পার্বতী বাউলকে সম্মাননা দিল শিল্পকলা একাডেমি

আগের সংবাদ

ফুরফুরে মেজাজে কিশোররা

পরের সংবাদ

আ.লীগের লক্ষ্য হ্যাটট্রিক জয়, পুনরুদ্ধার চায় বিএনপি

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০১৮ , ৪:০৪ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৩১, ২০১৮ , ৪:০৪ অপরাহ্ণ

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনটি বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত থাকলেও চতুর্থবারের চেষ্টায় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে বিজয় হন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ মো. আব্দুল মান্নান। ২০১৪ সালে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর এবারো এই আসনে হ্যাটট্রিক জয় চায় আ.লীগ। অন্যদিকে ধানের শীষের বিজয়ের মাধ্যমে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চেষ্টা করছে বিএনপি।
সারিয়াকান্দি উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এবং সোনাতলা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৭ হাজার ৩১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬৩ জন আর মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৪৯ জন।

আগামী নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেনÑ বর্তমান এমপি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান ও সারিয়াকান্দি পৌরসভার মেয়র তরুণ আ.লীগ নেতা আলমগীর শাহী সুমন।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী জেলা কমিটির উপদেষ্টা শিল্পপতি মো. শোকরানা, জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির শিশুবিষয়ক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির এবং সারিয়াকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান হিরু মণ্ডল। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চাইছেন কেন্দ্রীয় দুই সদস্য অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলম ও জিএম বাবু মণ্ডল। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের প্রচেষ্টায় বগুড়ার সোনাতলা ও সারিয়াকান্দিতে গত ১০ বছরে ১ হাজার ৭৭৮ কোটি ৪৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। যে কারণে চরাঞ্চল বেষ্টিত আসনটিতে এবার নৌকার ভোট চাইতে বেগ পেতে হবে না বলে মনে করছেন তারা। এমপির স্ত্রী সাহাদারা মান্নান যিনি সারিয়াকান্দি উপজেলা আ.লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনিও এলাকায় জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে এখনো কোনো সিগন্যাল না পেলেও বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে নাশকতা মামলার আসামি সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান আহসানুল তৈয়ব জাকির মাঠে আসতে পারছেন না। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে বেশ এগিয়ে রয়েছেন জেলা বিএনপির শিশুবিষয়ক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন চৌধুরী। এ আসনটিতে মূলত আ.লীগ ও বিএনপির হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোনো দলই জোটের শরিকদের এ আসন ছেড়ে দেবে না বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট ১২২টি কেন্দ্রের ৬১১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে। এ জন্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগসহ নানা প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন সিরাজুল ইসলাম সুরুজ। এরপর ১৯৭৯ সালে বিএনপির এডভোকেট ওয়াজেদ হোসেন তরফদার, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির কর্নেল (অব.) আব্দুল মোমিন মণ্ডল, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির ডা. হাবিবুর রহমান এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে নির্বাচিত হন বিএনপির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী রফিকুল ইসলাম বিএনপির মনোনয়নে।

অন্যদিকে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হলেও ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মো. শোকরানাকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়