বোরহানউদ্দিনে আমন ধানের বাম্পার ফলন

আগের সংবাদ

অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা হৃদয়বিদারক বললেন হাইকোর্ট

পরের সংবাদ

সিলেটে জামায়াতের দুই প্রার্থী : ছাড় দিতে নারাজ স্থানীয় বিএনপি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০১৮ , ২:১০ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০১৮ , ২:১০ অপরাহ্ণ

দেশে-বিদেশে নানা সমালোচনা সত্তে¡ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রায় ২৪ নেতার হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়েছে বিএনপি। এসব আসনে বিএনপি মহাসচিব স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র দেয়া হয়েছে, জামায়াত নেতাদের দেখানো হয়েছে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে। এর মধ্যে রয়েছে সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসন।
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে জামায়াতের প্রার্থী কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে দাবি করে ১৯৯১ এর পঞ্চম সংসদ নির্বাচন থেকেই এই আসনে নির্বাচন করেন তিনি। ২০০১ সাল থেকে জোটের হিসাবে এ আসনে জামায়াতকে ছাড় দিয়ে আসছে বিএনপি। তবে এবার আর ছাড় দিতে নারাজ সিলেটের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
নেতাকর্মীদের দাবি জামায়াতের নিজস্ব ভোট ব্যাংকের দাবি পুরোপুরি অযৌক্তিক। এই আসনে জামায়াতের কোনো ভোট নেই। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী মাওলানা ফরিদ উদ্দিন ভোট পেয়েছিলেন ১৫ হাজার ২০৭টি। ৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি পান ২৮ হাজার ১২০ ভোট। কিন্তু পাঁচ বছরের ব্যবধানে ২০০১ সালে জোটের প্রার্থী হয়ে ৭৭ হাজার ৭৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
বিএনপি থেকে মনোনীত প্রার্থী সাবেক ছাত্র নেতা মামুনুর রশিদ মামুন ভোরের কাগজকে বলেন, জামায়াতের প্রার্থীরা প্রতিবারই ভোট ব্যাংকের দোহাই দেন। কিন্তু নিকট অতীতে এমন কোনো কিছু দেখাতে পারেননি তারা। আদতে তাদের যা ভোট আছে তার সবই বিএনপির। বিগত উপজেলা নির্বাচনে তাদের প্রার্থী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেননি।
তিনি আরো বলেন, দলীয় হাই কমান্ড ধানের শীষ প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছেন। কিন্তু তৃণমূলের কর্মীরা চাইছেন দলীয় প্রার্থীর হাতেই উঠুক দলের প্রতীক। একই অবস্থা সিলেট-৬ আসনেও। সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানিবাজার দুই উপজেলা নিয়ে এ আসনটিতে জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমানকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তবে এই সিদ্ধান্ত সহজভাবে নেয়নি স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ১১ জন জনপ্রতিনিধি একসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করে জানান, তারা দলের বাইরে কাউকে ধানের শীষ প্রতীকে মেনে নেবেন না।
এই আসনটিতে জামায়াতের ভোটের অবস্থা আরো করুণ। ২০০১ সালে জোটগত নির্বাচনের সময়ও জামায়াত প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। ২০০৮ সালেও প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন জামায়াতের হাবিবুর রহমান। এবারও তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা।
এ ছাড়াও এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফয়সল আহমদ চৌধুরী। মনোনয়নের ব্যাপারে ফয়সল আহমদ চৌধুরী বলেন, গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার আসনটিতে জামায়াতের ভোট নেই। এই আসনে ধানের শীষের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। তৃণমূল নেতারা যেহেতু বহিরাগত কাউকে চাইছেন না তাই আমার বিশ্বাস এবার আর এ আসনে ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি আরো বলেন, যদি জামায়াতকে এই আসনে ছেড়ে দেয়া হয় তবে এ আসনটি বিএনপিকে হারাতে হতেও পারে।
সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, সিলেটের দুটি আসন আমাদের দেয়া জোটের সিদ্ধান্ত। এটা নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। সিলেট বিএনপির যারা বিরোধিতা করছেন এটা কদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, এখনো আমাদের কর্মীদের গ্রেপ্তার অব্যাহত আছে। আমরা কোনো নির্বাচনী কাজ করতে পারছি না। এ অবস্থায় জোটের ঐক্য ধরে রাখতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়