পুরুষের শীত পোশাক নিয়ে ক্যাটস আই

আগের সংবাদ

তরকারি ও মুরগির চাওমিন

পরের সংবাদ

শেরপুরে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৬, ২০১৯ , ৩:২০ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০১৯, ৩:২০ অপরাহ্ণ

Avatar

শেরপুরে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। সরিষা চাষ স্বল্প সময়ে উৎপাদনশীল একটি লাভ জনক রবিশষ্য ফসল হওয়ায় এ জেলায় দিনে দিনে সরিষা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে কৃষকের সংখ্যা। অতীতে এ জেলার কৃষকরা নিজেদের ব্যবহারের জন্য শুধু সরিষা চাষ করতো। কিন্তু আমন ফসল ঘরে তুলার পর স্বল্প সময়ে এ চাষ একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় এখন বানিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু করেছে কৃষকরা। এ চাষের পাশাপাশি এখান থেকে উৎপাদন হচ্ছে প্রকৃতির বিশুদ্ধ মধু। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মাঠ সরিষার হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে। সরিষার এসব হলুদ ফুলে ভরে উঠা মাঠের দিকে তাকালে প্রাকৃতিক দৃশ্যই যেন হাতছানি দেয়, হলুদ ফুলে হাড়িয়ে যেতে। প্রকৃতির হলুদ ফুলে মৌমাছিরা মনের আনন্দে যেমন মধু সংগ্রহের নেশায় ছুটে আসে সরিষা ক্ষেতে। তেমনি সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় চাষিরাও মনের আনন্দে ঝুকে পড়েছে সরিষা চাষে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরিষা চাষে কৃষকদের প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদন খরচ হয় ২০হাজার টাকা। আর উৎপাদিত সরিষা বিক্রি হয় প্রায় ১লাখ টাকা। আমন ধান কাটার পর বোরো মৌসুমের পূর্বেই সরিষা ৮০-৯০ দিনের মধ্যেই কৃষকরা অনায়াসে ঘরে তুলতে পারে এ ফসলটি। সরিষা ঘরে তুলার পর সরিষা আবাদকৃত জমি উর্বরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব জমিতে বোরো উৎপাদনও হয় বেশি। শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর শেরপুর জেলায় ৬হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক সরিষা আবাদের পরিমাণ হচ্ছে, শেরপুর সদর উপজেলায় গত বছর সরিষার আবাদ হয়েছিল ২ হাজার হেক্টর জমিতে। এবার আবাদ হয়েছে ৬হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে। এ উপজেলায় সরিষা চাষীর সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় গত বছর সরিষা আবাদ হয়েছিল ১৫০ হেক্টর জমিতে। এবার আবাদ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে। এ উপজেলায় সরিষা চাষীর সংখ্যা প্রায় ১হাজার। শ্রীবরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হাসান জানান, গত বছর এ উপজেলায় সরিষার আবাদ হয়েছিল ৯৭০হেক্টর জমিতে। এবার আবাদ হয়েছে ১হাজার ৩৮০হেক্টর জমিতে। এ উপজেলায় সরিষা চাষীর সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ শরিফ ইকবাল জানান, গত বছর ৯৫০ হেক্টর, নকলা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরেশ চন্দ্র দাস জানান, গত বছর তার উপজেলায় সরিষার আবাদ হয়েছিল ৯শ ৫০ হেক্টর জমিতে। এবার আবাদ হয়েছে ১হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। এ উপজেলায় সরিষা চাষীর সংখ্যা প্রায় ৭হাজার। শেরপুরের খামার বাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আশরাফ উদ্দিন বলেন, এবার জেলায় সরিষার ক্ষেতে ৫৫০ জন মৌ চাষি প্রাকৃতিক উপায়ে ৩ মেট্রিকটন মধু সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নিয়ে কাজ করে আসছেন। তিনি আরোও বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্যোগ ও পরামর্শে আগামীতে সরিষা আবাদের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা