ভারত ২২৭ রানে ও শ্রীলঙ্কা ১০ উইকেটে জয়ী

আগের সংবাদ

কৃষির অগ্রগতি বনাম খাদ্য নিরাপত্তা

পরের সংবাদ

ফরিদুর রেজা সাগর ও চ্যানেল আই

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮ , ৮:৩৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ

Avatar

স্বপ্না রেজা

কলাম লেখক

একটি প্রতিষ্ঠানের দায় দেশের প্রতি থাকতে হয়, জনগণের কল্যাণে থাকতে হয়, তাহলে তার গ্রহণযোগ্যতা ও স্থায়িত্ব আসে। এই দেশের সর্বস্তরে একজন ফরিদুর রেজা সাগর ও তার চ্যানেল আইয়ের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা সেই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তারই ফলে চ্যানেলটির এই দীর্ঘ পথচলা। যখন কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি কোনো প্রসঙ্গে বলেন, ‘সাগরকে বলতে হবে কাজটি করার জন্য’, তখন ফরিদুর রেজা সাগর আর ব্যক্তি থাকেন না, ইনস্টিটিউটে পরিণত হন। যে ইনস্টিটিউট দেশের জন্য নিবেদিত।

দেশপ্রেম শব্দটা উচ্চারণ করা সহজ, ধারণ করা বেশ কঠিন। দেশপ্রেমের ধ্যানে থাকা আরো কঠিন। বিশেষ করে মিডিয়া জগতের ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে। সাধারণত আমরা যা দেখি, এমন একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে একজন ব্যক্তি হয়তো সফল ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন, ধনাঢ্য মিডিয়া ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। মিডিয়াকে ব্যবহার করে ধন-সম্পদ-প্রাচুর্যের মালিক হয়েছেন, আরো বেশি বেশি চাইছেন। কিন্তু তারা দেশপ্রেমিক নন, দেশপ্রেমিক হতে চান না। ফলে দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজেকে দৃশ্যমান করে রাখার তাগাদাও তাদের থাকে না। একজন দেশপ্রেমিকের অনেক দায় থাকে, দায়িত্ব থাকে। এই বোধ তার চেতনায়, সত্তায় মিশে থাকে। তিনি সেটা দ্বারাই সব সময় তাড়িত থাকেন, সক্রিয় থাকেন। এই গুণ একজন ব্যক্তির সবচাইতে মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ গুণ, জনকল্যাণকর এবং যা একজন ব্যক্তিকে শ্রেষ্ঠতা দেয়, একজন দায়িত্ববান দেশপ্রেমিকের মর্যাদা দেয়। ফরিদুর রেজা সাগর (সাগর ভাই), ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চ্যানেল আই, সেই শ্রেষ্ঠতা অর্জনকারী একজন ব্যক্তি। একজন পরিষ্কার সাদা ধবধবে দেশপ্রেমিক মানুষ। যার ভেতর মানবতা ও দেশপ্রেম স্তরে স্তরে সুসজ্জিত। যাকে একজন সফল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বলার চাইতে একজন সচেতন দেশপ্রেমিক বলতে আমার ভালো লাগে। এই ভালোলাগার, শ্রদ্ধার অনেক যৌক্তিকতাও রয়েছে।

পোশাক-আশাকে, চলনে-বলনে অতি সাধারণ অথচ অত্যধিক দেশপ্রেমিক, সংস্কৃতমনা এই মানুষটিকে জানি আশির দশকের শুরু থেকে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, পত্রপত্রিকায় লেখালেখি তার সবকিছুর ভেতরই যেন দেশকে ভালোবাসার নিখাদ বোধ এবং সেই বোধ তার নিজস্ব মিডিয়া সংস্থা চ্যানেল আই প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ অবধি একই ধারায়, একই উজ্জ্বলতায় আলোকিত। কখনোই তাকে আদর্শচ্যুত হতে দেখিনি। ব্যক্তি যা বিশ্বাস করেন, যা ধারণ করেন চেতনায়, তারই প্রকাশ থাকে তার কাজে। চ্যানেল আইয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পদক্ষেপ, ভূমিকা সেই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সাগর ভাই ও তার সুদক্ষ বাহিনী সেই সত্যকে নিয়েই এগিয়ে চলেছেন।

চ্যানেল আই ২০ বছরে পদার্পণ করেছে। আজ চ্যানেল আইয়ের জন্মদিন। কেন জানি আমার এমন ভাবতে ভালো লাগে আজ সাগর ভাই’রও জন্মদিন। ইলেকট্রনিক মিডিয়া জগতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চ্যানেল আই। বেসরকারি চ্যানেলের প্রতি আগ্রহ তৈরি করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করেছে। একটি কথা না বললেই নয়, বাংলাদেশের কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিল্পী সমাজকে একই সুতোয় বেঁধে পারস্পরিক মিলবন্ধনের কাজটি ফরিদুর রেজা সাগরের নেতৃত্বে চ্যানেল আই করেছে, করছে। বাংলাদেশে বেশ ক’টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল রয়েছে। আমার জানা নেই কখনো কেউ সেই কাজটি করেছেন কিনা। টিভি নেহাত একটি বিনোদন বাক্স, এমন এক মনমানসিকতার জগতে চ্যানেল আই ব্যতিক্রম। চ্যানেল আই শিল্প-সংস্কৃতির শেকড়ে নিয়মিত পরিচর্যার কাজ করছে। চ্যানেল আই জাতীয়তা ও দেশাত্মবোধের প্রশ্নে, বিভিন্ন উৎসব, আয়োজনে সবাইকে এক কাতারে এনে দাঁড় করিয়েছেন এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়েছেন। আমি খুব অবাক হয়ে দেখেছি, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা আছে এমন মানুষগুলোও কতটা সহজ, সরলে এসে মিশে গেছেন চ্যানেল আইতে এসে। চ্যানেল আইয়ের বড় কৃতিত্ব এটা, আমি মনে করি। এখানে কোনো বিভাজন দেখিনি। বিভক্তির পদচারণাও নেই। চ্যানেল আই যেন গোটা বাংলাদেশ। মেধা, জ্ঞান আর ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সমন্বয় চ্যানেল আইয়ের জন্মগত বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্দ্বিধায় স্বীকৃত হয়েছে সবার কাছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেখানেই কাজের সুবাদে, প্রয়োজনে গেছি প্রাসঙ্গিকভাবে চ্যানেলটির জনপ্রিয়তা দেখেছি। যদি বলি তা সম্ভব হয়েছে ফরিদুর রেজা সাগর ভাইয়ের অমায়িক, বিনয় সৌজন্য আর নিখাদ দেশপ্রেমের কারণেই।

চ্যানেল আই শুধুমাত্র একটি স্যাটেলাইট চ্যানেল হিসেবে কাজ করছে না। চ্যানেল আইয়ের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো শিল্পী সমাজকে সুস্থ, সুন্দর রাখার প্রত্যয়। যেন এই চ্যানেল সব শিল্পীর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছে। যখন কোনো শিল্পী অভাব, অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছেন, পাশে দাঁড়িয়েছে চ্যানেল আই। অন্যকেও পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে রক্ষা করার এই দায় ও দায়িত্ববোধ দৃশ্যমান হয়েছে। এই সংস্থাকে কখনো পাশ কাটিয়ে চলতে দেখিনি। দায় এড়াতে দেখিনি। একজন শিল্পীকে সহায়তার মধ্য দিয়ে যেন তারা গোটা শিল্প-সংস্কৃতির জগতকে রক্ষা করার কাজটি করে যাচ্ছেন। শুধু সহায়তা নয়, উপযুক্ত মর্যাদা, সম্মান ও স্বীকৃতিও প্রদান করছেন, করে আসছেন। আমার জানা নেই কোনো চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রুমের দরজা সব সময় খোলা থাকে কিনা। যতবার গেছি চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রুমের দরজা খোলা দেখেছি। সাক্ষাতের এই অবাধ সংস্কৃতি শিল্পী, কলাকুশলী ও পুরো টিমকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য অভিনব ও বিরল।

বাংলাদেশে উন্নয়নমূলক কাজ করছে এমন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সংখ্যা নেহাত কম নয়। উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত চ্যানেল আইও এবং তা নিজস্ব কৌশলে। আর্থিক সহায়তা প্রদান নয়, বরং আয়কর্মসংস্থানের আগের যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সচেতনতা বৃদ্ধি ও উদ্বুদ্ধকরণ, তেমন কাজে সম্পৃক্ত এই টিভি চ্যানেল। সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কৃষি, গ্রামীণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নিরলস কাজ করছে চ্যানেলটি। পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ ভাইয়ের নেতৃত্বে সেই অভাবনীয়, প্রশংসনীয় কাজ শুরু থেকে আজ অবধি চলমান। তেজগাঁর বাণিজ্যিক এলাকার চ্যানেল আই ভবনে বসে নয়, মাঠেঘাটে গিয়ে, একজন কৃষকের পাশে বসে তারা কৃষকদের উৎসাহিত করেন, সমস্যা শোনেন এবং সেই সব তথ্য উপস্থাপন করেন চ্যানেলের পর্দায় যেমন, তেমন নীতিনির্ধারণে জাতীয় পর্যায়েও। রীতিমতো যেন কৃষি উন্নয়নের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চ্যানেল আই।

একজন দর্শক হিসেবে আমার দৃষ্টিতে চ্যানেল আইয়ের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তার সব কর্মপরিকল্পনা আর আয়োজন। প্রতিটি অনুষ্ঠান নির্মাণে, সংবাদ পরিবেশনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তারা যেমন উদ্ভাসিত, আলোকিত থেকেছেন, ঠিক তেমনি নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আলোকিত করবার কাজটি করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে বিজয় উৎসব, স্বাধীনতা উৎসবের মতো আয়োজনও চ্যানেল আইয়ের পরিকল্পনায় দেখেছি। দেখেছি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী সম্মান পেয়েছেন এ সব আয়োজনে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উপস্থাপনের দায়িত্বও পালন করেছে। অন্যান্য চ্যানেলের সঙ্গে চ্যানেল আইয়ের মৌলিক পার্থক্য এখানেই। আমাদের মতো দর্শকের হৃদয়ে তাই চ্যানেল আই। বাংলা ভাষা, বাংলাদেশের কৃষ্টি, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির মান যেন ক্ষুণ্ণ, বিতর্কিত না হয়, চ্যানেল আইকে দেখেছি সচেতন থাকতে। এর ফলে চ্যানেলটির জনপ্রিয়তা প্রত্যক্ষ করেছি বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক প্রতিষ্ঠানে।

পরিশেষে বলি, একটি প্রতিষ্ঠানের দায় দেশের প্রতি থাকতে হয়, জনগণের কল্যাণে থাকতে হয়, তাহলে তার গ্রহণযোগ্যতা ও স্থায়িত্ব আসে। এই দেশের সর্বস্তরে একজন ফরিদুর রেজা সাগর ও তার চ্যানেল আইয়ের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা সেই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তারই ফলে চ্যানেলটির এই দীর্ঘ পথচলা। যখন কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি কোনো প্রসঙ্গে বলেন, ‘সাগরকে বলতে হবে কাজটি করার জন্য’, তখন ফরিদুর রেজা সাগর আর ব্যক্তি থাকেন না, ইনস্টিটিউটে পরিণত হন। যে ইনস্টিটিউট দেশের জন্য নিবেদিত।

স্বপ্না রেজা : কলাম লেখক।