পদ্মা সেতু হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত হবে : প্রধানমন্ত্রী

আগের সংবাদ

ফের নাসার স্পেস অ্যাপস প্রতিযোগিতা

পরের সংবাদ

সাইবার নিরাপত্তা ব্যয় বাড়বে…

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০১৮ , ৩:১৬ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৮ , ৩:২৮ অপরাহ্ণ

সাম্প্রপ্রতিক বছরগুলোয় বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলার ঘটনা বেড়েছে। এসব ঘটনায় বিপুল পরিমাণ তথ্য বেহাত হয়েছে। এর ফলে তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। আগামী বছর দুই-তৃতীয়াংশ কোম্পানি তাদের বাজেটে নিরাপত্তা খাতে ব্যয় অন্তত ৫ শতাংশ বাড়াবে। ইওয়াই নামে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জরিপ প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

বিভিন্ন কোম্পানির কর্মকর্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতসংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৪০০ ব্যক্তির ওপর এই জরিপ পরিচালনা করেছে ইওয়াই। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিগুলো ক্লাউড কম্পিউটিং নিরাপদ রাখতে তাদের বরাদ্দ বাড়াচ্ছে। এছাড়া নেটওয়ার্ক নজরদারি করে এমন সফটওয়্যার খাতেও নিরাপত্তা ব্যয় বাড়বে।
ইওয়াইয়ের সহযোগী অংশীদার গেভিন কার্টরাইট বলেন, কোম্পানিগুলো এখন প্রশিক্ষণের পেছনে বেশি অর্থ ব্যয় করছে। কারণ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ক্লাউডনির্ভর হয়ে পড়েছে। এছাড়া সার্ভার নজরদারির জন্য আইটি কর্মী নিয়োগ দেয়ার কারণেও ব্যয় বাড়ছে।
ইওয়াই জানায়, কোম্পানির কাজে উদাসীন এমন কর্মী প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকির কারণগুলোর একটি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেস্টারের বিশ্লেষক জোসেফ ব্ল্যাকেনশিপ বলেন, সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বিষয়ে তাদের বেশি সংগ্রাম করতে হচ্ছে। সেটি হচ্ছে তাদের বিপুল পরিমাণ তথ্য।
চলতি বছরের মে মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তথ্য সুরক্ষা আইন জেনারেল ডাটা প্রটেকশন রেগুলেশন বা জিডিপিআর কার্যকর হয়েছে। এ আইনের ফলে যেসব কোম্পানি ইউরোপে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে, তারা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। কারণ জিডিপিআর অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি তাদের গ্রাহকদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে তাদের মোট বার্ষিক রাজস্বের ৪ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবে ইইউ কর্তৃপক্ষ। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ডিজিটাল নিরাপত্তা কোম্পানি জিমাল্টো চলতি সপ্তাহেই সাইবার নিরাপত্তা বিচ্যুতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বব্যাপী ৪৫০ কোটি তথ্যে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে, যা গত বছরের দ্বিগুণেরও বেশি।
স¤প্রতি ফেসবুকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে তাদের পাঁচ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের একটি ব্রিটিশ রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান তাদের ৮ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। এ সব তথ্য ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও ব্রেক্সিট গণভোটের কর্মপন্থা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়েছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ভারতে বিপুল পরিমাণ বায়োমেট্রিক তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। গত জানুয়ারিতে ট্রিবিউন নিউজ সার্ভিস এক প্রতিবেদনে জানায়, একটি অনলাইন সেবাদাতা কোম্পানি ভারতের আধার কার্ডের বেহাত হওয়া তথ্য বিক্রি করেছে।
জিমাল্টোর তথ্য সুরক্ষা বিভাগের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা জেসন হার্ট বলেন, যারা তথ্য ব্যবহার করছেন কিংবা এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছেন, তাদের সবারই উচিত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। বৃহৎ প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবাদাতা কোম্পানিগুলো সাইবার নিরাপত্তা খাতে বিপুল অংকের অর্থ ব্যয় করছে। প্রতি বছর তারা এ ব্যয় বাড়াচ্ছে। তবে এ বিনিয়োগের সুফল পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরও এসব প্রতিষ্ঠান সাইবার হামলার শিকার হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়