কর্মজীবী নারীর ঘরে বাইরে চ্যালেঞ্জ

আগের সংবাদ

অজানা করণ

পরের সংবাদ

ধীরেই এগোতে চান আইভি

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১, ২০১৮ , ২:৫৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১, ২০১৮, ২:৫৪ অপরাহ্ণ

Avatar

জান্নাতুল ফেরদৌস আইভি। উদীয়মান এক চলচ্চিত্র নির্মাতা। চলচ্চিত্র নির্মাণ জগতে তার পদচারণা খুব বেশি দিনের নয়। কাজও করেছেন হাতে গোনা কয়েকটি। তবে ইতোমধ্যেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে তার ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্রের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। যা তাকে ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
আইভি চলচ্চিত্র নির্মাণ জগতে প্রবেশ করেন ২০১০ সালে একটি তথ্যচিত্র তৈরির মধ্য দিয়ে। আইভি বলেন, আমি প্রথম নির্মাণ করি একটি সাক্ষাৎকার ভিত্তিক ডকুমেন্টারি ফিল্ম। যেখানে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী নারীদের যে আন্দোলন সেই বিষয়ে কথা বলেছে প্রতিবন্ধী নারীদের অধিকার আন্দোলনের চারজন নেতা। এরপর ফিচার হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র ‘নীরবে’ নির্মাণ করি। নীরবে সেন্সর পায় ২০১২ সালে। এরপর ২০১৫ সালে একটি তথ্যচিত্রের চিত্রায়ন করেছিলাম তবে সেটির পোস্ট প্রডাকশনের কাজ শেষ হয়নি এখনো। বর্তমানে আমার ফিচার ফিল্ম ‘নক্ষত্র’-এর প্রি-প্রডাকশনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে আগুনের পোড়ার দুর্ঘটনার থেকে বেঁচে যাওয়া নারীদের ওপরে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের মূল গবেষণার কাজ চলছে।
চলচ্চিত্র নির্মাণে উৎসাহিত হলেন কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে আইভি বলেন, আমি নিজে আগুনে পুড়ে যাওয়ার দুর্ঘটনার শিকার। এই দুর্ঘটনায় আমার দুই হাতে এবং গলায় আংশিক প্রতিবন্ধিতা রয়েছে আমার। নিজের অভিজ্ঞতার কারণে আমি চলচ্চিত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশ নেয়ার বিভিন্ন দিক লক্ষ করতাম। তখন দেখেছি বিশ্বের প্রায় সব দেশের চলচ্চিত্রেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অভিনীত চরিত্রকে একটি হীন চরিত্র হিসেবে দেখানো হতো। এই ধারণা থেকেই আমার ইচ্ছা হয় যে, আমার নির্মিত চলচ্চিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। আর এই ইচ্ছা থেকে প্রথমে আমার নির্মিত ডকুমেন্টারিতে এবং তারপর আমার নির্মিত ফিচার চলচ্চিত্রে আমি প্রতিবন্ধী নারীর চরিত্রকে গুরুত্বের সঙ্গে রেখেছি। আমাদের দেশের প্রতিবন্ধী নারীদের মধ্য থেকে আমিই প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এ অভিজ্ঞতা আমার কাছে অনেক বড় অর্জন।
‘নীরবে’ চলচ্চিত্রটি এ পর্যন্ত চারটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। প্রথমে ২০১৩ সালের নভেম্বরে ফিনল্যান্ড কাইনেস্কিনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে, ২০১৬ সালে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে, ২০১৭ সালের নভেম্বরে নেপালে একাদেশমা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এবং একই মাসে ব্রাজিলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত প্রথম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নীরবে’ প্রদর্শিত হয়। এ ছাড়া দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে বেশ অনেকগুলো প্রদর্শনীতে ‘নীরবে’ প্রদর্শিত হয়।
‘নীরবে’ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, মূলত কর্মক্ষেত্রে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা বিষয়ক একটি গল্পের ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র। এই বিষয়বস্তুর কারণে আমি এ পর্যন্ত নারীদের তিনটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সম্মাননা অর্জন করেছি। আগামী ২০১৯ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এটিএন বাংলা চ্যানেলে ‘নীরবে’ দেখাবে বলে প্রাথমিকভাবে আমাকে জানিয়েছেন চ্যানেলটির উপদেষ্টা নওয়াজিশ আলী খান। এভাবে ধীরে ধীরেই আমি এগোতে চাই।
প্রদর্শনীতে নিজের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হলে কেমন লাগে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিজের একটি সৃষ্টি যখন কোথাও প্রদর্শিত হয় স্বাভাবিকভাবেই তা অনেক আনন্দের।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, দেশের ভেতরে যেসব চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা হয়, সেখানে দেশের নির্মাতাদের উৎসবের আয়োজকরা তেমন গুরুত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন না। এটি দুঃখজনক এবং সেই উৎসবের একটি দুর্বল দিক। আর যদি এমন হয় যে আমি একজন প্রতিবন্ধী নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা বলে আমাকে বিশেষভাবে কম মূল্যায়ন করা হবে আয়োজকরা এমন ভাবেন, তবে তা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক।
নারী প্রধান চরিত্র নিয়ে কেন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার ফিল্মের গল্পের প্রধান চরিত্রে রয়েছে নারী।তবে মিডিয়াতে এখন নারী প্রধান চরিত্রে চলচ্চিত্রকে কতটা গুরুত্ব দেয় তা ভাবার বিষয়। আমি এ বছর সরকারী অনুদানের জন্য আবেদন করেছিলাম। প্রাথমিক বাছাইয়ে থাকার পরও আমার আবেদনটি চূড়ান্ত বাছাই থেকে বাদ পড়ে যায়। আমার গল্পটি ছিল প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্রের গল্প। এমন গল্পকে বাছাই কমিটি বাদ দিয়েছেন জেনে আমি অনেক বেশি মর্মাহত হয়েছিলাম। তা ছাড়াও আমি আমাদের দেশের প্রতিবন্ধী নারীদের মধ্যে থেকে প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতা। আমার প্রতিবন্ধিতার জাতীয় পরিচয় পত্রের কপিসহ আমি অনুদানের প্রয়োজনীয় সব কাগজ জমা দেয়ার পরেও তার কোনো মূল্যায়ন করেনি অনুদান কমিটি। এসব দিকগুলো ভাবলে খুব কষ্ট হয়।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা