সম্ভাবনা-প্রত্যাশার নতুন বছরকে স্বাগত

আগের সংবাদ

মোবাইল ইন্টারনেটের থ্রিজি-ফোরজি সেবা চালু

পরের সংবাদ

সুশাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, দুর্নীতি দমন

শেখ হাসিনার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০১৯ , ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০১৯ , ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ

অবকাঠামো উন্নয়ন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এখন স্বপ্ন নয়, সত্যি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার সুদৃঢ় নেতৃত্বে টানা দশ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আর এবার দায়িত্ব নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন তিনি। উন্নয়ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনীতিতে সাফল্যের পর এবার তার সামনে প্রধান চারটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছেÑ সুশাসন, গণতন্ত্রের শক্ত ভিত নির্মাণ, মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র ও সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বিশ^ দরবারে নতুন এক বাংলাদেশ তুলে ধরবেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতের ধারাবাহিকতায় এ চ্যালেঞ্জেও সফল শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে নিহত হওয়ার ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। সরকার গঠনের পরই ইতিহাসের কলঙ্ক মোচনের জন্য বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকাজ শুরু করেন শেখ হাসিনা। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেন। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় থেমে যায় উন্নয়নযাত্রা। এরপর ২০০৭ সালের তত্ত¡াবধায়ক সরকারের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তখন বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫-এর কাছাকাছি, ২০১৮ সালে এই প্রবৃদ্ধি ৮ ছুঁই ছুঁই। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ২০২১ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১০-এর ঘরে নিতে চান শেখ হাসিনা।
দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার শেষ করে ফাঁসি কার্যকর করেন। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজ শুরু করেন। কয়েকজন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর সাজাও কার্যকর করেন। এরপর জামায়াত-শিবিরের নাশকতা মোকাবেলা করে প্রধান বিরোধী জোটের বর্জনের পর ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা। এর এক বছর পর ২০১৫ সালে বিএনপি জোটের টানা তিন মাসের হরতাল-অবরোধ ঠেকিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অনেকটাই দুর্বল করে ফেলেন তিনি। কিন্তু বিপদ পিছু ছাড়েনি। শুরু হয় জঙ্গিগোষ্ঠীর আক্রমণ। ২০১৬ সালে গুলশান হামলার পর জঙ্গি দমনেও সাফল্য অর্জন করে বাংলাদেশ। এরপর কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতাহীন পরিবেশে দ্রুত এগিয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। শুরু হয় পদ্মা সেতুসহ জাতীয় উন্নয়নের মেগা প্রকল্পের কার্যক্রম। এগিয়ে যায় দেশ।
উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় সময়ের সীমানায় হাজির হয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। সামনে আসে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও সফল হন বহুমাত্রিক প্রজ্ঞার অধিকারী শেখ হাসিনা। আকস্মিকভাবে সংলাপে বিএনপিসহ নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসেন।
টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা’র নির্বাচনী ইশতেহার দিয়ে জনতার নিরঙ্কুশ সমর্থন অর্জন করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। গত রবিবার অনুষ্ঠিন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয় পায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এর মাধ্যমে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের রায় পান তিনি। টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীও হবেন। একই সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আগামী পাঁচ বছরের শাসনামলে বঙ্গবন্ধুকন্যার সামনে আসবে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি গ্রাম ও শহরের বিভেদ মোচানোর প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন। সারা দেশে টেকসই বিনিয়োগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের কথা বলেছেন। আর এসব নিশ্চিত করতে সুশাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। গত দশ বছরের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় এসব বিষয়েই জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছে আওয়ামী লীগ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জনগণের নিরাপত্তা বিধান ও সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনের শাসনের বিকল্প নেই। বর্তমানে ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ অর্থ, পেশিশক্তির প্রভাবে আইনের অপব্যবহার করছেন। দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। অনেক ক্ষেত্রে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না।
এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এসব বিষয় কঠিন হাতে দমন করতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলার দায়িত্ব শেখ হাসিনাকেই নিতে হবে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের পাশাপাশি সামাজিক উষ্ণায়ন ও নিজ দলের দক্ষিণমুখী যাত্রা রুখতে হবে তাকেই। বাঙালির হাজার বছরের মুক্তিসংগ্রামের দায়ভার তিনিই তো নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন। অবশ্য শেখ হাসিনাও চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পান না। ভয়হীনচিত্তে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তিনি হবেন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের নির্মাতা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়