ব্লক মার্কেটে ৩৫ টি কোম্পানির লেনদেন

আগের সংবাদ

উইন্ডোজ টেনের আপডেট শুরু

পরের সংবাদ

গুগলের ব্যর্থ যত পণ্য ও সেবা

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০১৮ , ৩:১০ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৮ , ৩:১০ অপরাহ্ণ

সার্চ, ম্যাপ, অ্যান্ড্রয়েড সবগুলোতেই গুগল সফল। তবে প্রতিষ্ঠানটির বেশকিছু পণ্য সাময়িকভাবে ভোক্তাদের মাঝে সাড়া জাগালেও তা ক্ষণস্থায়ী ছিল। এক্ষেত্রে গুগল গ্লাসের কথা বলা যেতে পারে। বিশ্বকে পাল্টে দেয়ার ক্ষমতা ছিল পণ্যটির। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। গুগল বাজেরও একই দশা। সম্প্রতি গুগলের ব্যর্থ পণ্যের তালিকাভুক্ত হয়েছে ‘জিচ্যাট’। এবার সোস্যাল নেটওয়ার্কিং প্লাটফর্ম গুগল প্লাসের পাঁচ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য বেহাত হওয়ার পর স্থায়ীভাবে সেবাটি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

গুগল প্লাস
২০১১ সালে সোস্যাল নেটওয়ার্কিং প্লাটফর্মটি চালু করেছিল গুগল। সেবাটিকে জনপ্রিয় করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। জিমেইল অ্যাকাউন্ট খুললে গুগল প্লাসের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কিন্তু এতেও কোনো কাজ হয়নি। গত সোমবার প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চলতি বছরের মার্চে গুগল প্লাস থেকে থার্ডপার্টি ডেভেলপারদের কাছে পাঁচ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য প্রকাশ হয়। এ কারণে সেবাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিবৃতিতে গুগল প্লাসের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিয়েছে গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেট ইনকরপোরেশন।

গুগল আনসার
গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের মস্তিষ্কপ্রসূত সেবা ছিল ‘গুগল আনসার’। শুধু তাই নয়, এটি ছিল সার্চ জায়ান্টটির প্রথম প্রকল্প। সেবাটি চার বছরের বেশি সময় চালু ছিল। ২০০৬ সালে বিশ্বব্যাপী অসংখ্য গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেয়া বন্ধ করে দেয় গুগল আনসার।

লাইভলি
‘লাইভলি’ গুগলের ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড। বছরখানেক চলেছিল এ পণ্য। ২০০৮ সালে বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবহারকারী নতুন আঙ্গিকে তার বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইনে আড্ডার সুযোগ করে দেয়াই ছিল সেবাটির প্রধান উদ্দেশ্য।

গুগল বাজ

সামাজিক নেটওয়ার্কিং সেবা ‘গুগল বাজ’ ছিল জিমেইলের একটি অংশ। গুগল বাজে গোপনীয়তা সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় ২০১১ সালের অক্টোবরে পণ্যটি বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেয় গুগল। এর পরিবর্তে তখন ‘গুগল প্লাস’-এ গুরুত্ব দিতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ।

গুগল প্লে

অ্যান্ড্রয়েডের বিশেষ সংস্করণ ‘গুগল প্লে’ এর সঙ্গে ভক্তদের ২০১৪ সালের বসন্তে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল গুগল। কিন্তু ২০১৫ সালের জানুয়ারিতেই বন্ধ হয়ে যায় এটি।

গুগল ওয়েভ

‘গুগল ওয়েভ’ ডিজাইন করা হয়েছিল মেসেজ আদান-প্রদানের মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ রাখার সুযোগ দিতে। এর সাহায্যে একসঙ্গে কোনো নথি সম্পাদনাও করা যেত। কিন্তু ব্যবহার পদ্ধতি ছিল ভীষণ জটিল। তাই তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি গ্রাহক মহলে। ২০১০ সালের আগস্টে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে বছরখানেক চলেছিল সেবাটি।

গুগল ভিডিও

গুগলের নিজস্ব ভিডিও স্ট্রিমিং সেবা ছিল গুগল ভিডিও। তবে ২০০৬ সালে ইউটিউব অধিগ্রহণের পর সেবাটির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে সংশ্লিষ্টরা।
২০০৯ সালে সেবাটির জন্য নতুন ভিডিও আপলোড বন্ধ করে গুগল। সর্বশেষ ২০১২ সালে সেবাটি বন্ধ করা হয়েছিল।

নেক্সাস কিউ

গুগলের স্ট্রিমিং মিডিয়া প্লেয়ার ছিল ‘নেক্সাস কিউ’। এটি নকশা করা হয়েছিল বাসাবাড়ির সব ডিভাইস একই প্লাটফর্মে সংযুক্ত করতে। ২০১২ সালে ডেভেলপার সম্মেলনে ২৯৯ ডলার মূল্যের পণ্যটির বিস্তারিত তুলে ধরেছিল গুগল। তবে বাজারে আসার আগেই অজানা কারণে পণ্যটিকে বিদায় জানানো হয়েছিল।

গুগল এক্স

গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের বিকল্প ইন্টারফেস হিসেবে আনা হয়েছিল গুগল এক্স। ২০০৫ সালের মার্চে আকস্মিক সেবাটি বন্ধ করে দেয়া হয়। গুগল এক্স বন্ধের কারণ এখনো একটি রহস্য মনে করা হয়।

গুগল হেলথ

স্বাস্থ্যসচেতনদের সুস্থ থাকার তথ্যভাণ্ডরে প্রবেশের সুযোগ দিতে সেবা চালু করা হয়েছিল। বৃহৎ পরিসরে সাড়া ফেলতে না পারায় ২০১২ সালে চিরতরে গুগল হেলথ সেবাকে বিদায় জানানো হয়েছিল।

গুগল ক্যাটালগ

ইন্টারেক্টিভ শপিং প্রোগ্রাম ছিল গুগল ক্যাটালগ। ২০১৩ সালে এ অ্যাপের মোবাইল সংস্করণ বন্ধ করা হলেও ডেস্কটপ সংস্করণ বন্ধ করা হয়েছিল আরো দুই
বছর পর।

গুগল গ্লাস

২০১২ সালে ফ্যাশন সচেতনদের জন্য গুগল বাজারে আনে ‘গ্লাস’ নামে একটি পণ্য। এটি সাধারণের জন্য হয়ে উঠতে পারেনি কখনই। উচ্চমূল্যের গ্লাসে সফটওয়্যার জটিলতা, গোপনীয়তা-সংক্রান্ত সমস্যাও ছিল। ২০১৫ সালের জানুয়ারির পর বাজারে আর দেখা যায়নি গ্লাস। ধারণা করা হয়, অনেকটা নীরবে পণ্যটিকে বিদায় জানিয়েছে গুগল।

গুগল রিডার

সংবাদ পড়ার অ্যাপ ছিল গুগল রিডার। বিভিন্ন সাইট কিংবাস ব্লগ থেকে সংবাদ এ অ্যাপে স্টোর করা যেত এবং সুবিধামতো সময়ে পড়ার সুযোগ ছিল। ২০১৩ সালের মার্চে সেবাটি বন্ধের ঘোষণা দেয় গুগল। সর্বোপরি ২০১৩ সালের জুলাইয়ে এটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

গুগল হ্যাংআউটস অন এয়ার

গুগলের লাইভ স্ট্রিমিং সেবা ছিল এটি। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে সেবাটিকে ইউটিউব লাইভে যুক্ত করা হয়। ২০১২ সালে সেবাটি চালু করা হয়। অনলাইন লাইভ স্ট্রিমিং সে সময় সবেমাত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সেবাটি চালুর পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং পোপ ফ্রান্সিস এটি ব্যবহার করেছিলেন।

ডজবল

ব্যবহারকারী নিজের অবস্থান শনাক্ত করতে পারতেন সেবাটির মাধ্যমে। ২০০৫ সালে গুগল ডজবল অধিগ্রহণ করেছিল। সেবাটির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম একজন ডেনিস ক্রাউলি। ২০০৭ সালে তিনি গুগল ছাড়েন এবং এর প্রায় দুই বছর পর একই ধরনের সেবা ফোরস্কয়ার চালু করেন। ডজবল নিয়ে পরবর্তীতে আর কোনো পরিকল্পনা ছিল না গুগলের।

আইগুগল

২০১৩ সালে পারসোনালাইজড হোমপেজ সেবা আইগুগল বন্ধ করা হয়। ২০০৫ সালে চালু করা সেবাটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের ডিভাইসের হোমপেজ নিজেদের মতো করে সজ্জিত করতে পারতেন। গুগলের ভাষ্য, ক্রোম ব্রাউজার ও অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে আইগুগলের খুব বেশি প্রয়োজনীয়তা ছিল না।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়