকা পালন করেছে। জনগণ প্রধানমন্ত্রীর বিগত দশ বছরের সঠিক নেতৃত্ব প্রদানপূর্বক দেশকে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় তুলে নেয়ার পারঙ্গমতা দেখানোর ধারাবাহিকতাকে সমর্থন প্রদান করেছেন।

কিন্তু জনগণের এই ভোট আওয়ামী বাক্সে পড়েছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীদের সীমাহীন পরিশ্রম এবং সাংগঠনিক দক্ষতার ফলে। তৃণমূল কর্মীরাই কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রদেয় দিকনির্দেশনার আলোকে সরাসরি মাঠে থেকে ভোটারদের ভোট দেয়ার জন্য আগ্রহী করে তোলে এবং ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ সহযোগিতা প্রদান করে।

কাজেই দেখা যায় যে, নির্বাচন বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের মতোই তৃণমূল নেতাকর্মীরাও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। নেতার ‘প্রাণ’ কর্মী। কর্মীবিহীন নেতার কোনো অস্তিত্ব নেই। রাজনীতির ক্ষেত্রে নেতাকর্মী সম্পর্কটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় এই যে, যেই সব তৃণমূল নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের বেসিক অবস্থা নির্মাণের নিয়ামক শক্তি তারাই রাজনীতির শিক্ষায় যথাযথভাবে জ্ঞানী এবং গুণী হয়ে উঠতে পারছে না।

ফলে থানা, ইউনিয়ন এবং গ্রাম পর্যায়ের শিক্ষিত, মার্জিত এবং জ্ঞানী-গুণী লোকদের সঙ্গে আওয়ামী তৃণমূল নেতাকর্মীরা যথাযথভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের নিবিড় সাহচর্যে যেতে পারছে না। আর এই কারণেই সৃষ্টি হচ্ছে আওয়ামী মূল দলের সঙ্গে সাধারণ জনগণের দূরত্ব। স্থানীয় নেতাকর্মীদের জ্ঞান গরিমা কর্মকা-ের ওপর নির্ভর করেই সাধারণ জনগণ মূল দলের মনোভাব সম্পর্কে ধারণা নেয়ার চেষ্টা করে থাকেন।

কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আজ আওয়ামী লীগের কয়জন তৃণমূল নেতাকর্মী বলতে পারবেন যে- আওয়ামী লীগ তথা ‘আওয়াম’ শব্দের অর্থ কী? আওয়ামী লীগ কোন সনে, কোন প্রেক্ষাপটে গঠিত হয়েছিল? আওয়ামী লীগের রাজনীতির আদর্শ এবং উদ্দেশ্য কি? মুজিব কোট সবাই পরে কিন্তু কয়জন তৃণমূল নেতাকর্মী জানেন যে, মুজিব কোটে কয়টি ‘বোতাম’ থাকে এবং কেন? কোন সনে আওয়ামী মুসলীম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ কথাটি বাদ দিয়ে শুধু ‘আওয়ামী লীগ’ নাম ধারণপূর্বক একটি অসাম্প্রদায়িক মুক্তমনা দল হিসেবে গড়ে ওঠে? কোন প্রেক্ষাপটের আলোকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একক সিদ্ধান্তে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সত্তর এবং আশির দশকে কেন্দ্রীয় নেতাদের মাধ্যমে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিশেষ ধরনের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু আজ আর এই ব্যবস্থাটি চালু নেই। বর্তমান যুগের চাহিদা এবং পরিবর্তনের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আওয়ামী কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক নেতাদের মনে হয় পুনরায় সত্তর এবং আশির দশকের মতো আওয়ামী তৃণমূল নেতাকর্মীদের যথাযথভাবে ট্রেনিং প্রদানপূর্বক তাদের প্রত্যেককে যথাযথভাবে রাজনীতি জ্ঞানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা একান্তভাবে প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে গ্রামের এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের থানা পর্যায়ে এনে এবং থানা পর্যায়ের কর্মীদের জেলা পর্যায়ের এনে, জেলা নেতাকর্মীদের বিভাগীয় পর্যায়ে আনয়নপূর্বক প্রশিক্ষণ প্রদান করা যেতে পারে বলে মনে করি। তৃণমূল নেতাকর্মীরা যথাযথভাবে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলে, তা হবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য বিরাট ফলদায়ক। কাজেই এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়।

লেখক, ঢাকা।