বাড়েনি রেলওয়ের সেবার মান

আগের সংবাদ

টেকনাফে জেলেদের জালে ৩৫ কেজি ওজনের পোয়া মাছ

পরের সংবাদ

আকিমুন রহমান পেলেন অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৬, ২০১৯ , ১:৫৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০১৯, ১:৫৯ অপরাহ্ণ

Avatar

বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের বিশিষ্ট নাম আকিমুন রহমান। যার অন্তর্ভেদী বিশ্লেষণ বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছে অন্য রকম মাত্রা। প্রবন্ধ, গবেষণা ও কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখার জন্য এবার অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার পেলেন ড. আকিমুন রহমান। গতকাল শনিবার এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে পাক্ষিক অনন্যা আয়োজিত এ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল ও সভাপতিত্ব করেন পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। আয়োজনের শুরুতেই পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ড. আকিমুন রহমানের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এরপর তার হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভ‚তি প্রকাশ করে আকিমুন রহমান বলেন, লেখালেখির ক্ষেত্রে সাধনার বিকল্প নেই। অবিশ্রাম থেকে লেখালেখি করে যেতে চাই। পুরস্কারপ্রাপ্তিতে সম্মানিত বোধ করলেও ভয়ও লাগছে; তাহলে লেখালেখির কি শেষ? কিন্তু আমি আরো অনেকটা পথ যেতে চাই। সেজন্যই পুরস্কারপ্রাপ্তি আমার মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করছে। তিনি আরো বলেন, প্রকৃতিকে, রাজনীতির উত্থান-পতনকে পড়ার পাশাপাশি পুরুষকে পড়তে হবে। কারণ পুরুষ
খুবই ইন্টারেস্টিং বিষয়। মনস্তাত্তি¡ক জটিলতা নারীদের চেয়েও পুরুষের অনেক বেশি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদ চৌধুরী বলেন, আকিমুন রহমান শুধু নারী নয়, সমাজ, দেশ, মানুষ সম্পর্কে প্রাচীনকাল থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত লিখেছেন। তিনি নিছক বিনোদনের জন্য লেখেন না, চিন্তা ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে লেখেন। তিনি সুন্দর পৃথিবী নির্মাণের জন্য লিখে চলেছেন। নারীর প্রতি পুরুষের ধারণা বদলে দিতেও লিখে চলেছেন।
আকিমুন রহমানের শিক্ষক বেগম আকতার কামাল বলেন, আমার ছাত্রী বলে বলছি না, অনন্যা সাহিত্য পুরস্কারটি আকিমুনের প্রাপ্য ছিল। তিনি মনের খোরাক মেটাতে নয়, দায়িত্ব নিয়ে লেখেন। সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা থেকে লেখেন এবং সে লেখা ঝরঝরে এবং প্রাঞ্জল।
তাসমিমা হোসেন বলেন, নারীর অধিকার ছিনিয়ে আনতে হয়-এ বিষয়টি আকিমুন রহমানের লেখায় প্রমাণিত হয়েছে। তার লেখা ‘পুরুষের পৃথিবীতে একমাত্র মেয়ে’ পাঠ করে মনে হয়েছে, যেন নিজের জীবনের গল্প পড়ছি।
আয়োজকরা জানান, বাংলা ১৪০১ সন (১৯৯৩ সাল) থেকে অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে। প্রতি বছর একজন নারী সাহিত্যিককে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ পর্যন্ত যারা এই পুরস্কার পেয়েছেন তারা হলেন সেলিনা হোসেন, রিজিয়া রহমান, নীলিমা ইব্রাহিম, দিলারা হাশেম, রাবেয়া খাতুন, সনজীদা খাতুন, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম (মরণোত্তর), নূরজাহান বেগম, রাজিয়া খান, রুবী রহমান, পূরবী বসু, আনোয়ারা সৈয়দ হক, মকবুলা মনজুর, ঝর্ণাদাশ পুরকায়স্থ, সালেহা চৌধুরী, নূরজাহান বোস, মালেকা বেগম, কাজী রোজী, নিয়াজ জামান, জাহানারা নওশিন, সোনিয়া নিশাত আমিন, বেগম আকতার কামাল ও বেগম মুশতারী শফি।