যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ...

আগের সংবাদ

ভারতেই হবে আইপিএলের ১২তম আসর

পরের সংবাদ

পোশাক শ্রমিকদের অসন্তোষ : মজুরি পর্যালোচনায় কমিটি

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৮, ২০১৯ , ৯:৪৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০১৯, ৯:৫০ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের টানা বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেড় মাস আগে ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার শ্রম ভবনে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকের পর নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, মালিক পক্ষের ৫ জন, শ্রমিক পক্ষের ৫ জন এবং সরকারের বাণিজ্য সচিব ও শ্রম সচিবকে নিয়ে ১২ সদস্যের একটি কমিটি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে। এই কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে মজুরির অসঙ্গতিগুলো খতিয়ে দেখবে এবং সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেবে।

ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা তিন দিন ঢাকার রাস্তায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকে ডাকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে দুই ঘণ্টার এই বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মনুশি ছাড়াও মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “মজুরি নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনা করে এক মাসের মধ্যেই সমাধান করা হবে। জানুয়ারি মাসে কোনো শ্রমিককে কম বেতন দেওয়া হবে না। কোনো গ্রেডে কারও যদি বেতন কমে যায়, তবে সেটা হিসাব করে সমন্বয় করা হবে। বকেয়া আকারে শ্রমিকরা সেই বেতন পেয়ে যাবেন।”

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করে গত ২৫ নভেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে তা কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল সেখানে।

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও অনান্য খাতের শ্রমিকদের মজুরির বিবেচনায় পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবি ছিল বিভিন্ন বাম শ্রমিক সংগঠনের। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় বিক্ষোভ, মানববন্ধনের মত কর্মসূচি পালন করে আসছিল সংগঠনগুলো।

অন্যদিকে গত সরকারের শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু গত ডিসেম্বরে বলেছিলেন, নতুন কাঠামোতে পোশাক খাতের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের মজুরি আগের চেয়ে গড়ে ৫১ শতাংশ বাড়লেও ‘বিভিন্ন রকম’ ব্যাখ্যা দিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ‘অসেন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা’ চলছে।

নির্বাচনের আগে পোশাক শ্রমিকদের অসন্তোষের সুযোগে কেউ যাতে ‘রাজনৈতিক ফায়দা’ নিতে না পারে, সেজন্য ডিসেম্বরে গার্মেন্ট শিল্প প্রধান এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নজরদারি ছিল। কিন্তু ভোটের পর নতুন সরকারের শপথের আয়োজনের মধ্যেই গত রোববার ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখ বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে পোশাক শ্রমিকরা।

সরকার ঘোষিত কাঠামো পর্যালোচনা করে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে সোম ও মঙ্গলবারও তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায়। তাদের অভিযোগ, সরকার তাদের জন্য যে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দিয়েছে, মালিকপক্ষ সে অনুযায়ী বেতন দিচ্ছে না। বরং তাদের নানাভাবে ‘অন্যায়-অবিচারের’ শিকার হতে হচ্ছে।

তবে সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রীর মত নতুন বাণিজ্যমন্ত্রীও মনে করেন, বর্তমান শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে শিল্পের বাইরের কারও ‘ইন্ধন’ রয়েছে। “শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। শ্রমিকরা যাতে কোনো রকম গুজব কিংবা উসকানিতে পা না দেয়, আমরা সেই অনুরোধ করছি। আজকের পর থেকে ইন্ডাস্ট্রিবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।”

আন্দোলনকারীদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “যারা ধ্বংসাত্মক কাজ করেছে, তারা শ্রমিক না। তারা এই ট্রেডের বন্ধু না। তাদের কঠোর হাতে দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মালিক-শ্রমিক একটা বাই সাইকেলের দুই চাকা। তাদেরকে এক সাথেই এগোতে হবে।”

সেপাল গার্মেন্টের মালিক টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেন, কোথাও কোনো ‘ইরেগুলারিটি’ থাকালে তা তারা দেখবেন। কিন্তু কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সরকার ‘সহ্য করবে না’। “সাইবার ক্রাইম শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন রকম প্রচারপত্র লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে অনলাইননে। আমরা বরাবর দেখেছি। প্রত্যেকটা ঘটনার ক্ষেত্রে এই ধরনের অপকর্ম ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নজান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী অত্যান্ত শ্রমিক বান্ধব। তিনি নিজেই সুপারিশ করে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর ব্যবস্থা করেছেন। এখন নতুন মজুরি কাঠামোর কোথাও কোনো অসুবিধা থাকলে আলোচনা করে তা ঠিক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই আর কোনো বিশৃঙ্খলা নয়। সবাইকে কাজে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করছি।”

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে একই কথা বলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান ইসমাইল ও জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ নেতা আব্দুস সালাম মুর্শেদী, ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়াসহ ঊর্ধতন কর্মকর্তারা এ সভায় উপস্থিত ছিলেন।