ইউরোপজুড়ে তুষার ঝড়ে নিহত ১৫

আগের সংবাদ

১৭ মিনিটের গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ

পরের সংবাদ

পোশাক শিল্পে নৈরাজ্য

দ্রুত সমাধান করুন

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৯, ২০১৯ , ৮:৪৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০১৯, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ

Avatar

বেতন বৈষম্যকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, লাঠিচার্জ, গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সাভারে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শ্রমিক নিহত হয়েছে। এমন ঘটনা প্রত্যাশিত নয়। প্রসঙ্গত, পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন কাঠামোয় অসঙ্গতি চলতি জানুয়ারির মধ্যেই সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সরকার-মালিক-শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কোর কমিটির জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়া উচিত। কিন্তু এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত গতকালও শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে রাখার খবর পাওয়া গেছে।

জানা যায়, সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, কালশী ও উত্তরা-টঙ্গীসহ কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধ করে পাঁচ দিন ধরেই আন্দোলন করছে পোশাক শ্রমিকরা। এছাড়া এয়ারপোর্ট, উত্তরা, টঙ্গী, গাজীপুর সড়কে অবস্থান নেয় পোশাক শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, সরকার তাদের জন্য যে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দিয়েছে, মালিকপক্ষ সে অনুযায়ী বেতন দিচ্ছে না। বরং তাদের নানাভাবে ‘অন্যায়-অবিচারের’ শিকার হতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করে গত ২৫ নভেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে তা কার্যকর করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। তাতে পোশাক খাতের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের মজুরি আগের চেয়ে গড়ে ৫১ শতাংশ বাড়লেও ‘বিভিন্ন রকম’ ব্যাখ্যা দিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শ্রমিকরা একই দাবিতে কর্মবিরতি দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। তখন আশ্বাস দেয়া হয়েছে, নির্বাচনের পর শ্রমিকদের দাবিদাওয়া পূরণে গুরুত্ব দেয়া হবে। আমরা মনে করি, শ্রমিকদের বেতন কাঠামোর বিষয়টি দ্রুত সুরাহা প্রয়োজন।

পোশাক শিল্প বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। এ শিল্প শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধিশালী করে তুলছে তা নয়, সেইসঙ্গে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব নিরসনেও ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

অন্যদিকে অসচ্ছল ও দারিদ্র্যপীড়িত নারীদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছে। দুর্ঘটনা, বিক্ষোভ-আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বিকশিত হয়ে চলছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের এই খাত। এ খাতকে চলমান রাখতে হলে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে পোশাক রপ্তানি থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিজিএমইএ। এই টার্গেট পূরণে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিক ও বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন। বিশেষ করে শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে এগোতে হবে।