নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি

আগের সংবাদ

নতুন মন্ত্রিসভার কেমন কার্যক্রম চায় তরুণ সমাজ

পরের সংবাদ

চমক-চ্যালেঞ্জের মন্ত্রিসভা

নতুন সরকারের যাত্রা শুভ হোক

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৭, ২০১৯ , ৮:৩৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ৭, ২০১৯, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ

Avatar

নতুনদের প্রতি আস্থা রাখলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের ৪৭ জনের মন্ত্রিসভায় ২৭ জনই নতুন মুখ। প্রধানমন্ত্রীর এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ ছাড়া যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ ছিল মন্ত্রিসভা থেকে তাদের সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তও ইতিবাচক।

গতকাল সোমবার বিকালে বঙ্গভবনে শপথের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। নতুন মন্ত্রিসভার আকার হচ্ছে ৪৬ সদস্যের, যা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে দাঁড়ায় ৪৭ জনে। এর মধ্যে মন্ত্রী ২৪ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৯ জন ও উপমন্ত্রী তিনজন। টেকনোক্র্যাট কোটায় এসেছেন আরো তিনজন। এই মন্ত্রিসভায় ২৭ জনই নতুন মুখ।

অন্যদিকে, বাদ পড়ছেন আগের মন্ত্রিসভার ৩৪ জন। এ ছাড়া আগের মন্ত্রিসভার পাঁচজন প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পেয়ে হচ্ছেন পূর্ণ মন্ত্রী এবং তিনজন একই দায়িত্বে থেকে যাচ্ছেন। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২৫৬টিতেই জয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। মহাজোট পায় ২৮৮টি। যার মধ্যে জাতীয় পার্টি ২২টি, জাসদ তিনটি, ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি, বিকল্পধারা দুটি, তরিকত ফেডারেশন একটি ও বাংলাদেশ জাসদের একটি আসন রয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মাত্র সাতটি আসন পায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন তিনটি আসনে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এমপিরা ছাড়া নবনির্বাচিত সব এমপিই শপথ নেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থবারের মতো শেখ হাসিনার শপথ গ্রহণ এবং মন্ত্রিপরিষদ গঠনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের। স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের সরকারের কাছে এ দেশবাসীর প্রত্যাশা বরাবরই বেশি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণাকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আরো সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ এবং উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছিলেন। সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় ২১ অঙ্গীকার শিরোনামের এ ইশতেহারে প্রতিটি গ্রামে নগরের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত হয়েছিল- দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।

এ অঙ্গীকারের পক্ষে নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট পায় আওয়ামী লীগ। নতুন সরকারের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের মধ্যে ইতিবাচক নতুন জাগরণ সৃষ্টি করা। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। তাদের উপযুক্ত করে তৈরি করার দায়িত্ব নিতে হবে এই সরকারকে।

এবারের মন্ত্রিসভা তারুণ্যে নির্ভর, অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ ইমেজধারীদের স্থান পাওয়া নিশ্চয়ই দেশবাসীকে আশ্বস্ত করবে। আমাদের প্রত্যাশা, আগামী দিনে তারা নির্বাচনী ইশতেহার বর্ণিত শান্তি গণতন্ত্র উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সফল হবেন।

একই সঙ্গে দেশে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠাকেও অগ্রাধিকারে রাখবেন। নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের ওপর নির্ভর করছে নতুন সরকারের সাফল্য। নতুন মন্ত্রীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফল হবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।