৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন রাজচালাকির উদাহরণ: ড. কামাল

আগের সংবাদ

শেখ হাসিনাকে থাই প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

পরের সংবাদ

শিশু নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধে রাষ্ট্রকে ভূমিকা রাখতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১০, ২০১৯ , ৮:৩৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০১৯, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ

Avatar

শিশু সুরক্ষায় দেশে আইনি কাঠামো শক্তিশালী হয়েছে; নেয়া হয়েছে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ। কিন্তু সামগ্রিক বিবেচনায় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে শিশুর প্রতি সহিংসতার দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি বরং ভয়াবহতা ও নৃশংসতা বেড়েছে সর্বশেষ, রাজধানীর ডেমরায় একটি ফ্ল্যাট থেকে গত সোমবার দুটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শিশু দুটি সোমবার দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিল। রাত ৯টার দিকে তাদের লাশ পাওয়া যায়। নিহত দুই শিশুর নাম ফারিয়া আক্তার দোলা (৫) ও নুসরাত জাহান (৪)। পুলিশ জানায়, ধর্ষণের পর শিশু দুটিকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৬ জানুয়ারি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর পুকুরে ফেলে হত্যা করা হয়। তার আগে ৫ জানুয়ারি রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় ২ বছরের শিশু আয়েশা বাড়ির সামনে খেলার সময় প্রতিবেশী নাহিদ তাকে কোলে করে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ করে ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করে। শিশুর প্রতি এমন নির্মমতা-নৃশংসতা মেনে নেয়া যায় না।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালের ১১ মাসে (জানুয়ারি-নভেম্বর) দৈনিক গড়ে ১৩ জন শিশু নির্যাতন, দুজন শিশু ধর্ষণ এবং একজন শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএএফ) তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১১ মাসে ৪ হাজার ২৫৮ শিশু বিভিন্ন রকমের নির্যাতন, ৫৬৩ শিশু ধর্ষণ এবং ৩৯৬ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে।

অপরাধ বিজ্ঞানী এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এসব অপরাধের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার অভাবকে দায়ী করেছেন। বাবা-মায়ের ব্যস্ততার সুযোগও নিচ্ছে অপরাধীরা। এখনই এই নির্মমতা প্রতিরোধ করা না গেলে সামনের সময় আরো খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো অমানবিক অপরাধ প্রতিরোধ করতে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন। এ সংক্রান্ত অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সরকারকে আন্তরিক উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুর কল্যাণ, সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত শিশু আইন যথাযথ প্রয়োগ জরুরি।

অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় সঠিক ধারায় মামলা করা হয় না আবার অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের সহযোগিতা করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে অপরাধী যথাযথ শাস্তি পায় না।

শিশু হত্যা ও নির্যাতন বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। আবার নির্যাতকের মৃত্যুদ-ের দৃষ্টান্ত থাকার পরও একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে দেখছি আমরা।

সমাজ থেকে এই অপরাধ প্রবণতা দূর করতে আইনের কঠোর প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে সমাজে শিশুর প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিও খুবই জরুরি। শিশুদের নিরাপত্তা ও বিকাশ নিশ্চিত করার দায় সমাজের সবার। শিশুদের প্রতি নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধে রাষ্ট্রকে আরো তৎপর হবে।